Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

ইউনাইটেডের করোনা ইউনিটে ৯টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র মেয়াদোর্ত্তীণ

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি পেলে ব্যবস্থা: মেয়র আতিক

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৮ মে, ২০২০, ২:২৪ পিএম

ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটের বেশিরভাগ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রই মেয়াদোর্ত্তীণ ছিলো বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দল। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে, ইউনাইটেড হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে ঢাকা উত্তরের মেয়র জানান, আগুনের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ঘটনা অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে ফায়ার সার্ভিস। সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে কমিটি।

রাজধানীর গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে বর্ধিতাংশের করোনা ইউনিটে আগুনে নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে আগুনের কারণ অনুসন্ধানে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিআইডির তদন্ত দল।

সিআইডির ক্রাইম সিন ইন্সপেক্টর শহীদুল ইসলাম বলেন, এখনো বলা যাচ্ছে না কোন সূত্রের ভিত্তিতে আগুন লেগেছে। ইলেক্ট্রিক শর্ট সার্কিট বা কেমিক্যাল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে কারণ এখানে প্রচুর পরিমানে কেমিক্যাল আছে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রগুলোর বেশিরভাগ অকেজো থাকার পাশাপাশি ভেতরে প্রচুর দাহ্য পদার্থ ছিল। প্রাথমিক অগ্নি নির্বাপনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি এবং বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে এসিগুলো নেগেটিভ প্রেশারে ছিল।


ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর দেবাশীষ বর্ধন বলেন, যেহেতু তারা করোনা রোগী রাখার জন্য আলাদা আইসোলেশন করতে সরকারিভাবে নির্দেশনা পেয়েছেন, করার জন্যই করেছেন আরকি। এটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। যে পাঁচজন মারা গেছেন তারা সানসেটের ঠিক নিচে ছিলেন। আর বাইরে একটা এক্সটেনশন আছে টিনশেডের।

তিনি বলেন, ‘অস্থায়ীভাবে তৈরি ওই ইউনিটের পার্টিশনগুলো পার্টেক্সজাতীয়, যা অতিদাহ্য। আগুন যখন লেগেছে তাৎক্ষণিকভাবে একসঙ্গে পুরোটায় লেগে গেছে। এ কারণে একটা রোগীও বের হতে পারেনি। তাছাড়া, করোনা রোগীর আশপাশে সাধারণত কেউ থাকেন না। ওখানে ওই পাঁচজন রোগীই চিকিৎসাধীন ছিলেন। যখনই আগুন লেগছে তখন তারা আর বের হতে পারেনি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, হয়তো ইলেক্ট্রিক কোনো কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য বর্ধিত আইসোলেশন সেন্টারে ১১টি অগ্নিনির্বাপকের ৯টিরই মেয়াদ ছিল না। হাসপাতালে ফায়ার হাইড্রেন্ট থাকলেও তা কে পরিচালনা করবে তার নির্ধারিত দায়িত্ব ছিল না।

তিনি বলেন, হাসপাতালের নিজস্ব ফায়ার ফাইটার টিম থাকলে এ দুর্ঘটনা হতো না। তারপরও যারা ছিল তারা করোনা রোগীর ভয়ে ভেতরে যায়নি। এখানে ১১টি অগ্নিনির্বাপকের মধ্যে ৯টি মেয়াদোত্তীর্ণ পেয়েছি। হাসপাতালের মূল ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জামের কী অবস্থা জানি না। তবে যেসব হাসপাতাল এখন থেকে এরকম এক্সটেনশন করবেন, তারা যেন অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টি খেয়াল রাখেন।
তদন্ত সাপেক্ষে অগ্নিকাণ্ডে ইউনাইটেড হাসপাতালের গাফিলতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান মেয়র।

এরআগে সকালে আগুনে নিহতের ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয় গুলশান থানায়। করোনা ইউনিটে নিহত পাঁচজনের তিনজনই ছিল করোনা রোগী। এ কারণে চারজনকে এরইমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করা হয়েছে। আরেকজনের মরদেহ নেয়া হয়েছে চট্টগ্রামে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ