Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

মুশফিকের তৃপ্তি, মুশফিকের আক্ষেপ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গর্বের ১৫ বছর

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ মে, ২০২০, ৫:৫০ পিএম

২০০৫ সালের ২৬ মে। ক্রিকেটের তীর্থ লর্ডসের মতো মঞ্চে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল সদ্য কৈশোর পেরুনো মুশফিকুর রহিমের। ধাপে ধাপে সেই কৈশোর পেরুনো সম্ভাবনার আলো এখন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অন্যতম মূল স্তম্ভ। আজ সেই ২৬ মে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৫ বছর পূর্তি হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটে সফল এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটম্যানের।

দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসা মুশফিক ঝলক দেখালেও শুরুতেই দারুণ কিছু করতে পারেননি। কিন্তু ক্রমাগত তার ক্যারিয়ারের গ্রাফ চড়েছে উপরের দিকে। প্রথম পাঁচ বছরকে ছাপিয়ে গেছেন পরের পাঁচ বছর দিয়ে, সর্বশেষ পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতা দিয়ে ছাপিয়ে গেছেন আগের সব কিছুকে। এই সময়ে মুশফিকুর রহিম ছাড়া বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার কল্পনা করাই মুশকিল। বিশেষ এই দিন উপলক্ষে ভক্ত-সমর্থকদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাজির হয়েছিলেন মুশফিক, জানিয়েছেন নিজের তৃপ্তি আর অতৃপ্তির কথা। 

মুশফিকের তৃপ্তি

‘বাংলাদেশের মতো জায়গায় তিনটা ফরম্যাট মিলিয়ে অলমোস্ট ১৫ বছর খেলেছি। এটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ততটা সহজ না। কারণ আপনি যদি দেখেন,  খুব বেশি কিন্তু কেউ নাই যে এত বছর খেলেছে। হয়তবা আগে ছিল, কিন্তু আগে আমাদের খুব কম খেলা ছিল। আর এখন দেখেন আন্তর্জাতিক বাদ দিলেও বছরে ঘরোয়া বিপিএল, জাতীয় লিগ , বিসিএল সব মিলিয়ে কিন্তু আমাদের ৯-১০ মাস বিরামহীন ক্রিকেট থাকে। এতদিন ফিটনেস রাখা, মেন্টেন করা, ফর্ম ধরে রাখা সব মিলিয়ে আমি মনে করি আলহামুদুলিল্লাহ।’

মুশফিকের আক্ষেপ

‘আর আফসোস যদি বলেন, মানুষের ধরণই এমন যত পায়, তত চায়।  আমার যদি হাজার কোটি টাকাও থাকে তাহলে মনে হবে আমার যদি আরও থাকত তাহলে ভাল হত। যার মোটামুটি আছে সেও মনে করবে আমার একটা গাড়ি আছে, আরেকটা যদি থাকত। গত ৬-৭ বছরে যা করতে পেরেছে সেটাতে একটু হলেও তৃপ্তি আছে। কিন্তু শুরুটা যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে হয়নি।’

‘২০১২ থেকে আমি যেভাবে কনভার্ট করেছি এই জায়গাটা তৃপ্তি আছে। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম সেটার ফল এখন এসে পাচ্ছি। আশা থাকবে এই ধারাবাহিকতা যদি আমি ধরে রাখতে পারি তাহলে আশা করছি ক্যারিয়ার শেষে বলতে পারব আমি প্রত্যাশার চেয়ে খুশি।’

কোন ঘটনা সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে

‘কষ্টের জায়গা কয়েকটা আছে আসলে। ১৫ বছর তো, অনেক উঠানামা ছিল। খারাপ লাগার কথা যদি বলি আমি জাতীয় দলে একবার বাদ পড়েছিলাম সম্ভবত ২০০৯ সালে। ওটা আমার জন্য শিক্ষণীয় সময় ছিল। তখন আমার একটা উপলব্ধি হয়েছিল যে নিজেকে আরও এগিয়ে নিতে হবে, অনেক জায়গা আছে আরও অনেক উন্নতি করতে হবে। আরেকটা ছিল এশিয়া কাপে আমরা ফাইনালে ২ রানে হেরেছিলাম (পাকিস্তানের কাছে)। অধিনায়ক হিসেবে আমার প্রথম এতবড় টুর্নামেন্ট ছিল।'

সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে যা

‘আনন্দের ঘটনা বললে, প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি এটা আমার কাছে অনেক বড় একটা তৃপ্তি ছিল। শুধু আমার জন্য না। আমি মনে করি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের জন্য অনেক বড় পাওয়া ছিল। বাংলাদেশের কেউ যে টেস্টে ২০০ তার বেশি করতে পারে এই বিশ্বাসটা দরকার ছিল। আর অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডকে হারালাম এটা অনেক তৃপ্তি ছিল। শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারালাম। শ্রীলঙ্কার মাঠে কিন্তু রেয়ার, অন্যান্য দলের জন্যও অনেক রেয়ার জেতা। এই কয়েকটা বলতে পারেন আমার ক্যারিয়ারে মাইলফলকের মতই ছিল।’

পরিসংখ্যানের আলোয় মুশফিক

৭০ টেস্টে ৩৬.৭৭ অড়ে ৪ হাজার ১৩ রান, ৭ সেঞ্চুরি, ২১ ফিফটি। একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিক তিনি। ২১৭ ওয়ানডেতে ৩৬.৩১ গড়ে ৬ হাজার ১৭৪ রান, ৩৮ ফিফটির সঙ্গে ৭ সেঞ্চুরি। ৮৬ টি-টোয়েন্টিতে ১২০.০৩ স্ট্রাইকরেটে ১২৮২ রান।

প্রথম ৫ বছরে টেস্ট খেলেছেন ২১টা-  রান ১১০০, গড়- ২৮.৯৪

পরের ৫ বছর টেস্ট খেলেছেন ২৪টা, রান- ১৪৫৫, গড় - ৩৫.৪৮

শেষ ৫ বছরে টেস্ট খেলেছেন- ২৫টা, রান-১৮৫৮, গড়- ৪৫.৩১

ওয়ানডেতে প্রথম ৪ বছরে- ৭৬ ম্যাচ, ১৩১৯ রান, ২৩.১৪ গড়

গত ১০ বছরে- ১৪২ ম্যাচ, ৪৮৫৫ রান, ৪২.৯৬ গড়, ৭ সেঞ্চুরি

গত ৫ বছরে- ৬৯ ম্যাচ, ২৫০৩ রান, ৪৭.২২ গড়, ৪ সেঞ্চুরি



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট


আরও
আরও পড়ুন