Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ৩১ আষাঢ় ১৪২৭, ২৩ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

ফুলপুরে করোনা লড়াইয়ে জীবন বাজি রেখে কাজ করছে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৭ জুন, ২০২০, ২:৫১ পিএম

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সামনের সারিতে থেকে কাজ করছেন চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। আর মাঠে তৎপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক,স্বেচ্ছাসেবক ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। অদৃশ্য এ শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে তাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা খুবই জরুরি। সামনে সারি থেকে যারা এ লড়াইয়ে জীবনবাজি রেখে কাজ করছেন তাদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবকরা অন্যতম। ময়মনসিংহের ফুলপুরে করোনা মোকাবিলায় সামনের সারিতে থেকে জীবণবাজি রেখে কাজ করছেন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক। করোনা যুদ্ধে উপজেলার আনাচে-কানাচে বিরামহীন ভাবে ভোর হতে রাত্রি পর্যন্ত ছুটে চলছেন মানুষের সেবায়। সারা দেশের মানুষ যখন করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে ব্যাস্ত, ঠিক তখন নিজেরাই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এই সেচ্ছাসেবকরা। উপজেলার আনাচে কানাচে কাজ করে নজির স্থাপন করেছেন করোনাযোদ্ধা স্বেচ্ছাসেবকরা।

মার্চের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে প্রথম কোভিড-১৯ সংক্রমণের পূর্বেই দূর্যোগ পূর্ববর্তী প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করে হেলডস্ ওপেন স্কাউট গ্রুপের স্বেচ্ছাসেবকরা। হাত দোয়া, মাক্স পরা, হাঁচি-কাশি শিষ্টাচারের ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি শেখাতে সেমিনার অায়োজন করে তারা। এসময় সচেতনাতামূলক বার্তা ও করনীয় নির্দেশনা সম্বলিত প্রায় ১০ হাজার লিফলেট বিতরণ করেন। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ওয়ার্ডভিত্তিক সদস্য মনোনীত করে কাজ করে। করোনা লড়াইয়ে তারা শহর থেকে গ্রামে গ্রামে ছুটে বেড়াচ্ছে।
সেই সাথে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার খাদ্য সামগ্রী, মানবিক সহায়তা বিতরণে ও করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহে সহযোগীতা প্রদানসহ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি, জীবাণুনাশক স্প্রে, মাইকিং, কোয়ারেন্টাইন বাস্তবায়নে তদারকি, রোগীদের বাসা-বাড়ি ও আশপাশ এলাকা লকডাউন বাস্তবায়ন, মহাসড়কসহ গ্রামের বাজারগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, আইসোলেশনে থাকা রোগীদের খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য সহযোগীতাসহ বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছে এ স্বেচ্ছাসেবকরা। বিভিন্ন মসজিদে, গণজামায়েত হয় এমন স্থান সমূহে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা এবং বাজারে মাক্স, সাবান ও হেন্ড স্যানিটাইজারের ক্রাইসিস শুরু হলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিজেরাই তৈরী করে মান সম্মত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাক্স এবং তা করোনা প্রতিরোধে নিয়োজিত ব্যক্তি ও গরিবদের মাঝে বিতরণ করেছে স্বেচ্ছাসেবকগণ। সেই সাথে নো মাক্স নো শপিং সহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করেন তারা।
এক কথায় করোনা মোকাবেলায় প্রশাসনের সকল কাজে সহযোগীতাও করে যাচ্ছে এই করোনা যোদ্ধা স্বেচ্ছাসেবকগণ। করোনা পরিস্থিতিতে খাদ্যসামগ্রী ও সরকারি অনুদান বিতরণসহ সব ধরনের কাজে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাসেবকরা বিনিময়ে কিছু না পেলেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পেরে তারা আনন্দিত। আর তরুণ প্রজন্মের মাঝে মৃত্যুর ঝুঁকি মাথায় নিয়ে এ দেশপ্রেম দেখে গর্বিত ফুলপুরবাসী।

স্বেচ্ছাসেবক মাহমুদুল হাসান রাব্বি বলেন, আমরা দেশের জন্য কাজ করতে পেরে গর্বিত। গ্রামাঞ্চলের মানুষের মাঝে কাজ করতে গিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছি। ভয় ও ঝুঁকি মাথায় নিয়ে কাজ করছি। তার পরও আনন্দ পেয়েছি, দেশের মানুষকে ভালো রাখার জন্য কাজ করেছি। টিম লিডার হেলডস ওপেন স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক তাসফিক হক নাফিও'র বিভিন্নভাবে দিকনির্দেশনায় কাজগুলো করতে পেরেছি।

উপজেলা টিম লিডার হেলডস ওপেন স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক তাসফিক হক নাফিও জানান, উপজেলা থেকে বাছাই করে এই টিমের মাধ্যমে ফুলপুর উপজেলার সব ভালো উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালনকারী হিসেবে তাদের গড়ে তোলা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফুলপুর উপজেলা প্রশাসন দিনরাত তাদের মাধ্যমে সব কাজ বাস্তবায়নে সহযোগী হিসেবে পাশে পেয়েছে।সামনের সারি থেকে জীবণবাজি রেখে কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ বিতরন, মসজিদ মন্দির ভিত্তিক ত্রাণ বিতরণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার, শিশু খাদ্য সুবিধা ভোগীদের বাসায় পৌঁছে দিতে সহায়তা করে স্বেচ্ছাসেবকরা। তিনি আরও বলেন মহামারী পরবর্তী খাদ্য ও অর্থনৈতিক মন্দা প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবকরা নিজ বাড়িতে, পতিত জমিতে সবজি চাষ সহ বিভিন্ন ধরনের কৃষি ভিত্তিক স্বাবলম্বী প্রজেক্ট নিজে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ