Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

জ্বালানি তেলের মূল্য কমলেও সুফল পায়নি জনগণ : পরিকল্পনামন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ২৬ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য রহিম উল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব সব সময় পড়ে না। তিনি জানান, সম্প্রতি সরকার স্থানীয় বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কিছুটা কমালেও পরিবহন বা অন্য খাতে এর সুফল জনগণ তেমন পায়নি। সংসদে মন্ত্রীর দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে যে হারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল, দেশে জনগণের সুবিধা বিবেচনা করে সরকার সে হারে স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধি করেনি। এই খাতে বিপিসি তথা সরকার প্রচুর পরিমাণে লোকসান/ভর্তুকি দিয়েছে। ২০১১ সালে লিটারপ্রতি সর্বোচ্চ ৩২ দশমিক ২৪ টাকা (ডিজেলে) ভর্তুকি দেয়া হয়েছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব স্থানীয় বাজারে সম্পূর্ণরূপে পড়েনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য কমে গেলেও আমাদের স্থানীয় বাজারে তা বর্ধিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছেÑ এ বিষয়টি বাস্তবতার নিরিখে কিছুটা বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। বিগত ২০১৪-১৫ অর্থ-বছরে (নভেম্বর ’১৪) থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করে। ইতোপূর্বে জ্বালানি তেল খাতে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে সমন্বয় করার সুযোগ পেয়েছে। লোকসান পুরোপুরি সমন্বয় না করেও ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য কমিয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারদর ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
পাঁচ বছরে দেড় কোটি গ্রাহক প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আসবে ঃ এম আবদুল লতিফের এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৪৫ হাজার গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হবে। তবে লাইফ লাইন গ্রাহক যাদের মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার ৫০ কিলোওয়াট আওয়ারের নিচে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় আপাতত প্রি-পেইড মিটারিং কার্যক্রমের আওতাভুক্ত করা হয়নি।
সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০২১ সাল নাগাদ সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে। এর অংশ হিসেবে সরকারি খাতে ৭ হাজার ৭৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৭টি এবং বেসরকারি খাতে ৩ হাজার ৬৮১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ মোট ১০ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহ ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে বলে আশা করা যায়।
এছাড়া সরকারি খাতে ২ হাজার ১৮৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৭টি এবং বেসরকারি খাতে ৩ হাজার ৪৮৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ মোট ৫ হাজার ৬৭৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকারি খাতে ৫ হাজার ৬৯৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনাধীন রয়েছে। আগামী ২০১৮ সালের জুন নাগাদ ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির কার্যক্রম চলছে বলেও জানান মুস্তফা কামাল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ