Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ২০ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

করোনা কথন

না স রী ন মি তা | প্রকাশের সময় : ১৫ মে, ২০২০, ১২:০৫ এএম

আল্লাহ সব খারাপেরই পেছনে কিছু ভালো ব্যবস্হা করে রাখেন।
তাই আমাদের মেনে নিতে হবে এই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শেষে আমাদের জন্য হয়ত কিছু ভাল সময়, ভাল কাজ অপেক্ষা করছে।

এখন আমরা সারাবিশ্বের মানুষ চরম খারাপ সময় পার করছি। পৃথিবীও যেন থমকে গিয়েছে আজ।যে দিকেই তাকাই, কান পাতি, শুধুই করোনা ভাইরাসের আক্রমণের কথা। মানুষের মৃত্যুর কথা।

এই খারাপ অবস্থার মধ্যে করোনা আক্রান্ত মানবসভ্যতার মধ্যেও কিছু ভাল দিকও চোখে পরছে।
যেমন লক ডাউনের কারণে পরিবেশ দূষণের মাত্রা অনেকাংশেই কমে এসেছে। আকাশের দৃশ্যমানতা অনেকটাই বেড়েছে। সমুদ্রে মানুষের চলাচল বন্ধ হওয়ার কারণে প্রাণীকূল সাচ্ছন্দবোধ করছে। তাই সমুদ্রে আবার ডলফিন সাঁতার কাটতে পারছে ।পরিযায়ী পাখিরা আবার আসছে ফিরে।প্রকৃতি আবার একটু শ্বাস নিতে পারছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ আজ প্রায় গৃহবন্দী জীবন যাপন করছে। কর্মব্যস্ততার কারণে বর্তমানে আমরা
পরিবারের মানুষদের সময় দেওয়াই যেন ভুলে গিয়েছিলাম।

নিজের কাজ নিয়ে সদা ব্যস্ততায় দিন কাটাতাম। এখন একটু হলেও কর্মব্যস্ততা কমেছে। বন্ধু বান্ধব,পাটি এসব নিয়ে যারা ব্যস্ত থাকতেন। পরিবারের
মানুষদের সময় দিতে ভুলে যাচ্ছিল, তারা একটু হলেও পরিবারের লোকজনদের সময় দিচ্ছে।
পুরাতন ডায়েরির পাতায় পাতায় যে ধূলো জমেছে, সময়ের অভাবে তা ঝারা মোছা হয়নি অনেক দিন।
এখন কিছুটা সময় হলেও পুরাতন ডায়েরির পাতাটা খুলে একটিবার চোখ বোলানো যাচ্ছে।।আলমারির ধুলো ঘেঁটে পুরাতন ভালো লাগার জামাকাপড় ও বই বের করে পড়া হচ্ছে।

বই, পেপার,পত্রিকা পড়ার অভ্যাসটাও হয়তো আবার গড়ে উঠবে।।মানুষে মানুষে মারামারি,
পারমানবিক বোমা, বিমানে চেপে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলাটাও কমবে অনেকাংশে। মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়াটা হয়তো সোজা, কিন্তু মানুষের জীবন বাঁচানোটা

অনেক কঠিন।। এখন অনেকেই এটা বুঝতে পারছে।
আত্মঘাতী জঙ্গিরাও আজ প্রাণের ভয়ে ডেরায় আছে ঢুকে। কাশ্মীর আজ সত্যিই শান্ত।
ঘুষখোর ভুরিওয়ালারা পুলিশও আজ পথে নেমে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হচ্ছে। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে।
এখন আর মানুষ ডাক্তার মারার কথা ভুলেও ভাবছে না। বরং ডাক্তারের সুস্থতা কামনা করছে।চুরি ডাকাতিও গেছে কমে। দেশের মানুষ এখন আর ভয় করছে না চুরি হওয়ার। নারীরাও আজ সুরক্ষিত বিপদ মুক্ত।
বিশ্ব আজ ধর্ষণ মুক্ত।

স্বামীরাও আজ গৃহে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। বৌদের পাশে থাকছে। কিছুটা হলেও সময় দিচ্ছে। বাড়ির কাজে হাত লাগাচ্ছে।
আজ ঘৃণার বদলে চারপাশে ভালোবাসা রাজ করছে।
আজ কেন যেন এই চেনা পৃথিবীটাকে বেশ অচেনা অজানা লাগছে..



 

Show all comments
  • Minhazul islam ৫ অক্টোবর, ২০২০, ১০:০৩ এএম says : 0
    দারুন লিখেছে।
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ ফিরোজ খান ৩১ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৫৯ পিএম says : 0
    করোনা বনাম বণ‍্যা মরার উপর খাড়ার ঘা।বিগত ৭ মাস থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে মহামারী করোনা ভাইরাস যার ভয়াবহ পরিণতির মোকাবেলা করে এখনও উঠে দাড়াতে পারেনি পৃথিবী।এর মধ্যে শুরু হয়েছে বণ‍্যা দেশের উত্তর এবং মধ্যাঞ্চল সহকারে সারাদেশে বিশাল এলাকা এখন বন্যা কবলিত। দেশের প্রায় ৩০ টি জেলার বিশাল এলাকাজুড়ে বন্যা চলছে। চারিদিকে কেবল পানি আর পানি। এ বন্যার কারণে অনেক অঞ্চলের অসহায়,গরিব মানুষদের জীবনে এখন সীমাহীন দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বন্যার পানিতে ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি,তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ, ভেসে গেছে পুকুরের মাছগবাদিপশু। মাঠের ফসল, ধান ক্ষেত আর তরিতরকারি সবই পানিতে ডুবে ধ্বংস হয়েছে। গোলার ধান, গোয়ালের গরু আর ছাগল সবই ক্ষতিগ্রস্ত এবং ভেসে গেছে বণ‍্যায়। ধ্বংস হয়েছে কয়েক শত পোল্ট্রি খামার। পানিতে ভেসে গেছে হাজারো হাঁস-মুরগি। বন্যার পানিতে হাজার হাজার মাটির ঘর ধসে পড়েছে। ধ্বংস হয়ে গেছে হাজার হাজার একর জমির ফসল। মাছের খামার সমুহ ডুবে যাবার কারণে ভেসে গেছে শত কোটি টাকার মাছ।একদিকে অসহায় মানুষের জীবন যাপন অতিষ্ট হয়ে গেছে করোনার জন্য যার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি এখন‌ও তার উপরে বণ‍্যায় দুরভিসন্ধি হয়ে পড়েছে মানুষের জনজীবন। পানিতে ভেসে গেছে হাজারো গবাধি পশু। রাস্তাঘাট, বসত বাড়ি, স্কুলের মাঠ সবই পানির নিচে। মসজিদ, মাদরাসা, মন্দির-গির্জা সবটার ভিতরেই পানি। বাড়ির বাইরেও পানি, ভেতরেও পানি। দাঁড়ানোর জন্য কোথাও একটু শুকনো জায়গা নেই। বসার এবং ঘুমানোর জন্যও কোথাও একটু জায়গা নেই। সব মিলিয়ে অনেক অঞ্চলের মানুষের জীবনে আজ বড়ই কষ্ট কাটছে এখনও অনেকেই কোনো ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পায়নি না খেয়ে অনাহারে দিন অতিবাহিত করছে হাজার হাজার পরিবার। মহিলা, বৃদ্ধা এবং শিশুদের জীবনে কাটছে অনেক কষ্টে।হতদরিদ্র পরিবার আরো আরো বেশি অসহায় হয়ে পরছে তাদেরকে কেউ একটু সাহায্য করতে পারছেনা। বন্যার পানিতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে মানুষের জীবন। সবদিকেই কেবল মানবতার হাহাকার। একদিকে মহামারী করোনা ভাইরাস অন‍্য দিকে বণ‍্যার পানির কারণে অনেক অঞ্চলের কয়েক হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে বন্ধ। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখাওরয়েছে অনেক দিন থেকে বন্ধ।বণ‍্যার কারণে খাবার পানির বড়ই অভাব দেখা দিয়েছে। সব নলকূপই পানির নিচে এবং পুকুরসমূহ ময়লা পানিতে ভরাট। রান্না করে খাবার তৈরির সুযোগ কোথাও নেই। শুকনো রুটি, বিস্কুট, মুড়ি আর চিড়া খেয়েই জীবন চালাতে হচ্ছে হাজার হাজার পরিবারের। এক কথায় করোনা অন্য দিকে ত্রাণের সাহায্যের ওপর নির্ভর করেই বেঁচে আছে হতদরিদ্রদের জীবন। এ অবস্থায় সব ভেদাভেদ ভুলে আজ আমাদেরকে দুর্গত মানুষদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। এখানে কোন ধরনের রাজনীতি নয়, সংকীর্ণতা এবং বিভেদ নয়। আসুন সব ভেদাভেদ ভুলে দুর্গতদের রক্ষায় এগিয়ে আসি। একদিকে করোনার জন্য ঘরবন্দি রয়েছে অনেক পরিবার অন্য দিকে বন্যার কারণে যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা বর্ণনাতীত। এসব ক্ষতি সহজে পূরণ হবার নয়। কিন্তু এখন প্রয়োজন করোনার জন্য যে সকল পরিবারের মধ্যে কোন ধরনের সাহায্য দেওয়া হয়নি সেই সকল পরিবার সহকারে বন্যাদুর্গত মানুষদেরকেও সর্বাত্মকভাবে সাহায্য করা অতি জরুরি হয়ে পরেছে। তারা যেন আবার সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য তাদেরকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করতে হবে আমাদের সকলের। বন্যার সময় সার্বিকভাবেই মানুষের জীবনে কষ্ট নেমে আসে। আবার বন্যার পানি নেমে যাবার পর ও অনেকদিন ধরে বন্যা কবলিত মানুষদেরকে সেই কষ্ট সহ্য করতে হয়। কারণ তখন মানুষ বিভিন্ন ধরনের রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে পানি বাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয় প্রবলভাবে। পুকুরসমূহ ময়লা পানিতে সয়লাব হয়ে যাওয়ায় ব্যবহারের পানিরও সংকট চলে। মানুষ ব্যাপক হারে ডায়রিয়ার  আক্রান্ত হয়। এ অবস্থায় বন্যার্ত মানুষদেরকে সাহায্য করাটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আসুন আমরা বন্যাদুর্গত মানুষদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই। সারা দেশের সার্মথ্যবান মানুষেরা যদি আজ এগিয়ে আসে তাহলে এই দুর্যোগকে মোকাবেলা করা কঠিন এবং অসম্ভব নয়। আমাদের সম্মিলিত প্রয়াসে এসব দুর্গত মানুষেরা অচিরেই তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে, একথা আমি দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করি। আসুন দুর্গত মানুষদের কাছে পৌঁছে দিই শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ। বন্যার কারণে যে মানুষটি আজ সর্বহারা তার প্রতি আসুন আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই। বন্যার কারণে যে মানুষটির ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, তাকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে আসুন মাথা গোজার ঠাঁই করে দিই। যে কৃষকের ফসল ধ্বংস হয়েছে আসুন নতুন করে কৃষিকাজের জন্য সেই কৃষকের পাশে দাঁড়াই। যারা গবাদিপশুকে হারিয়েছে, তাদের হাতে আবারো গবাদি পশু তুলে দিই। ক্ষতিগ্রস্ত পোল্ট্রি এবং মৎস্য চাষিদেরকে আবারো নতুন করে ব্যবসা শুরুর জন্য সহযোগিতা করতে হবে। যে ছাত্রটির বই খাতা নষ্ট হয়েছে সেই ছাত্রটির হাতে আসুন আমরা আবারো বই খাতা কলম তুলে দিই। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা যেন সহজে ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ নিয়ে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরায় চালু করতে পারে, সে জন্য ব্যাংকগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদেরকে বর্তমানে বিদ্যমান ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য সময় দিতে হবে। সেন্ট্রাল ব্যাংক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদেরকে সাহাযের জন্য ব্যাংকগুলোকে সহজ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। দেশের এক কোটি মানুষ যদি আজ প্রত্যেকেই মাত্র একশত টাকা করে দুর্গত মানুষদের জন্য দান করে তাহলে নিমিষেই জোগাড় হবে শত কোটি টাকা। আর যদি দান করে প্রত্যেকেই এক হাজার টাকা, তাহলে নিমিষেই জোগাড় হবে হাজার কোটি টাকা। সুতরাং এই উদ্যোগ আজ আমাদেরকে গ্রহণ করতে হবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পপতিসহ ধনী মানুষদের আজ দুর্গতদের জন্য অনেক কিছু করার আছে। যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব তা যদি আমরা দুর্গতদের সাহায্যে দান করি, তাহলে খুব সহজেই বিশাল একটি ত্রাণ তহবিল গড়ে ওঠবে। আর এই তহবিলকে যথাযথ ব্যবহার করে এইসব দুর্গত মানুষকে আবারো সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আনা যাবে। তাই এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আজ সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সেক্টরকে ও এগিয়ে আসতে হবে। দেশের মানুষের উপকার করার এখনই সময়। দেশের কর্পোরেট গ্রুপসমূহকে কর্পোরেট স্যোশাল রেসপন্সসিভিলিটির অংশ হিসাবে ত্রাণ কাজে এগিয়ে আসতে হবে। বিভিন্ন শিল্পগ্রুপ, বেসরকারি ব্যাংক, দৈনিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ত্রাণ তহবিল গঠন করতে হবে। তারা উদ্যোগ নিলেই তাদের সেই উদ্যোগে এদেশের মানুষেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করবে এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবেÑ এই বিশ্বাস আমাদের রয়েছে। আজ শুধু প্রয়োজন উদ্যোগের এবং প্রয়োজন উদ্যোক্তার। মনে রাখতে হবে, এটা জাতীয় সমস্যা। বন্যার কারণে যারা আজ সকল সহায় সম্পদ হারিয়ে বেঁচে আছে তারা সবাই আমার আপনার মতই একজন মানুষ। তারা প্রত্যেকেই আমাদের কারো না কারো পিতা-মাতা, কারো না কারো ভাইবোন অথবা কারো না কারো আত্মীয়। সর্বোপরি তারা মানুষ এবং আমাদের সমাজেরই অংশ। আজ ওরা বিপদগ্রস্ত। আগামীতে ওদের মতো আমরাও হতে পারি বিপদগ্রস্ত। আজকে ওদের যেমন প্রয়োজন আমাদের সাহায্য, তেমনি আগামীতে আমাদের প্রয়োজন হতে পারে ওদের সাহায্য। সুতরাং মানবতার স্বার্থেই আসুন তাদের পাশে দাঁড়াই।.... মোঃ ফিরোজ খান লেখক সাংবাদিক ঢাকা বাংলাদেশ
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনা

৬ ডিসেম্বর, ২০২০
৬ ডিসেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন