Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

অনাদর-অবহেলায় চলে গেলেন নজরুল গবেষক ও সাংবাদিক শেখ দরবার

আলম শাহেদ নুর | প্রকাশের সময় : ১ জুন, ২০২০, ৬:২৯ পিএম

অনাদর-অবহেলায় চলে গেলেন প্রখ্যাত নজরুল গবেষক ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সাবেক সহকারী সম্পাদক শেখ দরবার আলম। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার রাজধানীর রাশমনো হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে একদিন সিসিইউতে রাখা হলেও মুমূর্ষ অবস্থায়ই তাকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয় নাই। পরে হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে যাওয়া হলেও তাকে ভর্তি করা হয় নি। - দৈনিক সংবাদ।

জানা যায়, বুধবার রাতে শেখ দরবার আলমের হার্ট অ্যাটাক হয়। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখান থেকে জানানো হয় যে, তার মেজর অ্যাটাক হয়েছে। তাই দ্রুত তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট অথবা হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন তারা। বৃহস্পতিবার হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিইউতে ভর্তি করা হলেও শুক্রবার সকালেই তাকে সেখান থেকে বের করে ওয়ার্ডে রাখা হয়। কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, এখানে তার চেয়ে খারাপ রোগী আছে, তাই তাকে ওয়ার্ডে রাখতে হবে। সেখানে তার অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলেও চিকিৎসক বা কোন ধরনের চিকিৎসার দেখা মেলে নি। ফলে বাধ্য হয়ে রিলিজ নিয়ে শনিবার হার্ট ফাউন্ডেশনে নেয়া হলে সেখানকার কর্তৃপক্ষ করোনা পরীক্ষা ছাড়া তাকে ভর্তি করতে রাজি হয় নি। পরে মগবাজারস্থ রাশমনি হাসপাতালে নেয়ার পর পরই তিনি ইন্তেকাল করেন।

দরবার আলমের মেয়ে ফারহানা রহমান জানান, বাবাকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হার্ট ফাউন্ডেশনে ডাক্তারের পায়ে পর্যন্ত পড়েছি। এরপরেও তাদের মন গলাতে পরি নি। হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিইউ থেকে নির্দয়ভাবে তাকে বের করে দেয়া হয়। হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করে নি। তাদের কাছে অনেক কাকুতি মিনতি করেছি, কিন্তু তাদের পাষাণ হৃদয়ে একটুও মায়া হয় নি।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে শেখ দরবার আলমের লেখা বইগুলোর মধ্যে রয়েছে, অজানা নজরুল, নজরুলের নানান দিক, নজরুলের অসুস্থতা ও চিকিৎসা, নজরুল চর্চা : জাতীয়তাবাদ এবং একজাতিতত্ত্ব, নজরুল জীবন ও পালিত কন্যার স্মৃতিকথা, নবযুগ ও নজরুলের জীবনের শেষ পর্যায়।

জানা যায়, প্রখ্যাত এই সাংবাদিক ও নজরুল গবেষক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চরম অর্থকষ্টে ছিলেন।

অনাদর-অবহেলায় এই গুনী মানুষের মৃত্যুতে শোকের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক, গবেষক, কলামিস্টসহ বিভিন্ন মহলের মানুষ।

কলামিস্ট আরিফুল হক তার ফেইসবুকে লিখেন, কোন কথা না বলে, একরাশ অভিমান বুকে নিয়ে, এই পৃথিবীকে চিরবিদায় জানিয়ে চলে গেলেন নিবেদিত প্রাণ নজরুল গবেষক শেখ দরবার আলম। কাকপক্ষীও টের পেলো না তাঁর নীরব প্রস্থান। দূরে থেকে আমারও জানার উপায় ছিলো না যে নজরুল গবেষনার অত্যুজ্জ্বল এ প্রদীপ সহসা নিভে গেছে। নজরুল একাডেমির শ্রদ্ধেয় সম্পাদক জনাব মিন্টু রহমানের সৌজন্যে সংবাদটি জেনে মর্মাহত হলাম। মর্মাহত হলাম আরও একটি কারণে যে, বাংলাদেশের কোন মিডিয়া বা কোন সংবাদপত্র, একটি বাক্য উচ্চারণ বা একটি লাইন লেখার মতও উদারতা দেখাতে পারেনি- এই মহান গবেষকের মৃত্যু সংবাদটি পরিবেশনের জন্য। ......
জানি না কে ভাগ্যহত! এই দেশ, না দেশের বুদ্ধিবৃত্তি বিকাশের দায়িত্বে নিয়োজিত মিডিয়া, নাকি শেখ দরবার আলম দের মত নিবেদিত প্রাণ গবেষক। তবে শেখ দরবার আলমের মত মেধা সম্পন্ন কোন মৌলিক গবেষক এই ‘কাট এন্ড পেস্ট ‘ গবেষকের দেশে যে আর জন্মাবে না এ ব্যাপারে আমি সুনিশ্চিত!
কবি নজরুল ইসলামকে কেউ দ্রোহের কবি বলেছেন, কেউ সাম্যাবাদের কবি করে একপাশে ঠেলে দিয়েছেন, কেউ আবার ধর্মনিরপেক্ষতার উত্তরীয় গলায় জড়িয়ে তাকে জাতিচ্যূত করে ছেড়েছেন। শেখ দরবার আলমই একমাত্র গবেষক যিনি তাঁর ‘অজানা নজরুল’ গবেষণা গ্রন্থের মাধ্যমে প্রকৃত নজরুল ইসলামের জাতীয় পরিচয় আমাদের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। নইলে নজরুল আমাদের সামনে আজও খন্ড বিখন্ড অজানা নজরুল হয়েই থেকে যেতেন!
কবি নজরুলের অসুস্থতাকে যৌনরোগ আখ্যায়িত করে নজরুল বিরোধীরা কবির চরিত্র হননের চেষ্টা করেছে। সেখানেও শেখ দরবার আলমের প্রতিবাদি কলম সত্যকে প্রতিষ্ঠা করে লিখেছেন ‘নজরুলের অসুস্থতা ও চিকিৎসা’!
এইভাবে, যেখানেই নজরুল বিরোধীদের নজরুলবিদ্বেষ, কুৎসা, নিন্দা, সেখানেই দরবার আলমের প্রতিবাদি শানিত কলম। নজরুলগত প্রাণ এই মানুষটা সারাটা জীবন উজাড় করে নিজেকে ঢেলে দিয়েছ নজরুল সেবার কাজে। পরিশেষে পেয়েছে দুঃখু মিয়ার মত দুঃখের জীবন। বাড়ীঘর নেই, সঞ্চয় বলতে একটা বলপেন। দিন আনি দিন খাই মজুরের জীবন। ঠগবাজ, ধড়িবাজ প্রকাশকরা লেখার পয়সাও ঠিক মত দেয় নি। সম্বল ছিল পত্রিকা অফিসের চাকরি, সেটাও তাঁকে করতে দেয়া হয় নি।
শুনি কাজী নজরুল ইসলামকে নাকি বাংলাদেশের জাতীয় কবি আখ্যায়িত করা হয়েছে। কেন? কি জন্য? সেটা কি কবি নজরুল নিয়ে কিছু বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি বা বৃদ্ধি করার জন্য? কিছু পদ, কিছু চেয়ার সৃষ্টি করে সেখানে, নব্যআঁতেল বা বুদ্ধিজীবী নামক নজরুল পাহারাদার নিযুক্ত করার জন্যই এই জাতীয় কবি আখ্যার প্রয়োজন? এই নজরুল পাহারাদার বুদ্ধজীবীরা জাতীয় কবির জন্য কি করেছে? গবেষণায় নজরুল নেই, বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যতালিকায় নজরুল নেই, স্কুল পাঠ্যবইয়ে তেমনভাবে নজরুল নেই, নজরুল চলচ্চিত্র উদ্ধার, নজরুলসম্পাদিত পত্রপত্রিকা, তাঁর সবগুলো গান, নাটক উদ্ধারের কোন চেষ্টা নেই। আছে কতগুলো চেয়ার! আর সেই চেয়ারে নামে বেতন-ভাতা।
কাদের জন্য এই চেয়ার? শেখ দরবার আলমের মত স্বপ্রনোদিত নজরুল গবেষকের যখন ঐ চেয়ারে স্থান হয় না, তাঁর কাজের মূল্যায়ন হয় না, বরং ষড়যন্ত্র করে তাঁর রোজগারের পথ বন্ধ করে তাকে মৃত্যুরপথে ঠেলে দেয়া হয়। তাঁর মৃত্যুসংবাদটি পর্যন্ত জাতীকে জানানোর প্রয়োজন কেউ বোধ করে না, তখন কিসের জন্য নজরুল চেয়ার? শুধু কি নজরুল কেনা-বেচার জন্য ঐ চেয়ার আর পদ-পদবী?
শেখ দরবার আলম অত্যন্ত আত্মসম্মানবোধ সমন্ন মানুষ ছিলেন। আত্মশ্লাঘায় যাতে বিন্দুমাত্র ঘা না লাগে, সেজন্য তিনি কারও কাছে হাত পাতেন নি! পদপদবীর জন্য কোন কর্তাব্যক্তির কাছে উমেদারি নিয়েও জান নি। পরিবার পরিজনসহ অভুক্ত থেকে, অর্ধাহারে থেকে নিঃশব্দে মাটি কামড়ে পড়েছিলেন। শেষে না পেরে এই শিল্পবোদ্ধাহীন, মেকী, চেয়ারস্বর্বস্য, নজরুল বেচাকেনার দেশকে বিদায় জানিয়ে নীরবে চলে গেলেন।
শেখ দরবার আলম এভাবে চলে গিয়ে আমাদের জানিয়ে গেলেন, বাংলাদেশ, কোন মৌলিক চিন্তাশীল এবং মৌলিক সৃষ্টিশীল মানুষের দেশ নয়। এ দেশ নকলবাজ, ‘কাট এ্যান্ড পেষ্ট’ ককটেল বিশেষজ্ঞ এবং উদ্ধৃতি আওড়ানো বুদ্ধিজীবীদেরই প্রজনন ক্ষেত্র। দেশের সর্বত্র তাদেরই সদর্প পদচারণা। প্রকৃত গুনীজন এখানে অপাংক্তেয়। গুনীজনরা এখানে মূর্খের পদভারে পিষ্ঠ। প্রাণে বাঁচতে হলে তাদের, ঐসব মূর্খ বুদ্ধিজীবীদের ব্যানার হাতে তাদের পিছনে দাঁড়াতে হবে, নয়তো দেশ ছেড়ে পালিয়ে প্রাণ বাঁচাতে হবে। শেখ দরবার আলমের পক্ষে ওদুটি পথের একটিতেও যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে, তিনি জীবনের পরপারে গিয়েই মুক্তি নিলেন ।
পরিশেষে বলবো, শেখ দরবার আলমের রেখে যাওয়া অসহায় পরিবারবর্গের জন্য যদি কোন নজরুলপ্রেমি ব্যক্তি, সংগঠন, সমবেদনার মন নিয়ে এগিয়ে আসেন, তাহলেও দেশে নজরুল চর্চার ক্ষীন আশা পোষণ করার অবকাশ আছে বলে মনে করবো। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন।

কবি ও সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার লিখেন, ২৭ মে সকালে আমার ঘুম ভাঙ্গলো সেল ফোনের শব্দে । — কেমন আছেন ভাই ? শেখ দরবার আলমের ফোন। — আমি আছি বাংলাদেশের মতো। অদক্ষ, অযোগ্য, অর্বাচীন, অপরিনামদর্শী, অস্থির, অবিবেচক, অসহিষ্ণু, কান্ডজ্ঞানহীন , মাত্রাবোধশূণ্য, হঠকারী, স্বার্থান্ধ, মতান্ধ, সমন্বয়হীন, সিদ্ধান্তহীন, লুটেরা সময়ে করছি বাস। দরবার ভাই হাসতে হাসতে বললেন , “ করে হানাহানি তবু চল টানি নিয়াছ যে মহাভার — “ । — সেই ফোনই যে তার শেষ ফোন হবে “ তাহা কি জানিত কেউ “ !
৩০ মে সন্ধ্যায় জানলাম তিনি নেই। এ হাসপাতাল ও হাসপাতালের উতোর চাপানে, শেষ পর্যন্ত এক রকম বিনা চিকিৎসায়, অনেকটা যেন রাগ করেই তিনি চলে গেছেন। না, করোনায় নয়, তার সুন্দর হৃদয়টাই হঠাৎ বিগডে গিয়েছিল। সামান্য মেরামতের দায়িত্বটুকু কেউ নেয় নি! দরবার আলমের গবেষণার মান নিয়ে কথা হতে পারে, কথা হোক। তাতে দোষ নেই। কিন্তু এ কথা তো সত্য, আপাদমস্তক তিনি ছিলেন নজরুলমুখী মানুষ। নজরুলই ছিলো তার ধ্যান, জ্ঞান এবং প্রাণ। একেবারে নজরুলময় মানুষ বলতে যা বোঝায়, তিনি ছিলেন তাই। নিজের পুরো জীবনটাই তিনি নজরুলের জন্য উৎসর্গ করে গেছেন। তার আকস্মিক প্রস্থান, নজরুলচর্চার ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। আমি তার দেহত্যাগী আত্মার শান্তি কামনা করছি। পেশ করছি প্রীতিমগ্ন শ্রদ্ধা ।

সাংবাদিক ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ লিখেন, চলে গেলেন আমার দীর্ঘদিনের সহকর্মী বিশিষ্ট নজরুল গবেষক শেখ দরবার আলম। নজরুল গবেষক বলা হলেও তিনি মূলত বাঙালি মুসলমানের জাতীয়তা, সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নির্ধারণ, সংরক্ষণ, চর্চা ও আবিষ্কারের প্রতি গভীর অনুসন্ধিৎসু ছিলেন। দীর্ঘদিন একই ফ্লোরে কাছাকাছি কাজ করেছি। অনেক সময় তার সামনে বসে বাঙালি মুসলমানের জাতীয়তা, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে তার গভীর চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে তুলে ধরেছেন। আমি শুনতে চাইতাম এবং মুগ্ধ হয়ে তার বক্তব্য শুনতাম। কখনো কখনো আমাকে নির্দিষ্ট বিষয় দিয়ে লিখতে বলতেন। একই বিষয়ের প্রতি আমার আগ্রহ থাকায় আমি তার বিভাগে বেশ কিছু প্রবন্ধ ও ফিচার লিখেছি এবং তিনি সেগুলো প্রকাশ করেছেন। তিনি দৈনিক ইনকিলাবের শিল্প-সংস্কৃতি ও ইতিহাস ঐতিহ্য নামে দুইটি পেইজ পরিচালনা করতেন। তার সম্পাদনায় এই পেইজ দুটি অত্যন্ত উচুমানের পাণ্ডিত্যপূর্ণ জ্ঞানগর্ভ ও গবেষণা সমৃদ্ধ লেখা প্রকাশিত হতো। আমি এই পেজগুলো বেশিরভাগই কেটে আমার নিজস্ব আর্কাইভে সংরক্ষণ করতাম। বয়সে অনেক সিনিয়র হয় অনেকবার তাকে বলেছি, দরবার ভাই, আপনি আমাকে তুমি বলেন। তিনি মুচকি হাসি দিয়ে বলতেন, না ঠিক আছে। তিনি এতটাই নিরহংকারী ছিলেন এবং ছিলেন প্রচারবিমুখ। তার ভাষায়, আমি নজরুল ব্যবসায়ী নই, নজরুলকে নিয়ে কিছু কাজ করেছি এবং করতে ভালো লাগে। তার একটি গবেষণায় তিনি আমাকে ও আমার পরিবারকে স্মরণীয় করে রেখেছেন, সেজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা। পশ্চিমবঙ্গে জন্ম হলেও বাংলাদেশকে তিনি গভীরভাবে ভালোবেসেছেন। ইনকিলাব থেকে চলে যাওয়ার পর বেশ কিছু ইস্যুতে তার লেখা চেয়ে ফোন করেছিলাম, তিনি লেখা দিয়েছেন। সাংবাদিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার সাথে মাঝে মাঝে দেখা হতো। যত বার দেখা হয়েছে তিনি এগিয়ে এসে আমার ফোন নাম্বার নিয়েছেন। বলতেন, পলাশ আমি আপনাকে ফোন করবো, আপনার সাথে কথা আছে। কিন্তু কখনোই ফোন করেননি। জানিনা তিনি কি বলতে চেয়েছিলেন। মনে পড়ছে। সবসময়ই মনে হয়েছে, দরবার ভাইয়ের প্রতিভা ও যোগ্যতাকে জাতি হিসাবে আমরা পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। তার মত একজন গুণী মানুষ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চিকিৎসা না পেয়ে এবং ডাক্তার চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করে, হাসপাতালগুলো ভর্তি না করে যেভাবে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিয়েছে তা সত্যি হৃদয় বিদারক। আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত নসিব করুক এবং তার পরিবারকে শোক সইবার শক্তি এবং উত্তম প্রতিদান দান করুন।

এমদাদুল হক চৌধুরী লিখেন, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রায়শই বলতেন, "টাকার সাথে আমার কি যে শত্রুতা, এ টাকা সহজে আসতেও চায়, আসলেও থাকতে চায় না।" আমাদের দরবার ভাইও ধ্যানে, জ্ঞানে, চিন্তায় আপাদমস্তক ছিলেন নজরুল। নজরুলের মতোই তিনি আর্থিক অনটনের সাথে সংগ্রাম করতে করতে ক্লান্ত হয়েই বিদায় নিলেন। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা তাকে প্রশংসিত জান্নাতের অধিবাসী করুন।

‘এত বড় মাপের একজন মানুষকে কেউই মূল্য দেয় নি। হতভাগা এ জাতিকে কিছুই বলার নেই। তার পরেও বলবো ওরে ডাক্তার অন্তত তোমরা মানুষ হও।’ - আবদুল আজিজ মিজির মন্তব্য।

আবদুল বাতেন লিখেন, ‘এ দেশে জ্ঞানী ও ভালো মানুষ মূল্যায়নহীন। তাঁর মতো লোক অবহেলায় চলে গেলেন। আল্লাহ তাঁকে জান্নাত দান করুন।’



 

Show all comments
  • মোঃ আক্কাস আলী মোল্লা ১ জুন, ২০২০, ৯:৩৪ পিএম says : 0
    সত্যিই দুখঃজনক!!আপনাদের সাথেই কাজ করেছেন দরবার আলম ভাই।অথচ আপনারাও বুঝতে পারেননি।তাহলে আর কি আবার লিখুন দরবার আলমের জিবনী হবে আরও কিছু বই আসবে কিছু টাকা।মানুষ পারেও অভিনয় করতে জিবন নিয়ে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন