Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

ওয়াশিংটনে বিক্ষোভকারীদের ওপর ফ্লাশ গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস হামলা

ট্রাম্পকে বাইবেল হাতে চার্চে ফটোশ্যূটের সুযোগ

নিউ ইয়র্ক টাইম্স | প্রকাশের সময় : ৩ জুন, ২০২০, ১২:০১ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে হোয়াইট হাউসের বাইরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ফ্লাশ গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। গত সোমবার শহরে আরোপিত সন্ধ্যা ৭টা’র কারফিউয়ের ঠিক আগ মুহূর্তে দেশটির ন্যাশনাল গার্ড, সিক্রেট সার্ভিসসহ বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য শান্তিপূর্ণ সমাবেশকারীদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এর পরপরই অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে সেন্ট জন’স এপিসকোপাল চার্চে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে বাইবেল হাতে ছবিও তোলেন তিনি। তবে, সেখানে কোনো প্রার্থনা করেননি তিনি। শুধু ছবি তুলেই চলে এসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ট্রাম্পের এক কর্মকর্তা জনিয়েছেন, বিক্ষোভের প্রথম দিকে কিছুটা সময়ের জন্য সুরক্ষিত বাঙ্কারে আশ্রয় নেয়া ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের গেটের ঠিক ওপারের একটি বিধ্বস্ত গির্জার সামনে বাইবেল ধরে ছবি তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সোমবার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হোয়াইট হাউসের সামনে থেকে সরিয়ে দেয়ার মিশনে অংশ নেয় ন্যাশনাল গার্ড মিলিটারি পুলিশ, সিক্রেট সার্ভিস, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি পুলিশ, এমনকি কলম্বিয়া জেলা পুলিশও। তারা ট্রাম্পের জন্য চার্চে যাওয়ার রাস্তা জোরপূর্বক ফাঁকা করে দেন। এরপর ট্রাম্প প্রায় ১৭ মিনিট স্থায়ী একটি ফটো সেশনের জন্য সন্ধ্যা ৭টা ৪০-এ গির্জার উদ্দেশে যাত্রা করেন। ফেরার পথে অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম পি. বারসহ একদল সহায়তারী তাকে অনুসরণ করে।
ট্রাম্প নিজেকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের মিত্র বলে দাবি করলেও তার এই বক্তব্য চলাকালেই হোয়াইট হাউসের বাইরে চলছিল নিরাপত্তা বাহিনীর তান্ডব। এসময় বিক্ষোভকারীদের ওপর ফ্লাশ গ্রেনেড, রাবার বুলেট, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে তারা। সোমবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে ট্রাম্পের দেয়া ভাষণের মধ্যেই বারবার মাথার ওপর দিয়ে হেলিকপ্টারের ওড়াউড়ি ও সহিংসতার শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল।
গির্জা ভ্রমণের সময় ট্রাম্প মাস্ক পরিহিত ছিলেন, যা সেদিনের প্রকট হয়ে ওঠা ঘটনাগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে মনে করিয়ে দিচ্ছিল যে, তার প্রশাসন জাতীয় স্বাস্থ্য সঙ্কটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঠিক মাঝপথে অবস্থান করছে। এ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে যেখানে গোটা দেশকে এক বন্ধনে আবদ্ধ করার কথা, সেখানে সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি করে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তোলার অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্পের বিরোধীরা। এমনকি বিক্ষোভকালে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত চার্চটিতে যাওয়াকে তার নির্বাচনী প্রচারণারই কৌশল বলেও মনে করছেন অনেকে।
ওয়াশিংটনের এপিসকোপাল ডায়োসেস’র বিশপ মেরিয়ান ই. বুড্ডে চার্চ থেকে দূরে তার মায়ের সাথে এ দৃশ্যটি প্রচারিত হতে দেখে জানান, চার্চ কর্মকর্তাদের এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি। তিনি প্রেসিডেন্টের জন্য পথ সাফ করতে সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের ওপর হোয়াইট হাউসের দাঙ্গা-নিয়ন্ত্রণ কৌশল ব্যবহারের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ডায়োসিজের টুইটার হ্যান্ডেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ল্যাফায়েট স্কয়ারে সেন্ট জন পরিদর্শন করা একজন যাজককেও টিয়ার গ্যাসের স্প্রে করা হয়েছিল কারণ তিনি ভীত সন্ত্রস্ত বিক্ষোভকারীদের এলাকা ছাড়তে সাহায্য করছিলেন।’
বুড্ডে ট্রাম্প সম্পর্কে জানান, ‘তিনি প্রার্থনা করেননি।’ তিনি বলেন, ‘তিনি জর্জ ফ্লয়েডের কথা উল্লেখ করেননি, এমন লোকদের যন্ত্রণার কথাও তিনি উল্লেখ করেননি, যারা শত শত বছর ধরে সাদাদের এই ধরনের আধিপত্যমূলক ভয়াবহ আচরণ ও বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন। আমাদের এমন এক রাষ্ট্রপ্রধান দরকার যিনি একজোট করতে পারেন এবং ক্ষত সারাতে পারেন। তিনি এর বিপরীত কাজটি করেছেন।’
ট্রাম্প ছবি তোলার সময় যেভাবে বাইবেল ধরেছিলেন তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিশপ বুড্ডে এই পদক্ষেপকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক হাতিয়ার বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘বাইবেল আমেরিকান দলিল নয়। এটি আমাদের দেশের প্রতিচ্ছবি নয়। এটি সৃষ্টিকর্তাকে সেবা ও ভালবাসা ও জানার জন্য মানুষের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।’
ট্রাম্পের সমালোচনায় সরব হয়েছেন নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোও। চার্চে গিয়ে ছবি তোলার জন্য শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর শক্তিপ্রয়োগ অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।



 

Show all comments
  • Ahmad Fahim ৩ জুন, ২০২০, ২:৪৬ এএম says : 0
    ঠান্ডা মাথায় এই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যুক্তরাষ্ট্র


আরও
আরও পড়ুন