Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গের নৈরাজ্য

চট্টগ্রামে সামাজিক সংক্রমণ বিস্তার

শফিউল আলম : | প্রকাশের সময় : ৮ জুন, ২০২০, ১২:০১ এএম

সামাজিক ও ব্যক্তিগত নিরাপদ দূরত্ব মানার কোনো বালাই নেই। নেই স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে আদৌ কারও কোনো মাথাব্যথা। বরং চট্টগ্রামের চারদিকে স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গই ‘নিয়ম’ হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। কে কাকে মানাবে? কীভাবে থামাবে? স্বাস্থ্যবিধি ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা ভঙ্গ করার ক্ষেত্রে চট্টগ্রামে যা সর্বত্রই দৃশ্যমান তা রীতিমতো এক ধরনের নৈরাজ্য। পুলিশসহ মাঠ প্রশাসন প্রথমদিকে কঠোর থাকলেও এখন গা-ছাড়া ভাব।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ আগেই সতর্ক করেছেন, করোনাভাইরাস মহামারী সংক্রমণ এবং বিস্তারের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম দেশের উচ্চতর ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। চট্টগ্রামের অবস্থানগত বৈশিষ্ট্য এবং জনমিতি বা জনসংখ্যা, প্রবাসীদের ব্যাপকহারে মিশে যাওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের ফ্যাক্টর উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করেছে।

দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী, বন্দরনগরী, প্রধান শিল্পাঞ্চল হিসেবে জনবহুল নগরীতে বহুমুখী জনব্যস্ততার নিরিখেও বাড়তি ঝুঁকি রয়েই গেছে। সমগ্র দেশের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি হিসাবে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর সার্বক্ষণিক সচল রেখে আমদানি-রফতানি, গার্মেন্টসহ শিল্প-কাঁচামাল, নিত্যপণ্য খালাস ডেলিভারি পরিবহন গতিশীল রাখা হয়েছে সেই ২৬ মার্চ প্রথম সাধারণ ছুটি শুরু হওয়া থেকেই। এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম থেকে যাতে সমগ্র দেশে পণ্যসামগ্রী পরিবহন ব্যবস্থা সচল হয় এরজন্যই চট্টগ্রামকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়নি। জাতীয় স্বার্থেই তা করা হয়নি।

অথচ লকডাউন না থাকার সুবাদে পাইকারিভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের নির্দেশনা। আর ডেকে আনা হচ্ছে চরম সংক্রমণের ঝুঁকি। যা বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করছে সুস্থ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাদবাকি সাধারণ নাগরিকদের। গত এক সপ্তাহ যাবৎ সারাদেশের মতো চট্টগ্রাম নগরীতেও সবকিছুই খুলে দেয়া হয়েছে লকডাউন তুলে নিয়ে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ১৬ শর্ত থাকলেও সেগুলো এখন কাজীর গরু। ৭০ লাখ জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত চট্টগ্রাম মহানগরীর সবখানে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ মানুষই হুমড়ি খেয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের দিক হচ্ছে, সারাদেশের কর্মহীন দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষেরা প্রতিদিনই বিভিন্ন যানবাহনে বোঝাই হয়ে কাজের সন্ধানে ভিড় করছে নগরজুড়ে। নগরী ও শহরতলী এলাকার এতোদিন প্রায় ফাঁকা পড়ে থাকা বস্তিগুলো এখন ভরে গেছে। হাট-বাজার, রাস্তাঘাট, সড়ক, মোড়, ফুটপাত, মার্কেট শপিং মল, গণপরিবহন থেকে শুরু করে বন্দরের ঘাট-গুদাম, আড়ত, পাইকারি বাজার সর্বত্রই গিজগিজ করছে হরেক শ্রেণি-পেশার মানুষ। গায়ে গা-ঘেঁষে ছুটছে মানুষ। কোথায় স্বাস্থ্যবিধি? কোথায় সামাজিক দূরত্ব?

এ অবস্থায় সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে চট্টগ্রামের শহর-বন্দর গ্রাম-জনপদে। গত দুই সপ্তাহের সংক্রমণ প্রবণতা অনুযায়ী মহানগরীর তুলনায় চট্টগ্রাম জেলার মফস্বল গ্রামাঞ্চলে সংক্রমণের হার প্রায় ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দিন দিন তা বৃদ্ধির দিকেই মোড় নিচ্ছে।

এরফলে চট্টগ্রামজুড়ে করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। বাড়ছে উপসর্গে মৃত্যুহারও। যদিও উপসর্গে মৃতদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মৃত্যু-পরবর্তী টেস্টে করোনা শনাক্ত হচ্ছে। যা আরও উদ্বেগের ইঙ্গিত বহন করছে।

সার্বিক সমন্বিত চিকিৎসা সুবিধা চট্টগ্রামে বাড়েনি তেমন। মাত্র প্রায় ১২ থেকে ১৪ ভাগ রোগী আইসোলেশন সুবিধার আওতায় রয়েছে। নেই কোনো বেড খালি। এহেন চরম নাজুকদশায় চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। সিভিল সার্জন অফিসের সবশেষ তথ্য মতে, চট্টগ্রাম জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৯৬২ জন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন