Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

আদালত অঙ্গণে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

| প্রকাশের সময় : ৩ জুন, ২০২০, ১২:০১ এএম

রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ বিচার বিভাগ। রাজধানী ঢাকার সুপ্রীম কোর্ট থেকে শুরু করে জেলা আদালতগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার মামলার বিচারকাজসহ মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জনস্বার্থে ভূমিকা পালন করছে আদালতের বিচারক, আইনজীবীসহ আদালত সংশ্লিষ্টরা। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষকে দেশের আদালতগুলোতে ভীড় করতে হয়। চলমান করোনা মহামারীর ছুটি ও লকডাউনে আদালতের কার্যক্রম সীমিত থাকলেও এরই মধ্যে বিচারকসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এহেন বাস্তবতায় দেশের আদালত পাড়ায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা, শারিরীক দূরত্ব এবং ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবী ক্রমে জোরালো হয়ে উঠেছে। গত ২৭ মে ঢাকা বারের সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শওকত হোসেন অপু এবং গত সোমবার সুপ্রীম কোর্ট বারের লাইব্রেরিয়ান আসাদ করোনাভাইরাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। গত দুই সপ্তাহে ঢাকায় অন্তত ২৩ জন আইনজীবী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে গতকাল ইনকিলাবে প্রকাশিত খবরে জানা যায়। সীমিত আকারে ভার্চুয়াল ব্যবস্থায় পরিচালিত আদালতেই যদি এমন প্রাণঘাতী সংক্রমণের শিকার হতে হয়, তাহলে নিয়মিত আদালত শুরু হলে অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
ভার্চুয়াল আদালতে সব পক্ষের সুষম সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে করোনা মহামারীর সময়ে সীমিত পরিসরে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমেও জরুরী বিচারকার্য ও নির্দেশনা অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়ে ন্যায় বিচারের সুযোগ অবারিত রাখার প্রশংসনীয় উদ্যোগটিকে স্বচ্ছ ও সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত রাখা সময়ের দাবি। তা নাহলে ভার্চুয়াল বিচারব্যবস্থা মানুষের মধ্যে অনাস্থার জন্ম দিতে পারে। বলার অপেক্ষা রাখে না, আদালত যতই ভার্চুয়াল হোক, আদালত সংশ্লিষ্ট বিচারক, আইনজীবীসহ বেশ কিছু মানুষকে সশরীরে আদালতে হাজির হতেই হয়। ইতিমধ্যে সাধারণ ছুটির মেয়াদ শেষে সব সরকারি বেসরকারি অফিস আদালত খুলেছে। দেশের আদালতগুলোতেও স্বাভাবিক কর্মতৎপরতা শুরু হচ্ছে। এমতাবস্থায় আদালতে করোনা সংক্রমণ ও স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইতিমধ্যে আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানা যায়। বিচারপতিদের জন্য সীমিত পরিসরে নিরাপত্তা সামগ্রীর ব্যবস্থা থাকলেও নিয়মিত আদালতে প্রতিদিন আগত হাজার হাজার মানুষের জন্য আদালত অঙ্গণ নিরাপদ ও সুরক্ষিত করার পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না।
সামগ্রিকভাবে দেশের আদালতগুলোতে প্রতিদিন ৬-৭ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। করোনা মহামারীতে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের সংক্রমণ রোধ এবং স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা খুবই জরুরী ইস্যু। মানুষের নিরাপত্তা ও আইনগত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া বিচার বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব। সেখানে করোনা সংক্রমণের সময় আদালতের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উচ্চ আদালতকে কার্যকর নির্দেশনা দেয়া উচিৎ বলে আমরা মনে করি। কারণ বিচারক, আইনজীবীসহ আদালত সংশ্লিষ্ট একজন সাধারণ কর্মচারির ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে আদালত অঙ্গণে যেভাবে করোনার সংক্রমণ ঘটছে, তা প্রতিরোধে এখনই প্রতিকারের ব্যবস্থা না নিলে অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আদালতকে করোনা ঝুঁকিমুক্ত করার সকল উদ্যোগ নেয়ার বিকল্প নেই। প্রয়োজনে আদালত আরও কিছুদিন সময় নিয়ে পরিস্থিতি বুঝে পুরোপুরি চালু করতে পারে। এই সতর্কতা অবলম্বন করা বিচার কাজের স্বার্থেই জরুরী। পাশাপাশি গণপরিবহন, জনসমাগম এবং গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে স্বাস্থ্যবিধি এবং সংক্রমণ নিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি জাতীয় সংসদ ভবনও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে গতকাল ইনকিলাবে প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যায়। বিশেষত বিচারাঙ্গণে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি, বিচারক-আইনজীবীদের ভাইরাস আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক বিষয়। হাইকোর্টসহ দেশের সব আদালতের প্রবেশপথে থার্মাল স্ক্যানার, জীবাণুনাশক চ্যাম্বার ও পর্যাপ্ত হ্যান্ড সেনিটাইজারের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবী। আদালতপাড়া ও বিচার বিভাগের নিরাপত্তাহীন রেখে জনগনের আইনগত সুরক্ষা, বিচার প্রাপ্তির অধিকার রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিচারক, আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিচারপ্রার্থীরা যেন আদালতে গিয়ে করোনা সংক্রমণের শিকার না হন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। বিচারাঙ্গণে করোনা সংক্রমণের যে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করে সকলের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনা

৪ জুলাই, ২০২০
৪ জুলাই, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন