Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

সেনাদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ শি’র হংকংয়ের সুরক্ষা আইন অনুমোদন

পুলিশে সয়লাব হংকং, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৯ মে, ২০২০, ১২:১৪ এএম

হংকংয়ের নতুন জাতীয় সুরক্ষা আইন কার্যকর করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন চীনা আইন প্রণেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে তোয়াক্কা না করে এটা করা হলো। স¤প্রতি তিনি এ আইনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। বৃহস্পতিবার চীনের আইনসভা দ্য ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস বেইজিংয়ের বার্ষিক অধিবেশনে খসড়া সিদ্ধান্তটির (আইন) অনুমোদন দিয়েছে। হংকংয়ের বেইজিং-সমর্থিত প্রশাসনের ঘোষণার আগে (বিভ্রান্তি, বিচ্ছিন্নতা, সন্ত্রাসবাদ এবং বৈদেশিক হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ সংক্রান্ত) আইনটির বিবরণ বাছাই করতে কয়েক মাস সময় নিতে পারেন চীনা কর্মকর্তারা। আধা-স্বায়ত্তশাসিত শহরটির (হংকং) স্থানীয় আইনসভা পরিষদকে পাশ কাটিয়ে নেয়া এই পদক্ষেপটি হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী নেতাকর্মী এবং বিরোধী রাজনীতিকদের হতাশ করেছে। বøুমবার্গের খবরে এ কথা বলা হয়। অপরদিকে হংকংয়ের রাস্তায় বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশে সয়লাব। সেনাবাহিনীকে সংঘাতের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রাজধানী বেইজিংয়ে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ও পিপলস আর্মড পুলিশ ফোর্সেসের সব স্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ নির্দেশ দেন চীনের প্রেসিডেন্ট, দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এ খবর জানিয়েছে। অপরদিকে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বেইজিংয়ের এমন উদ্যোগ অসন্তোষজনক। তিনি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওদিকে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম বলেছেন, চীনের প্রস্তাবিত আইন হংকংয়ের স্বাধীনতার কোনো খর্ব হবে না। এ নিয়ে অন্য দেশের মাথা গলানোর কোনো অধিকার নেই। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঘোষণা দিয়েছেন, সশস্ত্র সংঘর্ষের জন্য অবশ্যই সেনাবাহিনীকে তার প্রস্তুতি বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি এমন ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘন্টা পরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই জোরালো হুঁশিয়ারি দেন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হংকংয়ের নাম উল্লেখ না করেই সেনাবাহিনীকে সশস্ত্র সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। হংকংয়ে গ্যারিসনে থাকা পিপলস লিবারেশন আর্মির কমান্ডার একদিন আগে বলেছেন, তার সেনারা ওই শহরে চীনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত এবং জাতীয় নিরাপত্তা আইনকে সমর্থন করে। এখানে মোট সেনা সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। সেনা কমান্ডারের এমন মন্তব্যের একদিন পরেই প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ওই মন্তব্য করেন। বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করতে এরই মধ্যে রাস্তায় রাস্তায় মোতায়েন করা হয়েছে অসংখ্য পুলিশ। এমন অবস্থায় হংকং ইস্যুতে চীনের বিরুদ্ধে কোনো অবরোধ দিতে যাচ্ছেন কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, আমরা কিছু একটা করছি। আমি মনে করি আপনারা দেখবেন এটা খুব আকর্ষণীয়। কিন্তু এটা নিয়ে আজই আমি কথা বলবো না। তিনি বলেননি অবরোধ দিতে যাচ্ছেন নাকি ওই শহরের জন্য বিশেষ বাণিজ্য সুবিধায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন। তবে প্রেস সেক্রেটারি কিলি ম্যাকইনানি বলেছেন, যদি চীন হংকংকে তাদের দখলে নিয়ে নেয় তাহলে কিভাবে তা অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র থাকে তা প্রত্যক্ষ করা খুব কঠিন হবে। চীনের এমন উদ্যোগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুব অসন্তুষ্ট। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, বিস্তারিত এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ প্রকাশ করা হতে পারে। প্রস্তাবিত ওই আইনের ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে ৪ঠা জুন। তবে গত সপ্তাহ থেকে বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ করে চীনের ঘোষিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে গত রোববার হংকংয়ের রাজপথে নেমে পড়েন হাজার হাজর মানুষ। তাদেরকে মোকাবিলা করতে মোতায়েন করা হয়েছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য। হংকংয়ের বেশির ভাগ মানুষ, ব্যবসায়ী গ্রæপ এবং পশ্চিমারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, চীনের প্রস্তাবিত এসব আইন বা বিল চাপিয়ে দেয়া হলে তাতে হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসনের ইতি ঘটবে। বিশেষ করে চীনের নিরাপত্তা বিষয়ক এজেন্টদেরকে হংকংয়ের ভিতরে কাজ করতে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ নিয়ে বড় রকমের উদ্বেগ রয়েছে। আশঙ্কা করা হয়, যারাই বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে ভিন্ন মত পোষণ করবে তাদের বিরুদ্ধেই দমনপীড়ন চালানো হবে। ওদিকে ফক্স নিউজ চ্যানেলকে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ল্যারি কুডলো বলেছেন, বেইজিংয়ের কর্মকাÐ অত্যন্ত বিরক্তিকর। তিনি ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে আলাদাভাবে বলেছেন, খোলামেলা বলছি চীন বড় একটা ভুল করছে। তিনি বলেন, হংকং বা ম‚ল চীনা ভ‚খন্ডে যদি কোনো মার্কিন কোম্পানি থাকে তাহলে তা প্রত্যাহার করে আনা উচিত ওয়াশিংটনের। প্রত্যাহার করা উচিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা। সিনহুয়া,রয়টার্স, ফক্স নিউজ।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হংকং


আরও
আরও পড়ুন