Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৪ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ৪৮৬ জন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ মে, ২০২০, ২:৪৬ পিএম | আপডেট : ৩:২৯ পিএম, ২৩ মে, ২০২০

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৫২-এ। একই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৭৩ জন। যা একদিনে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ শনাক্ত। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩২ হাজার ৭৮জনে।

আজ শনিবার (২৩ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনন্দিন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি ৪৭টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্তে আরও ৯ হাজার ৯৭৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের কিছু মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয় ১০ হাজার ৮৩৪টি। এ পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৭৫ জনের। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ১৮৭৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ হাজার ৭৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ২০ জন। এদের মধ্যে ১৬ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী। মৃত্যুর বয়স ভিত্তিক বিশ্লেষণে তাদের মধ্যে দুইজনের বয়স ২১-৩০ বছরের মধ্যে, তিনজনের বয়স ৩১-৪০ বছরের মধ্যে, তিনজনের বয়স ৪১-৫০ বছরের মধ্যে, আটজনের বয়স ৫১-৬০ বছরের মধ্যে, তিনজনের বয়স ৬১-৭০ বছরের মধ্যে এবং একজনের বয়স ৭১-৮০ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে ১৫ জন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। চারজন বাড়িতে এবং ১ জন মৃত্যু অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৫২ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২৯২ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ৪৮৬ জন। সুস্থতার হার ২০ দশমিক ২২।

বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় কোয়ারেন্টাইন নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৩২২ জনকে। এই সময়ে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৮৮ জন। বর্তমানে কোয়ারান্টিনে আছেন ৫৫হাজার ১৫৭ জন। একই সঙ্গে ২৪ ঘন্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ২৮৬ জনকে। এ সময় ছাড় পেয়েছেন ৪১ জন। এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৬৯ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৪ হাজার ৩০৫ জন

দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬২৬টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেয়া যাবে ৩১ হাজার ৮৪০ জনকে।

দেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ২৪ জনের। সেটা ২২ মে´র বুলেটিনে জানানো হয়। আর সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড ছিল এক হাজার ৭৭৩ জনের। ওই তথ্যও জানানো হয় গত ২১ মে´র বুলেটিনে।

এছাড়া গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা শুরু করে। ৮ মার্চ দেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়।

এদিকে দেশে গত ২৮ এপ্রিল করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৫৪৯ জন। এরপর ২৯ এপ্রিল ৬৪১ জন, ৩০ এপ্রিল ৫৬৪ জন, ১ মে ৫৭১ জন, ২রা মে ৫৫২ জন, ৩রা মে ৬৬৫ জন, ৪ঠা মে ৬৮৮, ৫ মে ৭৮৬ জন, ৬ মে ৭৯০ জন, ৭ মে ৭০৬জন, ৮ মে ৭০৯ জন এবং ৯ মে ৬৩৬ জন, ১০ মে ৮৮৭ জন, ১১ মে ১০৩৪ জন, ১২ মে ৯৬৯, ১৩ মে ১ হাজার ১৬২ জন, ১৪ মে ১০৪১, ১৫ মে ১২০২, ১৬ মে ৯৩০, ১৭ মে ১২৭৩, ১৮ মে ১৬০২, ১৯ মে ১২৫১ জন ও ২০ মে ১৬১৭, ২১ মে ১৭৭৩ ও ২২ মে ১৬৯৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হলেও এখন করোনাভাইরাসের কবলে গোটা বিশ্বই। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ