Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৬ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশী হত্যা মামলায় আরও ৬ জন গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৮ জুন, ২০২০, ৯:২৬ পিএম

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশী হত্যা ও মানব পাচারের ঘটনায় আরও ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। রোববার ডিবি পুরিশের একাধিক টিম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বাদশা মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, আকবর আলী, সুজন, নাজমুল হাসান ও লিয়াকত শেখ ওরফে লিপু। এ সময় তাদের হেফাজত হতে চারটি পাসপোর্ট, দুইটি মোবাইল ফোন ও টাকার হিসাব সম্মলিত দুইটি নোট বুক উদ্ধার করা হয়।

সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেসব্রিফিং এ ডিবি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল বাতেন জানান, লিবিয়ার বিভিন্ন এস্টেটে কাজ ও লিবিয়া হতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশী দালালরা অন এ্যারাইভাল ও ভিজিট ভিসার মাধ্যমে লোকজনকে লিবিয়ায় পাচার করে। লিবিয়ায় পাচার করে ভিকটিমদের লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে আটক রেখে অমানুষিক শারিরীক এবং মানসিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতিত ভিকটিমদের কান্নাকাটি, আকুতি মিনতি করা অডিও অথবা সরাসরি মোবাইলে কথাবর্তা বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের পিতা-মাতা আত্মীয়-স্বজনদেরকে পাঠেয়ে টাকা নেয়া হতো। ভিকটিমদের বাচাঁতে তার আত্মীয়-স্বজনরা কোন কোন ক্ষেত্রে ভিটাবাড়ি বিক্রি করে টাকা পাঠাতো।

তিনি আরো জানান, নিহত মাদারীপুরের ৭ জনকে বাংলাদেশ হতে লিবিয়াতে আমির হোসেনের কাছে পাচার করেছিল তার ভাই গ্রেফতারকৃত আকবর হোসেন।

গ্রেফতারকৃত বাদশা মিয়া ১৩ বছর যাবৎ লিবিয়াতে অবস্থান করে। লিবিয়ার বেনগাজী , জোয়ারা শহরে তার নিজস্ব ক্যাম্প আছে। সমগ্র বাংলাদেশ থেকে সে নিয়মিত লিবিয়াতে মানব পাচার করে, পাচারকৃত বাংলাদেশীদেরকে তার ক্যাম্পে আটক রেখে নির্যাতন চালায়। পরে অতিরিক্ত টাকা পেলে তাদেরকে সমুদ্রপথে ইটালীতে পাঠানো হতো। মাদারীপুরের নিহতদের মধ্যে ৪ জনকে তার ক্যাম্পে আটক রেখে ত্রিপোলীতে পাচার করার এক পর্যায়ে এ হত্যাকান্ড ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আবদুল বাতেন বলেন, গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গির আলম ঢাকাতে অবস্থান করে নিজস্ব কায়দায় বেনগাজিতে মানব পাচার ছাড়াও স্থানীয় অন্যান্য দালালদের কাছ থেকে প্রাপ্ত পাসপোর্টগুলো স্ক্যান করে সফট কপি দুবাই এবং লিবিয়াতে প্রেরণ করে টুরিস্ট ভিসা ও অন অ্যারাইভাল মোয়াফাকা সংগ্রহ করে।

গ্রেফতারকৃত সুজন ভিকটিম ইছার উদ্দিন ,বিজয় ও মোঃ সজল দেরকে লিবিয়ায় পাঠায়। ২৮ মে লিবিয়ায় ট্র্যাজিডিতে ভিকটিম মো. সজল আহত হয়ে লিবিয়ায় এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। নিখোঁজ মো. বিজয় ও ইছার উদ্দিনের কোন সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

গ্রেফতারকৃতদেরকে পল্টন ও তেজগাঁও থানায় মানব পাচার ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে করা মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৮ মে লিবিয়ার মিসদাহ উপ-শহরের মরুভূমিতে ২৬ জন বাংলাদেদেশী গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া এ ঘটনায় আরও ১১ জন গুরুতর আহত হয় । লিবিয়া এবং ইটালীতে অভিবাসী হতে যাওয়া শত শত বাংলাদেশী বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনে আহত, নিহত ও চিরতরে নিখোঁজ হয়েছেন। এ সকল ঘটনায় ভিকটিমদের আত্মীয় স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ জেলা এবং ডিএমপি’র পল্টন ও তেজগাঁও থানায় পৃথক মামলা করা হয়।

সূত্র: বাসস



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: লিবিয়া


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ