Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

করোনা সঙ্কটেও স্বস্তি যোগাচ্ছে রেমিট্যান্স

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ জুন, ২০২০, ২:২৩ এএম

বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। রফতানি খাতে খরা। মন্দা অবস্থায় অর্থনীতি। এ সঙ্কটময় পরিস্থিতিতেও দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি দিচ্ছে প্রবাসীদের আয় (রেমিট্যান্স)। মে মাসের ২৮ দিনে দেশে ১৩৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (বিনিময় হার ৮৫ টাকা ধরে) যার পরিমাণ ১১ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। রোববার (৩১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাভাইরাস রোধে লকডাউনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা অনেক প্রবাসীর আয় বন্ধ হয়ে যায়। আবার অচলাবস্থার কারণে অনেকে দেশে টাকা পাঠাতে পারেননি। এসব কারণে গত দুই মাস রেমিট্যান্স কমেছে। তবে ধীরে ধীরে এখন বিশ্ব পরিস্থিতি উন্নত হচ্ছে। অনেক দেশ স্বাভাবিক হয়েছে। চালু হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। তাই ঈদের মাসে প্রিয়জন ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য ধার-দেনা করে হলেও রেমিট্যান্স পাঠায় প্রবাসীরা। যার ফলে মাহামারিতে কোণঠাসায় থাকা অর্থনীতিতে স্বস্তি দিচ্ছে রেমিট্যান্স।

ঈদের আগে প্রতি বছরই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে। গত বছরের ঈদের আগে মে মাসে ১৭৪ কোটি ৮২ লাখ ডলারের রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল প্রবাসীরা। এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে কিছুটা হোঁচট খেয়েছে। তবে চলতি মাসে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ তার আগের দুই মাসের (মার্চ ও এপ্রিল) চেয়ে বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসের ২৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা তার আগের মাস এপ্রিলের চেয়ে প্রায় ২৫ কোটি ডলার বেশি। এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছিল ১০৮ কোটি ৬৪ লাখ ডলার, যা গত ৩০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ৮৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

চলতি বছরের মার্চ মাসে ১২৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা গত বছরের মার্চের চেয়ে সাড়ে ১২ শতাংশ কম। গত বছরের মার্চে রেমিট্যান্স আসে ১৪৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার।

এদিকে রেমিট্যান্সে সরকার ঘোষিত ২ শতাংশ প্রণোদনা প্রবাসীরা যেন সহজে পান সে জন্য বেশকিছু শর্ত শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতদিন দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত রেমিট্যান্সের প্রণোদনায় কোনো ধরনের কাগজপত্র লাগতো না। এর আওতা বাড়ানো হয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে প্রবাসীদের পাঠানো পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার বা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত রেমিট্যান্সে বিনা শর্তে কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই প্রণোদনার অর্থ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকার ওপরে কাগজপত্র জমা দেয়ার সময় বাড়ানো হয়েছে। এতদিন প্রণোদনা পেতে হলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রাপক ওঠানোর ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হতো। এখন তা বাড়িয়ে দুই মাস করা হয়েছে। জানা গেছে, এতদিন দেড় লাখ টাকার নিচে পাঠানো অর্থের বিপরীতে রেমিট্যান্সের নগদ প্রণোদনা পাওয়ার জন্য কোনো কাগজপত্র লাগতো না। তবে দেড় লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্সের নগদ প্রণোদনা পাওয়ার জন্য রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংকের শাখায় পাসপোর্টের কপি এবং বিদেশি নিয়োগদাতার দেয়া নিয়োগপত্রের কপি জমা দিতে হয়। রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ব্যক্তি ব্যবসায় নিয়োজিত হলে ব্যবসার লাইসেন্স দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আহরণে রেকর্ড হয়। ওই সময়ে প্রবাসীরা এক হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে, যা অর্থবছর হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ।

এদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সংস্থার ঋণের কারণে রফতানি মন্দার মধ্যেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২০ মে পর্যন্ত রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৩২০ কোটি টাকা (৩৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার)।



 

Show all comments
  • Mohammed Shah Alam Khan ১ জুন, ২০২০, ১০:১৪ পিএম says : 0
    বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রবাসীদের পাঠানো ডলারের কারনে সরকার উপকৃত এটা বার বার ফুটে উঠছে। সাথে সাথে সরকারও প্রবাসীদের বেশী বেশী রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্যে সরকার ঘোষিত ২ শতাংশ প্রণোদনা প্রবাসীরা যেন সহজে পান সেব্যাবস্থা করেছে। আমি কিছুদিন পূর্বে এই ইনকিলাব পত্রিকায় লিখেছিলাম আমি গত এপ্রিল মাসে ইস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে ডলার পাঠিয়ে প্রণোদনা পাইনি। এমনকি আমার লোক পুনরায় ব্যাংকে গিয়েও প্রণোদনার টাকা পায়নি। এবার মে মাসে আমার লোক জানতে পারে বিশেষ একটি ব্যাংক শুধু প্রণোদনার টাক দিয়ে থাকে তাই সে সেই ব্যাংকে গিয়ে ডালারের সমমূল্যের টাকা উত্তলন করলে প্রণোদনা পায়। এভাবে প্রণোদনা দিলে অবশ্যই আমরা আমাদের কষ্টার্জিত ডলারা আমাদের রেখে আসা আত্মীয়স্বজনদের জন্যে পাঠাবো নিশ্চয়। একবার যদি সরকার ভালভাবে বিবেচনা করেন তাহলে আমরা যারা আমেরিকা বা কানাডা সহ বিভিন্ন দেশে স্থায়ী বাসিন্দা হবার মর্যাদা পেয়েছি আমরা আমাদের নিকট আত্মীয় মানে আমাদের মা, বাবা ভাইবোনদেরকেও এদেশে স্থায়ী বাসিন্দা করে এনে সরকারের উপকার করেছি। পরবর্তীতে আমরা দেশে গিয়ে বিয়ে করছি বোনদের বিয়ে দিচ্ছি সেই সুবাদে আবার সেই সব পরিবারকে নিয়ে আসছি এতে সরকারের কত উপকার হচ্ছে সেটাও সরকারের ভেবে দেখা দরকার। আর আমরা প্রবাসীরা যখনই কোন সম্পদ দেশে আমাদের কষ্টার্জিত ডালার নিয়ে করে থাকি সেটাও দেশের লোকজন জবর দখল করে নেয় আর এলাকার লোকজন আমাদেরকে বলে ‘আল্লাহ্‌ আপনাকে দিয়েছেন ক্ষমা করে দিন’। থানায় গেলে এলাকার লোকজনদের মত করেই তারাও একই কথা বলে এবং তাদের কাছে যাওর খেসারত হিসাবে আমাদের পকেটাও খালি হয়। সেজন্যে আমাদের অনেকে আবার পুঁজি বাজারে টাকা খাটায় সেখানেও আমরা প্রবাসীরা বঞ্চিত হই। যেহেতু আমরা দেশে বার বার যেয়ে থাকি সেহেতু আমরা চাই দেশে আমাদের কিছু সম্পদ বা ব্যাবসা থাকুক। সরকারের উচিৎ এদিকে নজর দেয়া, অবশ্য সরকার প্রবাসী মন্ত্রণালয় করেছেন তারা কি উপকার করে সেটা আমরা জনতে পারিনা কারন আমারা যখনই দেশে যাই আমাদের হাঁতে তেমন সময় থাকেনা তাই তাদের কাছে বার বার ধন্যা দেয়ার সময়ও পাইনা ফলে সেখান থেকেও উপকার আমাদের কাছে আসেনা। এখন সরকার যদি তাদের প্রবাসী মন্ত্রণালয়ে ভাল মানুষ নিয়োগ দিয়ে সঠিক ভাবে কাজ করায় তাহলে প্রবাসীরা প্রচুর পয়সা দেশে বিনিয়োগ করতে পারে এটাও সত্য। কারন আমরা দেশ ছেড়ে চলে এসেছি সত্য কিন্তু আমাদের জ্ঞান বুদ্ধি অর্জিত হয়েছে দেশে সাথে সাথে আমাদের শিশুকাল, কিশোরকাল, যৌবনকাল কেটেছে বাংলাদেশে সেই স্বাদ আমরা ভুলতে পারিনা তাই আমরা আমাদের জীবন সঙ্গীও দেশে থেকেই আনি এবং সেভাবেই দেশীয় কায়দায় খাবার থেকে শুরু করে সবকিছুই এই বিদেশে জীবন যাপন করে থাকি। পরিশেষে আমি এই ইনকিলাব পত্রিকার মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করবো তিনি যেন আমাদের রেখে আসা সম্পদ (উত্তরা, বনানীতে) যাতে দেশের রিয়েল এস্টেট কম্পানীরা এলাকার মাদবরদের (আওয়ামী লীগ নেতা) সহায়তায় দখল করে বাড়ী উত্তলন করে নিয়ে অর্ধেক ফেলে রেখে দেয় আমাদের জন্যে। এটা সঠিক নয় পরবর্তীতে আমরা গেলে বলা হয় আপনার অর্ধেকতো আছেই... এভাবে রিয়েল এস্টেটের মালিকরা আমাদের সম্পদ আত্মসাৎ করছে এখানে থানাও এলাকার সমিতির সাথে জড়িত থাকে যে জন্যে প্রবাসীরা কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনা অন্যায় মেনে নেয়। ফলে অন্যান্য প্রবাসীরা দেশে সম্পদ করতে অনিহা প্রকাশ করেন। মহান আল্লাহ্‌র দরবারে প্রার্থনা তিনি যেন নেত্রী হাসিনাকে প্রবাসীদের দুঃখ দূর করার জন্যে ক্ষমতা প্রদান করেন। আমিন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন