Inqilab Logo

ঢাকা, রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

সৈয়দপুরে হোমিও ওষুধ ‘আর্সেনিক আলবাম’ দশগুণ দামে বিক্রি

করোনা চিকিৎসায় গুজব

সৈয়দপুর (নীলফামারী) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১২ জুন, ২০২০, ১১:০৯ এএম

হোমিও ওষুধ ‘আর্সেনিক আলবাম’ সেবন করলে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব এমন গুজবে ক্রেতার ঢল নেমেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের হোমিও ওষুধের দোকানগুলোতে । আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এখানকার কিছু দোকানি কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ইচ্ছেমতো হাঁকাচ্ছেন দাম। তারা দশ টাকা মূল্যের এক ড্রাম (শিশি) ওষুধ বিক্রি করছেন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দামে। এরপরও ‘তরল’ অবস্থায় মিলছে না ওষুধটি।

তবে নীলফামারী সিভিল সার্জন ডাঃ রনজিৎ কুমার বর্মন বলেন, পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের কোনো কার্যকর প্রতিষেধক আবিস্কার হয়নি। ওই হোমিও ওষুধটিতে করোনা নিরাময়ের খবর শ্রেফ গুজব। একটি চক্র সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে ব্যবসায়িক ফায়দা লোটার জন্য এমন খবর রটিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে একটি চক্র শহরময় রটিয়ে দেয় মহামারী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে হোমিও ‘আর্সেনিক আলবাম’ ওষুধটি খুবই কার্যকর। এটি সেবন করলে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এমন প্রচারণায় সাধারণ মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন হোমিও ওষুধের দোকানগুলোতে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কতিপয় ফার্মেসীর মালিক বাড়তি মুনাফার লোভে ওষুধটি দশগুণেরও বেশী দামে বিক্রি করছেন। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তারা ওষুধটির সরবরাহ পাচ্ছেন কম। অপরদিকে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওষুধটির প্রচুর চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বেশী দাম নিচ্ছেন।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে শহরের মডার্ণ হোমিও ফার্মেসীতে ‘আর্সেনিক আলবাম’ কিনতে আসা সৈয়দপুর শহরের কুন্দল এলাকার মুন্না দাস জানান, শুধু ‘তরল’ অবস্থায় ওষুধটি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গুলি মিশ্রিত অবস্থায় ওষুধটি (এক ড্রাম) ৮০ টাকায় কিনলাম। অথচ গত এক সপ্তাহ আগে ১৫ টাকায় কিনেছি। এদিকে একই পরিমাণ ওষুধ ওই ফার্মেসী থেকে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের সোনাখুলী গ্রামের কৃষ্ণ কমল রায় কিনেছেন ১০০ টাকায়, জিয়াউর রহমান চৌধুরী কিনেছেন ১২০ টাকায়, কামারপুকুর ইউনিয়নের নিজবাড়ি হিন্দুপাড়ার তুলসী দাস ও বাঙালীপুর ইউনিয়নের অশোক রায় কিনেছেন ১৩০ টাকা দামে। অর্থাৎ একেক জনের কাছে একেক রকম দাম নেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে মডার্ণ হোমিও ফার্মেসীর মালিক মো. জাবেদ আলম বলেন, ওষুধটির চাহিদার তুলনায় বর্তমানে সরবরাহ খুবই কম। তাই বিক্রয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বেশী দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে ওষুধটির দাম বর্তমানে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। হোমিও চিকিৎসক ডাঃ শামছুল হক জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে সিন্ডিকেট করে ওষুধটির দাম দশগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওষুধটি বিভিন্ন রোগে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া এটি সেবন করলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে। করোনার যে ধরণের উপসগর্, এতে ‘আর্সেনিক আলবাম’ দিয়ে চিকিৎসা করা যেতে পারে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: গুজব


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ