Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪ আশ্বিন ১৪২৭, ০১ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

বিক্ষোভে দখলদারিত্ব অবসানের আহবান

কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পৃথক এনকাউন্টারে নিহত ৯

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ জুন, ২০২০, ১২:০১ এএম

ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জম্মু-কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী স্বাধীনতাকামী সংগঠন হিজবুল মুজাহীদিনের তিন কমান্ডারসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলায় ২৪ ঘণ্টায় পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় এই প্রাণহানি ঘটে। হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে কাশ্মীরে। বিক্ষোভ থেকে কাশ্মীরে ভারতের দখলদারিত্ব অবসানের আহবান জানানো হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রতি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। জবাবে পুলিশ শর্টগানের গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। খবর আল-জাজিরা। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেনাবাহিনী বিস্ফোরক দিয়ে অন্তত একটি ঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কাশ্মীরের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, সোমবার সকালের দিকে দক্ষিণ কাশ্মীরের পিনজোরা এলাকায় অভিযানের সময় নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ শুরু করে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির গোপন খবর পাওয়ার পর সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় গোলাগুলিতে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জম্মু-কাশ্মীরে দুটি স্থানে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে রোববার বিকেলের দিকে জম্মুর রেবান জেলায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বন্দুকযুদ্ধে আরও অন্তত ৫ জন নিহত হয়। ছয় ঘণ্টার এই সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে হিজবুল মুজাহীদিনের এক আঞ্চলিক কমান্ডার ও একজন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। পরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ওদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়াকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এপি বলছে, ভারতীয় সেনাবাহিনী ও পুলিশের কাছে খবর যায় যে সোপিয়ান এলাকায় আত্মগোপন করে আছে কিছু বিদ্রোহী। এ খবরের ভিত্তিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় সোপিয়ান এলাকায় একটি গ্রাম ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এ ঘটনায় হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার ফারুক আসাদও নিহত হয়েছেন বলে জানা যায়। ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই অভিযানের পর ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও নিরাপত্তাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে জানান ওই কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কাশ্মীরজুড়ে অপারেশন বৃদ্ধি করেছে ভারত। এ বছরে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরে পুলিশ হত্যা করেছে ৭৩ জন বিদ্রোহীকে। শুধু এপ্রিলে দুই ডজন বিদ্রোহী ও প্রায় এক ডজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছে। ২০১৯ সালের আগস্টের পর এক মাসে এটাই সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা। ১৯৮৯ সাল থেকে কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন স্বাধীনতাকামীরা। এতে মৃত্যুবরণ করেছে কমপক্ষে ৭০ হাজার মানুষ। এর বেশির ভাগই সাধারণ মানুষ। স্বাধীনতাকামীদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত। এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তান বলে, তারা শুধু স্বাধীনতাকামীদের নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিচ্ছে। আল-জাজিরা, এনডিটিভি,এপি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কাশ্মীর


আরও
আরও পড়ুন