Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

করোনার ভায়াবহ দায় সরকারকে বহন করতে হবে

আলোচনায় মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৪ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম

করোনা মহামারীর ভয়াবহ পরিস্থিতির দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব জোর করে নিয়েছেন তারা জনগণকে কোনো মূল্য দেন না। তাদের কাছে অনেক বেশি মূল্য হচ্ছে ব্যবসার, সো-কলড প্রবৃদ্ধি বাড়ানো। কোনটাই বাড়বে না, সব কিছু নিচে নেমে যাচ্ছে এবং ভয়াবহ পরিণতির দিকে যাচ্ছে। বরং যে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করেছে তার দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। গতকাল বুধবার বিকালে নাগরিক ঐক্যের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারি ছুটি তুলে নেয়ার সমালোচনাও করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার যে টেকনিক্যাল কমিটি করে দিয়েছে সেই কমিটি বলছে যে, এই মুহুর্তে সরকারি ছুটি তুলে নেয়াটা একটা বিপদজনক অবস্থা হবে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ সাহেবও বলেছেন এটা খুব ভুল সিদ্ধান্ত হচ্ছে, এটা একটা সুইসাইডেল সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, আমি জানি না যে, এখান থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবেন সরকার বা এদেশের মানুষ কিভাবে বেরিয়ে আসবে। সমগ্র বিশ্ব যখন এই সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ এখন পর্যন্ত কোনো ঔষধ ও ভ্যাকসিন আবিস্কার হয়নি এবং হওয়াও ডিফিকাল্ট। এরমধ্যে আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে সকলের সাথে আলোচনা করে, যদি পরামর্শ করে পদক্ষেপ নেওয়া হতো তাহলে হয়ত আমরা এই অবস্থার সম্মুখিন নাও হতে পারতো।

দেশ রসাতলে যাচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখান থেকে টেনে তোলার দায়িত্ব সকলের। সরকার কোনো উদ্যাগ নেবেন না, উদ্যোগ নেয়ার মতো তাদের সেই মানসিকতাও নেই। জনগণকে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আজকে আমি বলছি, ঐক্য দরকার, জনগণেভর ঐক্য দরকার। দেশের সকল রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর ঐক্য দরকার যারা জনগণের কল্যাণের বিশ্বাস করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে যেসমস্ত জায়গায় চিকিৎসার কথা বলা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে সেখানে চিকিৎসা হচ্ছে না। ডাক্তারদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যে যেসমস্ত ইকুপমেন্ট দরকার তা সরবারহ করা হয়নি। এগুলো নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়েছে।

জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, করোনার এই ভয়াবহ দুর্দিনে আরো বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে বিদ্যমান শাসন কাঠামো পরিবর্তন করে সকলকে নাগরিক ঐক্য পালন করতে হবে-এই প্রত্যাশা করছি।

সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই সরকার আমাদের সরকার নয়, ওরা আমাদের কাজ করবেও না। এরা পুরো ব্যবসায়ীদের সরকার। এখন এই শাসকদের কাছে নিরাপদ নই, এখন যারা ক্ষমতা চালাচ্ছে তাদের কাছে আমরা নিরাপদ নই। তিনি বলেন, পুলিশ যারা এদেরকে ক্ষমতায় থাকার জন্যে দুই বছর আগে জান দিয়ে দিয়েছে, মানুষের ভোট কেড়ে নিয়েছে, পারলে অন্যের জান কেড়ে নেয়। ওই পুলিশের জান সরকার রক্ষা করতে পারেনি। যে ডাক্তার চিকিৎসা করছেন এতো বিপদের মধ্যেও ওদেরকে পিপিই দিতে পারে না। অথচ এই পিপিই এক্সপোর্ট করতে গার্মেন্টস খুলে দেয়ার বিশেষ বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সরকার ডাক্তারদের জন্য না, পুলিশদের জন্য না, মালদার যারা টাকা আছেন তাদের জন্যে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বলছেন ১৫ দিন দেখবো, তার পর কঠোর হবে। আপনারা কি হয় দেখবেন। প্রতিদিনই তো সংক্রমণ বাড়ছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এটাকেই বলে হার্ড ইমুউনিটি। চরে খাও, বাঁচলে বাঁচো, মরলে মরো-এই হচ্ছে সরকারের পলিসি। ওরা (সরকার) মানুষের খাবার দিতে পারবে না, টাকা দিতে পারবে না। দুই কোটি পরিবার দিন আনে দিন খায়। এজন্য তারা (সরকার) সব কিছু খুলে দিয়েছে। এই সরকার মানুষকে মিথ্যাচার করে, প্রবঞ্চনা করে ভাওতা দিয়ে ক্ষমতায় থাকার জন্য বাহানা বার করছে।

সংগঠনের সমন্বয়কারী শহীদুল্লাহ কায়সারের পরিচালনায় ইন্টারেনেটের মাধ্যমে গণফোরামের সাবেক নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকীও বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন গণফোরামের জগলুল হায়দার আফ্রিক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর খান ও মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ