Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ২১ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

করোনা সারাচ্ছে ব্রাজিলের বনৌষধি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২১ মে, ২০২০, ১২:০৩ এএম

ল্যাব কোট এবং ফেস মাস্ক অঞ্চল থেকে বহুদূরে, অ্যামাজন নদীর ধারে ব্রাজিলের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পালক এবং পাতার মুকুট পরা উপজাতিরা করোনভাইরাসের চিকিৎসার জন্য প্রতিষেধকের বিকল্প হিসেবে ওষধি গাছের ব্যবহার শুরু করেছেন। অ্যামাজনীয় উপজাতিরা জানিয়েছে যে, গাছের ছাল এবং মধু থেকে তৈরি ঐতিহ্যবাহী নিরাময় করোনাভাইরাস কাটিয়ে উঠতে তাদের সহায়তা করেছে।ব্রাজিলের অ্যামাজন রাজ্যের রাজধানী মানাউস থেকে সুদূরে অবস্থিত একটি ছোট্ট গ্রাম থেকে আগত উপজাতি নেতা আন্ড্রে সাতেরে মাওয়ে বলেন, ‘আমাদের পূর্বসূরীরা যেভাবে আমাদের শিখিয়েছেন, আমরা ঐতিহ্যবাহী ওষুধ দিয়ে আমাদের লক্ষণগুলি চিকিৎসা করছি।’ সাতেরে মাউয়ের করোনাভাইরাস প্রতিকারের মধ্যে রয়েছে প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্যযুক্ত কারাপানাউবা গাছের ছাল, ম্যালেরিয়াল বিরোধী সারাকুরামিরা গাছ থেকে তৈরি চা এবং আমের খোসা, পুদিনা ও মধুর মতো উপাদান। যেসব গ্রামবাসী সন্দেহ করেন যে, তারা নতুন করোনাভাইরাস নিয়ে এসেছেন, তারা জানান যে, ঐতিহ্যবাহী প্রতিকারগুলি কাজ করে। ভালদা ফেরেইরা দে সুজা নামে ৩৫ বছর বয়সী একজন আদিবাসী কারিগর বলেন, ‘আমি দুর্বল বোধ করছিলাম, মনে হচ্ছিল আমার ফুসফুসে কিছু আছে, আমি শ্বাস নিতে পারছিলাম না। আমি একটি ঘরে তৈরি সিরাপ নিয়েছি, যা আমাকে অনেক বেশি সুস্থতা বোধ করতে সাহায্য করেছে।’ ৪০ বছর বয়সী রোসিভেন পেরেইরা দে সিলভা আন্ড্রে সাতেরে মাওয়েকে এই ওষুধিগুলি প্রস্তুত করতে সহায়তা করেন। তিনি তার দাদা মার্কোসের কাছ থেকে কৌশলগুলি শিখেছিলেন, যিনি ৯৩ বছর বয়সে এখনো তাকে শেখাচ্ছেন যা জানেন। আন্দ্রে সাতেরে মাওয়ের গোষ্ঠী এবং অন্যান্যরা সাম্প্রতিক দশকগুলিতে মানাউসের আরো কাছাকাছি চলে এসেছেন। তবে, এমন নয় যে তারা শহরের স্বাস্থ্যের পরিষেবাগুলিতে নির্ভর করে না। তিনি বলেন, ‘কারা পরিষেবা পাবে এবং কারা পাবে না, তাদের বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং আমরা তা পাই না।’ মাওয়ে আরো বলেন, ‘তবে আমরা নিজেদের যতœ নিতে শিখেছি।’ করোনা মহামারী অ্যামাজনের হাসপাতালগুলিকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে এবং কর্তৃপক্ষকে মৃতদের জন্য গণকবর খনন করতে বাধ্য করেছে। ব্রাজিলিয়ান ইন্ডিজেনিয়াস পিপলস’ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে, ভাইরাসটি ৪০টি আদিবাসী গোষ্ঠীকে সংক্রমিত করেছে। তাদের মধ্যে ৫শ’ ৩৭ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে এবং ১শ’ ২ জন মারা গেছে। ২ লাখ ৬২ হাজার ৫শ’ ৪৫ সংক্রমণ এবং ১৭ হাজার ৫শ’ ৯ মৃত্যুসহ ব্রাজিল এখন বিশ্¦ের ৪র্থ সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমিত দেশ। দেশটি বিগত ৭২ ঘণ্টায় মোট সংক্রমণের তালিকায় থাকা ব্রিটেন, এবং ইতালিকে ছাড়িয়ে গেছে এবং কেবল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও স্পেনের পেছনে অবস্থান করছে। সূত্র : ডেইলি মেইল।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ব্রাজিল


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ