Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

ময়মনসিংহ খাদ্য বিভাগে দূর্নীতি ধামাচাপায় বাড়ছে অপরাধ!

মো: শামসুল আলম খান | প্রকাশের সময় : ৩ জুন, ২০২০, ৪:০৩ পিএম

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশে দূর্যোগ পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকলেও ময়মনসিংহ খাদ্য বিভাগে থেমে নেই অনিয়ম-দূর্নীতি। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে জেলার সর্বত্র।
অভিযোগ উঠেছে, চাল চুরিসহ নানান ধরনের অনিয়ম-দূর্নীতির ঘটনা একের পর এক ফাঁস হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধামাচাপা মনোভাবের কারণে খাদ্য সেক্টরে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। তদন্তে কালক্ষেপন, অনিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন এসব ঘটনার বড় উদাহরন। ফলে খাদ্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রানালয় দফায় দফায় জেলা খাদ্য বিভাগে দূর্নীতির লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করলেও মিলছে না প্রতিকার।
সূত্র জানায়, নানান অভিযোগে সম্প্রতি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: জাহাঙ্গীর আলম বদলী হলে নতুন দ্বায়িত্ব গ্রহন করেছেন মো: জহিরুল ইসলাম। এরই মাঝে ঈশ্বরগঞ্জ খাদ্য গুদামে চাল ক্রয়ে অনিয়ম-দূর্নীতি ও অবৈধ মজুদের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, যে অপরাধে মামলা দায়ের হয়েছে। সে অপরাধের দায় কোন ভাবেই এড়াতে পারেন না উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা এএইচএম কামরুজ্জামান। অথচ একই দোষে দোষী হয়েও তিনি বাদী আর অন্যরা মামলার আসামীরা। সূত্রটি আরো জানায়, এর আগেও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় খাদ্য অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে এক কর্মকর্তার বদলী হলেও একই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েও এখনো বহাল তবিয়তে আছেন এএইচএম কামরুজ্জামান। এছাড়াও তারাকান্দা খাদ্য গুদামে বসে খাদ্য কর্তকর্তাদের মদ্যপানের ঘটনায় তদন্তে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
সূত্র জানায়, গৌরীপুরে খাদ্য বান্ধবের আত্মস্বাতকৃত বিপুল পরিমান চাল গুদামে রেখেই নতুন ক্রয় অভিযানে সমন্বয় চেষ্টার অভিযোগে ক্রয় কার্যক্রম স্থগিত করেন জেলা প্রশাসক। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী গুদাম কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর তালুকদারের রহস্যময় কেরামতিতে বিষয়টি এখন ধামাচাপা। এছাড়াও এ উপজেলাজুড়ে চাল চুৃরির নানা ঘটনায় ডিলার বরখাস্থ ও মামলা হলেও ধরারছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন প্রভাবশালী এ কর্মকর্তা। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে মুক্তাগাছার উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শফি আবজালুল আলমের বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মুক্তাগাছা উপজেলায় এখনো ১৫ থেকে ২০টি মিল বন্ধ থাকলেও তারা পেয়েছেন সরকারী বরাদ্ধ। কালো তালিকাভুক্ত ৫টি মিলও পেয়েছেন একই সুবিধা। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ মদদে ঘটছে এসব অনিয়ম-র্দূর্নীতির ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে বিগত ধান ক্রয় অভিযানে দুইজন প্রভাবশালী মিলারের যোগসাজসে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন শফি আবজালুল। এছাড়াও চলতি চালক্রয় অভিযানে আতব চাল বরাদ্ধে হয়েছে আর্থিক লেনদেন। তাঁর প্রত্যক্ষ মদদেই উপজেলাজুড়ে চলছে খাদ্য বান্ধবের চাল হরিলুট। তবুও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
অপর একটি সূত্র জানায়, জেলার তারাকান্দা খাদ্য গুদামে বসে খাদ্য কর্তকর্তাদের মদ্যপানের একটি ভিডিও বিগত ২ থেকে ৩ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তদন্ত কমিটি গঠন করে খাদ্য অধিদপ্তর। কিন্তু নামমাত্র তদন্ত শেষে সম্প্রতি প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত কমিটির প্রধান ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা এএইচএম কামরুজ্জামান। প্রতিবেদনে তিনি দাবি করেন, ‘মদ্যপানের দৃশ্যটি খাদ্য গুদামের নয়। এই মর্মে স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যান প্রত্যায়ন দিয়ে জানিয়েছেন খাদ্য গুদামের এএসআই নূর আলম, সাইফুল ইসলাম ও মোশাররফ হোসেনের সাথে মদ্যপানের দৃশ্যটি সত্য। তবে তা চেয়ারম্যানের নিজস্ব বাসভবনের ঘটনা।’
তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার দাবি, তদন্ত কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে অফিসে বসে মদ্যপানের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য খাদ্য গুদামে সুবিধা প্রদানের আশ্বাসে ওই চেয়ারম্যানের কাছ থেকে একটি প্রত্যায়ন নেয়া হয়েছে, মূলত বিষয়টি হালকা করার জন্য।
এ প্রসঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: সারোয়ার মাহমুদ বলেন, মদ্যপানের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন অবস্থাতেই খাদ্য বিভাগে কোন ধরনের অনিয়ন সহ্য করা হবে না।
একই ভাবে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ফুলপুর উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ে অনিয়ম-দূর্নীতি এবং ক্রয় অভিযানের লাষ্ট সমন্বয়ে ৫শত মেট্রিক টন বোরো ধান ফড়িয়াদের কাছ থেকে বিল করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় তৎকালীন গুদাম কর্তকর্তা শাহ মাজাহারুল ইসলাম কামাল। এ ঘটনায় বর্তমানে পঞ্চম ধামে তদন্ত চলমান আছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান নেত্রকোনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন।
এ ঘটনার মূল অভিযোগকারী ফুলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক আহবায়ক মো: জহিরুল ইসলাম দাবি করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা পদে বহাল থাকার কারণে তদন্ত কার্যক্রম বার বার প্রভাবিত হচ্ছে। আর এ কারণেই তদন্ত কার্যক্রমে কালক্ষেপন হচ্ছে। এতে দূর্নীতিবাজদের পার পেয়ে যাবার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
এসব বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব ড.নাজমানারা খানুম বলেন, সব ধরনের অনিয়মের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ধৈর্য্য রাখুন, করোনার কারনে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ময়মনসিংহের একাধিক উপজেলায় অনিয়ম-দূর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে। এতে অনেকেই অংশীদার আছেন। এক দিনে সব করা যাবে না, ইনশাল্লাহ সবদিক থেকেই পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন