Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১০ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

বিশ্বে পারমাণবিক শক্তিতে কেন সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পাকিস্তান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৪ মে, ২০২০, ৬:৫৬ পিএম

বিশ্বের জানা নয়টি পারমাণবিক শক্তির একটি হচ্ছে পাকিস্তান। দেশটি তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার ও ডকট্রিন ক্রমেই বিকশিত করছে। পাকিস্তান চায় ভূমি, আকাশ ও সমুদ্রে নিজস্ব পারমাণবিক ত্রয়ী হাসিল করতে।

ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বিচিত্র নিরাপত্তা সমস্যার মোকাবেলা করতে হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিকে। এ কারণে তারা চায় তার পারমাণবিক অস্ত্রগুলোকে প্রাণবন্ত ও পাল্টা হামলায় বিপুল ধ্বংসলীলা সাধনের উপযোগী করতে।

ভারতের সাথে সংঘাতের পরপরই ১৯৫০-এর দশক থেকে পাকিস্তানের পরমাণবিক কর্মসূচি শুরু। প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলি ভুট্টোর সেই ১৯৬৫ সালে করা বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করা যেতে পারে, ‘ভারত যদি এই বোমা বানায় তাহলে ঘাস খেয়ে, এমন কি না খেয়ে থেকে হলেও আমরা এটা বানাবো।’ ১৯৭১ সালের পর পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি নতুন গতি পায়। এক দিকে ভূখণ্ড হারানো, অন্যদিকে ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচির খবর পাকিস্তানকেও একই পথে ধাবিত করে। ১৯৭৪ সালে ভারত স্মাইলিং বুদ্ধ নামে তার প্রথম পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়, যা এই উপমহাদেমকে পারমাণবিকীকরণের পথে নিয়ে যায়।

১৯৭৫ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ডক্টর এ কিউ খান বিদেশ থেকে ফিরে এলে পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি বিপুল গতি লাভ করে। তিনি সেন্ট্রিফিউজ ডিজাইন ও জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক চুক্তিগুলো করেন। ইউরোপীয় দেশগুলো এতে সহায়তা করে। বোমা তৈরির কাজ ১৯৭৮ সালেই শেষ হয় এবং ১৯৮৩ সালে এর ‘কোল্ড টেস্ট’ করা হয়। এরপর ১৯৯৮ সালে ভারত যখন টানা তিন দিনে ছয়টি বিস্ফোরণ ঘটায় তখন পাকিস্তান পাল্টা জবাবে এক দিনে পাঁচটি ও তিন দিন পর আরেকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।

একটি বোমা তৈরিতে কতটুকু সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন হয় সেই বিবেচনায় মনে করা হয় ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের হাতে ৫ থেকে ২৫টি বোমা ছিলো। এখন সেই ভান্ডারে ১৩০ থেকে ১৪০টি বোমা রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড স্টিমসন সেন্টার বলেছিলো যে পাকিস্তান বছরে ১২টি পারমাণবিক বোমা বানানোর ক্ষমতা রাখে। সেই হিসেবে শিগগিরই দেশটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের অধিকারী হতে যাচ্ছে। অন্য বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, পাকিস্তান নিকট ভবিষ্যতে ৪০ থেকে ৫০টির বেশি বোমা বানাতে পারবে না।

পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে স্ট্রাটেজিক প্লানিং ডিভিশনের নিয়ন্ত্রণে এবং এগুলো মূলত পাঞ্জাব প্রদেশে রাখা। ডিভিশনের ১০ থেকে ১৫ হাজার সদস্য ও গোয়েন্দা বাহিনী বোমাগুলো পাহারা দিচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে পাকিস্তান বলছে শুধু শেষ মুহূর্তে সাংকেতিক নির্দেশনা দিয়েই এগুলো সক্রিয় করা যাবে।

পাকিস্তানের পারমাণবিক মতবাদ মূলত তার চেয়ে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে বহুগুণ শক্তিশালী ভারতকে লক্ষ্য করে প্রণীত। দুই দেশের মধ্যে চিরাচরিত শত্রুতা পারমাণবিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

ভারতের মতো পাকিস্তানের কোন ‘প্রথম আঘাত নয়’ মতবাদ নেই। প্রচলিত যুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর সুবিধা বাতিল করে দিতে পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষ করে স্বল্পমাত্রার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অধিকার রাখে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের পারমাণবিক ত্রয়ী হলো স্থল, জল ও আকাশ – এই তিন পথে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের ক্ষমতা। পাকিস্তান তার আমেরিকান এফ-১৬ বিমানগুলো সংস্কার করে পারমাণবিক অস্ত্র বহনের উপযোগী করেছে। ফ্রান্সের তৈরি জাগুয়ার ফাইটারেরও একই সক্ষমতা রয়েছে। স্থলভিত্তিক ডেলিভারি সিস্টেমে রয়েছে বেশ কয়েক ধরনের ক্ষেপনাস্ত্র। যেমন হাতফ। এই সিরিজে ৫টি ক্ষেপনাস্ত্র রয়েছে। এছাড়া আছে শাহিন ক্ষেপনাস্ত্র। সাগর থেকে ছোড়ার জন্য পাকিস্তান তৈরি করেছে বাবুর শ্রেনীর ক্রুজ মিসাইল। এর মধ্যে বাবুর-২ হলো সবচেয়ে আধুনিক ও নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম।

পাকিস্তান স্পষ্টতই এমন এক পারমাণবিক সক্ষতা গড়ে তুলেছে যেটা শুধু প্রতিরোধের কাজ করবে না, পারমাণবিক যুদ্ধও করা যাবে। পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র ভারতকে প্রচলিত যুদ্ধ শুরু করতে বাধা দিচ্ছে। এর মানে হলো এটা প্রতিরোধক হিসেবে কার্যকর। এরপরও দুই চিরশত্রুর মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। সূত্র: এসএএম।



 

Show all comments
  • ...mujib ১৪ মে, ২০২০, ১০:৩৬ পিএম says : 0
    Pakistan built atom bomb earlier than India did. In 1974, India detonated a purchased soviet-union atom bomb.
    Total Reply(1) Reply
    • elu mia ১৪ মে, ২০২০, ১১:১৫ পিএম says : 0
      Thats what i thought.indian atom bomb is inferior compared to pakistans.They admitted that.pakisthan built atom bomb first.
  • Ismail Khan ১৫ মে, ২০২০, ১২:২০ এএম says : 0
    Kire .. indian missile arsenal er chobi dia pakistan nam ...?
    Total Reply(0) Reply
  • Akash ১৫ মে, ২০২০, ১০:০৮ এএম says : 2
    We want to destroy Pakistan. We have many atomic bomb. 4/5 atomic research center are here. We will do war against Pakistan within 2030 . Pakistan is a part of India was we will regain it.
    Total Reply(1) Reply
    • Monjur Rashed ১৬ মে, ২০২০, ৩:৫৩ পিএম says : 0
      Stop dreaming in broad day-light. If India would have the capabilities to occupy Pakistan, they did it much before.
  • asif ১৫ মে, ২০২০, ১০:০৮ এএম says : 0
    মূর্খের দল এটা কেন বোঝোনা পাকিস্তান পরমাণু যুদ্ধ শুরু করলে ভারতের কিছুটা হয়তো ক্ষতি হবে কিন্তু পাকিস্তান ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ................ শুধু তাই নয় প্রতিবেশী দেশ গুলোতেও একে প্রভাব পড়বে .... পরমাণু বোমা না বানিয়ে এরা দেশের গরিব দের দিকে নজর দিক ..........
    Total Reply(3) Reply
    • Monjur Rashed ১৬ মে, ২০২০, ৩:৫৭ পিএম says : 0
      Toilet facilities in Pakistan is superior to India. More than 50 crore people in India live below poverty line who are deprived of toilet facilities ---- this figure is more than total population of Europe
    • Badrul Alam ১৭ মে, ২০২০, ৯:৪৮ পিএম says : 0
      Na, that is not true. Pakistan has big and strategic nuclear weapons. They can destroy an area of 6/7 sq.miles area (strategic atom bomb) as well as a big atom bombs (conventional size) 50 sq.miles. Those can be used from both air-plane as well as sub-marines and destroyer/frigate. So India will survive-that is not true. That is why India is not approaching war after so many provocations.
    • Shahin ১৮ মে, ২০২০, ১১:০০ এএম says : 0
      Mr.Asif you are a RAW agent in Bangladesh.
  • Maity..da ১৫ মে, ২০২০, ১১:৪১ এএম says : 0
    Are bhai sara world jane lndiar public jodi ... dey tahole pak puro bhese jabe.SAMJHA...
    Total Reply(0) Reply
  • jackali ১৫ মে, ২০২০, ১:২৫ পিএম says : 0
    Might is right, before we are the super power, when we deviated from Qur´an and Sunnah then our destruction started, we muslim unite under one banner Islam and we should set up industry including arms and ammunition factories so that we don´t need to depends upon Kafir. All the so called muslim country rule by Taghut/Murtard/Munafiq as such all the so called muslim country torturing muslim who want to be ruled by the law of Allah as such government arrest them or abduct them and they just disappear.
    Total Reply(0) Reply
  • amit ১৫ মে, ২০২০, ২:০২ পিএম says : 0
    পেছনে ভারতের অশোক স্তম্ভ দেখা যাচ্ছে ........... আর এটা ভারতের মিসাইল ক্যারিয়ার ট্রাক !!!!!!!!!
    Total Reply(0) Reply
  • সুলতান গাজি সালাহউদ্দিন আইয়ুবী ১৫ মে, ২০২০, ৪:৪১ পিএম says : 1
    ইনশাআল্লাহ,অচিরেই ..পৃথিবী নামক এই গ্রহের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ....দের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সম্মিলিত সামরিক বাহিনি ও পাকিস্তানি সম্মিলিত গোটা মুজাহিদ ফোর্সসহ গোটা মুসলিম বিশ্বের যৌথ মুজাহিদ বাহিনির মধ্যে সর্বশেষ ও চূড়ান্ত ভয়ংকরতম একটি যুদ্ধ গাযওয়াতুল হিন্দ বা গাযওয়া এ হিন্দ শুরু হবে,এবং এই যুদ্ধে গোটা বাংলা পাক ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যেকার আল্লাহ বিরোধী সকল নাস্তিক,মুনাফিক,মুরতাদ,কাফিরসহ সকল ..মুশরিক ...দের প্রত্যেককে আল্লাহর সৈনিক মুসলিম মুজাহিদগণ ধরে ধরে এক এক কোরে সবাইকেই ... কোরে ছাড়বে,সবাইকেই পায়ের নিচে পিষ্ঠ কোরে মারবে ইনশাআল্লাহ। ততদিন পর্যন্ত্য ইনডিয়ান মুশরিক ..রা কিছুদিন যতখুশি পারো ঘেউ ঘেউ কোরে নাও,খুব শীঘ্রই তোমাদের সকলকেই খুব শক্ত ভাবে পাকড়াও করা হবে ইনশাআল্লাহ।...খাওয়া বর্বর .. দল,আল্লাহর তৈরি ভয়ংকর থেকে ভয়ংকরতম হাবিয়া দোযখসহ সকল নরকেরই কলিজা পর্যন্ত্য জালিয়ে দেয়া উত্তপ্ত আগুনে আজীবন পুড়তে থাকার জন্যে এখন থেকেই তৈরি হতে থাকো,পাকিস্তার সাথে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার দিবা স্বপ্ন দেখোনা
    Total Reply(0) Reply
  • Bagchi da ১৫ মে, ২০২০, ৯:১০ এএম says : 0
    Badorer hate khonta dile ja hoi. Ar ekhon bhikkhe korchhe.Putul Pak PM eka eka kandchhe...chardik thekei bash khachhe nijederi bhai der kachh theke.
    Total Reply(0) Reply
  • Biswajit Aich ১৬ মে, ২০২০, ১১:১৫ এএম says : 1
    বুকারা ভারতের পরামাণু বম 600+ উপর ।তাই চীন ও ভয় ভারত এর সাথে যুধ্রো করতে । ভারত গলা ফাটিয়ে বলে না আমর এই আছে ঐ আছে ।ময়দানে আই দেখবি কি আছে ।
    Total Reply(3) Reply
    • dipen mandal ১৭ মে, ২০২০, ৮:১৮ পিএম says : 0
      often we become speechless while observing that a great number of persons in the name of religion carry such venom which has been expressed in the opinions . they need prolong psy chological treatment to come out from such religious imfatuation and histiria . we do not know when it will come true
    • Shahin ১৮ মে, ২০২০, ১১:০১ এএম says : 0
      We know you are a Indian Broker
    • saif ২০ মে, ২০২০, ১১:০৩ এএম says : 0
      বছরের শেরা কৌতুক
  • altaf ১৮ মে, ২০২০, ৩:৩৯ পিএম says : 0
    পাকিস্তানের সাফল্য চাই
    Total Reply(0) Reply
  • Md.Rashidul Haque ১৯ মে, ২০২০, ১১:১৮ এএম says : 0
    ভারত ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে এটি সময়ের ব্যাপার মাত্র।যুদ্ধে মুসলমানরা জয়ী হবে ইনশাল্লাহ।ভারত যত অস্ত্রই তৈরি করুক বা ক্রয় করুক তাদের শেষ রক্ষা হবে না।ভারতের উচিত কিভাবে নিজেদের রক্ষা করবে সেই চেষ্টা করা।মুশরিকদের মূর্তির সামনে মাথা নত করে বড় বড় কথা বলা থেকে তাদেরকে বিরত থাকতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Golam Azam ৩১ মে, ২০২০, ৬:০৮ পিএম says : 0
    Islam does not allow to kill other. Fighting to each other has no benefit. Allah has created us only to worship him ,not to kill each other. May Allah give us ability to love each other. Thank you
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পাকিস্তান


আরও
আরও পড়ুন