Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ সঙ্কটে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে

প্রকাশের সময় : ২৫ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

১৫ দিন যাবৎ দেয়া হচ্ছে প্যারাসিটামল
বাসাইল (টাঙ্গাইল) উপজেলা সংবাদদাতা

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১৫ দিন যাবৎ রোগীদের দেয়া হচ্ছে শুধু প্যারাসিটামল। এতে করে প্রতিদিন অন্তত দুইশ রোগীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জানা যায়, উপজেলা হাসপাতালটির নামমাত্র চিকিৎসা সেবা চললেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে হাসপাতাল থেকে রোগীরা ওষুধ না পাওয়ায়। বিভিন্ন অসুখের জন্য চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ শরীর ব্যথা, কান পচা, ডাইরিয়া, পেটে সমস্যাসহ সর্বরোগের চিকিৎসার জন্য শুধু দেয়া হচ্ছে প্যারাসিটালম, আইরন ট্যাবলেট, এন্টাসিড। অন্যান্য সকল চিকিৎসার ব্যাবস্থাপত্র লিখে দেয়া হচ্ছে এবং বাজারের ওষুধের দোকান থেকে কেনার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগিদের আসতে-যেতে প্রায় ৫০/৬০ টাকা লেগে যায়, আর সব রোগের চিকিৎসার জন্য দিচ্ছে ৭/৮ টাকা মূল্যের এক পাতা প্যারাসিটামল। সব রোগের একই ওষুধ দেয়ায় আর দামী দামী ওষুধের ব্যবস্থাপত্র লিখে দেয়ায় রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে জানা যায়। উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের নাকাছিম গ্রাম থেকে ওষুধ নিতে আসা মোর্শেদা আক্তার বলেন, আমার হাতে প্রচুর ব্যাথা, এ কারণে হাসপাতালে এসেছিলাম। হাসপাতাল থেকে শুধু প্যারাসিটামল দিয়েছে আর ডাক্তার আরও কয়েকটি ওষুধের ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়েছেন। উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের আদাজান গ্রাম থেকে চোখে ব্যথা নিয়ে আসা হাজিরা বেগমের সাথে কথা বলেও প্যারাসিটামল ও ব্যবস্থাপত্রের তথ্য পাওয়া যায়।
বাসাইল পৌর শহর থেকে আসা তুলি আক্তারের ভাগে পড়েছে আইরন ট্যাবলেট। ডাক্তারের দেয়া ব্যবস্থাপত্র হাতে নিয়ে তিনি প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, প্রায় ১৫ দিন যাবৎ হাসপাতালে প্যারাসিটামল, আইরন ট্যাবলেট ও এন্টাসিড ছাড়া অন্য কোন ওষুধ নেই। মূলত স্টোর কিপারের গাফিলতির কারণেই ওষুধের সংকট পড়েছে বলে তিনি মনে করেন। ওষুধ সংকটের বিষয়ে হাসপাতালের স্টোর কিপার সোহেল রানা বলেন, স্টোর রুমে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ওষুধ আনা যাচ্ছে না। তবে রোববার (২৪ জুলাই) ওষুধ আনার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শেফালী খাতুন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বর্ষার পানিতে কয়েকটি গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিক পানিতে ডুবে যাওয়াতে সেখানকার ওষুধ হাসপাতালের স্টোর রুমে রাখা হয়েছে। এ জন্য নতুন অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত ওষুধ এখনো আনা হয়নি। আর এ কারণেই ওষুধের সংকট পড়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ