Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

নতুন মানচিত্র নিয়ে শনিবার নেপালের সংসদে ভোট

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১১ জুন, ২০২০, ৭:৪২ পিএম

ভারতের সাথে বিতর্কিত এলাকা নিয়ে তৈরি নতুন মানচিত্র নিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষে নেপালের সংসদে ভোট হবে। বৃহস্পতিবার নেপালের সরকারী সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সংবিধান সংশোধন করে পুরানো সংস্করণ সরিয়ে সরকার নতুন মানচিত্রটি সংসদে উপস্থাপন করেছে। এটি অনুমোদনের জন্যই সংসদে ভোট গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে সংসদের একজন কর্মকর্তা দশরথ ধমালা বলেছে, ‘শনিবার সংসদে একটি বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে যখন এই সংশোধনীটি নিয়ে বিতর্ক ও ভোট দেয়ার কথা রয়েছে।’

এর আগে, ভারতের প্রবল আপত্তি উপেক্ষা করে নতুন মানচিত্রে অনুমোদন দিয়েছে নেপালের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস। এই মানচিত্রে কালাপানি, লিপুলেখ এবং লিম্পিয়াধুরার মতো বিতর্কিত এলাকা নেপালের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। ভারত সরকার অনেক আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই এলাকা পুরোপুরি ভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডের অংশ। এ নিয়ে নয়াদিল্লির মনোভাব নেপাল সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়াও হয়েছে। তা সত্ত্বেও মঙ্গলবার সর্বসম্মত ভাবে মানচিত্রটিতে অনুমোদন দেয় নেপালের হাউস।

এই বিল নিয়ে নেপালের শাসকদলের পাশে দাঁড়িয়েছে বিরোধীরাও। প্রথমে দূরত্ব বজায় রাখলেও পরে বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছে মাধেসিরা। নয়া মানচিত্রে অনুমোদন দেয়ার পর নেপাল সরকারের বক্তব্য, তারা আলোচনার মাধ্যমেই ভারতের সঙ্গে বিবাদ মেটাতে চায়। নেপালি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গায়াওয়ালির বক্তব্য, ‘কালি নদী নেপাল এবং ভারতের সীমান্ত। এটা স্বীকার না করার কোনও কারণ নেই। প্রয়োজনে ঐতিহাসিক দলিল এবং তথ্য তুলে ধরে আমরা আলোচনায় যেতে প্রস্তুত।’ সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কাউকে এক ইঞ্চিও জায়গা ছাড়তে নারাজ ভারত সরকার। এমন পরিস্থিতিতে নেপালের সঙ্গে এই বিবাদ কী ভাবে মেটে, সে দিকে তাকিয়ে সবাই। সূত্র: রয়টার্স।

 



 

Show all comments
  • বংগো বিড়াল ১১ জুন, ২০২০, ১০:০৪ পিএম says : 0
    বাংলাদেশ হবে হিন্দুস্থান বা ব্রিটিশ স্থান. সৌদিদের সাথে বাংলাদেশ আর যাবেনা. বাংলাদেশের সব মানুষ একথা জানে.
    Total Reply(0) Reply
  • রেজাউল করিম মুকুল ১৪ জুন, ২০২০, ৮:৩৯ পিএম says : 0
    ভারতীয় ও চিনা সেনাবাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক কালে সবচেয়ে বড়, বেশিদিনের দ্বন্দ্ব তৈরি হয় ২০১৭র ১৬ জুন থেকে ডোকালামে দুপক্ষের সংঘাতে। ৭৩ দিন চলেছিল অচলাবস্থা। শেষ হয়েছিল ২০১৮র ২৮ আগস্ট। বিতর্কিত এলাকায় চিনা সেনাবাহিনীর রাস্তা নির্মাণ ভারতীয় বাহিনীর বন্ধ করা থেকেই এর সূত্রপাত ঘটে। ডোকালাম সংঘাতের কয়েক মাস বাদে ২০১৮-র এপ্রিলে চিনের উহান শহরে অনুষ্ঠিত প্রথম অঘোষিত শীর্ষ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই দুই নেতা গত বছর ২০১৯খ্রিঃ অক্টোবরে চেন্নাইয়ের কাছে মমল্লপুরমে দ্বিতীয় অঘোষিত শীর্ষবৈঠক করেন। উভয় দেশের মাঝে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। গত বছর ২০১৯খ্রিঃ সেপ্টেম্বরে পূর্ব লাদাখে পাংঅং হ্রদের ধারে উভয় পক্ষের সৈন্যদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৭খ্রিঃ ১৬ জুনে শুরু হওয়া ডোকালামের যুদ্ধ স্হায়ী হোয়েছিলো ৭৩দিন। চিন লাদাখের ৬৪০ বর্গ কিমি অঞ্চল অনায়াসে জবর দখল করে রেখেছিল। পরে দু’দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এ নিয়ে বৈঠকে বসায় সমস্যার একটা জোড়াতালি সমাধান হোয়েছিলো ২০১৮ এর ২৮ আগষ্ট। সে সময় যুদ্ধের কষ্ট হজম করেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এপ্রিলের ২৭ ও ২৮ তারিখে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী করোনার আতুর ঘর উহান শহরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে যোগ দেন। তামিলনাড়ুর মাল্লাপুরমে শুক্রবার ১১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মুখোমুখি হওয়ার আগে বুধবার (৯ অক্টোবর) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তিনি শি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কাশ্মীর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কে ঠিক, কে ভুল, সেটা চিনের কাছে পরিষ্কার। জাতিসংঘে কাশ্মির ইস্যুতে চিন-রাশিয়া উভয় দেশ পাকিস্হানকে সমর্থন ও সাহায্য করেছে, আগামীতেও করবে। কাশ্মীর ইস্যুতে ‘তেহরান, তুরষ্ক ও মালয়শিয়া শুরু থেকে ভারতের কাশ্মির গলাধকরণ সমর্থন করে নাই। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে গত বছর ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করে ভারত গায়ের জোরে কাশ্মির দখল করে নিয়েছে। শি বরাবরের মতো আবার বলেছেন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির বদল ঘটলেও চিন ও তার সব সময়ের বন্ধু পাকিস্তানের সম্পর্ক ‘পাথরের মতো শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং তা ‘অটুট, ‘ভাঙবে না। চিন-পাক সহযোগিতা সর্বদা শক্তিশালী প্রাণরস বজায় রেখেছে। শি ওইদিন দুপুরে চেন্নাই থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাত করে সোজা উড়ে আসেন নেপালে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ১২ ও ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রীয়ভাবে নেপাল সফর করেছেন। ২৩ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো চিনা নেতা নেপাল সফর করলেন। নদী ও পর্বতমালা দিয়ে সংযুক্ত চীন ও নেপাল ২০১৭ সালে চীনা প্রস্তাবিত বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা প্রশ্নে সমঝোতা স্মারক সই করার পর থেকে দুই প্রতিবেশী ট্রান্স-হিমালয়ান মাল্টি-ডাইমেনশনাল কানেকটিভিটি নেটওয়ার্ক নির্মাণে হাত মেলানোর পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত বিশেষ অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা করেছে; বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উৎপাদন সামর্থ্য, রেলওয়ে, মহাসড়ক, বন্দর, বিমান চলাচল, জ্বালানি, জনগণ পর্যায়ে বিনিময় বাড়িয়েছে। এর ফলে ভারতের ল্যান্ড লক নেপাল চিনের সাথে ভূ-সংযুক্ত দেশে পরিণত হয়েছে। নেপাল ভারত ভূবেষ্ঠিত হলেও স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। এর প্রতিবেশী মাত্র দুটি: চীন ও ভারত। নেপালকে কাছে পেতে চিনের ৫ হাজার ৬০০ কোটি রুপি (৫৬ বিলিয়ন) সহায়তার ঘোষণায় নেপালে নয়া বসন্তের আগমন ঘটেছে। হিমালয়ের উভয় পারের লোকজন হাত মিলিয়ে অভিন্ন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছে। চিন নেপালের এতটা মাখামাখি ভারতের জন্য শুধু অস্বস্হি নয় ভয়েরও কারণ বটে। রেজাউল করিম মুকুল, ১৪ জুন, ২০২০খ্রিঃ
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মানচিত্র


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ