Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

শরণখোলার রায়েন্দা বাজারের তিনশত পরিবার পানিবন্দি

রান্না-গোসল ও পায়খানায় যেতে দুর্ভোগ

শরণখোলা (বাগেরহাট) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৫ জুন, ২০২০, ৩:৪৩ পিএম

শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের তিনশত পরিবার প্রায় একমাস ধরে পানি বন্দি হয়ে আছে। পানিবন্দি পরিবারগুলো রান্নাবান্না করতে এবং বাথরুমে যেতে পারছে না। ঘর থেকে পানি-কাঁদা ভেঙ্গে বাইরে বের হতে হচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরম দুর্ভিসহ হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মানাধিন বেড়িবাঁধের কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানাগেছে।
সোমবার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুলের পিছন থেকে খাদ্য গুদাম পর্যন্তা প্রায় তিনশত পরিবার পানিবন্ধি। পরিবারের নারী সদস্যরা তাদের শিশু সন্তানদের নিয়ে একরকম গৃহবন্ধি হয়ে আছে। রান্না ঘরে পানি ওঠায় অনেকে ঘরের মেঝেতে চুলা পেতে রান্না করছেন। পায়খানা ডুবে যাওয়ার সর্বত্র ময়লা পনিতে সয়লাব হয়ে গেছে। পরিবারের পূরুষ সদস্যদের জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে ময়লা পানি পেরিয়ে বের হতে হচ্ছে।
এসময় কথা হয় আউয়াল খানের স্ত্রী তহমিনা বেগম, হিরু হাওলাদারের স্ত্রী ময়না বেগম, বিধবা রহিমন বেগমের সাথে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘুর্ণিঝড় আম্পানের পর থেকে বৃষ্টির পানি আটকে জলাবব্ধতার সৃষ্টি হয়। এরপর গত এক সপ্তাহ ধরে অব্যাহত বৃষ্টিতে পানি আরো বেড়ে গিয়ে ঘর-বাড়ি সব তলিয়ে গেছে। আমরা রানাবান্না, গোসল ও পায়খানায় যেতে পারছি না। ঘর থেকে পাঁ ফেলতেই ময়লা পানি। এসব দেখার যেন কেউ নেই।
ওই এলাকার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক ওমর ফারুক, কাঠ ব্যাবসায়ী খলিল খা, শহিদুল খা, লতিফা খা, ফারুক খা জানান, আমাদের জীবিকার তাগিদে কাঁদা ও ময়লা পানি ভেঙ্গে বাইরে বের হতে হচ্ছে। তাই কাজের তাগিদে সারাদিন আমারা বাইরে থকি। কিন্তু পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যরা চরম দুর্ভিসহ জীবনযাপন করছে। ময়লাযুক্ত পানি গায়ে লেগে অনেকের চুলকানিসহ চর্ম রোগ দেখা দিয়েছে। রায়েন্দা খালের পাশ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মানাধিন শহর রক্ষা বেড়ি বাঁধের কারনে পানি নিষ্কাশনের সব পথগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে বিকল্প ড্রেন কেটে পানি নিষ্কাশনের দাবী জানান।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য জালাল আহম্মেদ রুমি জানান, পাঁচ ছয়টি পয়েন্টের পানি নিষ্কাশনের পথ বেড়িবাঁধের কারনে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দ্রুত ড্রেন নির্মান না করলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।
রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, রোববার একটি পয়েন্ট থেকে পাইপ দিয়ে পানি নামানো ব্যাবস্থা করা হয়েছে কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। আরো একটি পাইপের ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। মূলত বেড়ি বাঁধের সাথে ১০ টি ড্রেন ধরা রয়েছে কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা এখনো নির্মান করছে না। এছাড়া এক কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যায়ে একটি বড় ড্রেন নির্মানের প্রলল্পের কাছ করোনা পরিস্থিতির কারনে শুরু হচ্ছে না। এগুলো নির্মান হয়ে গেলে আর এ সমস্যা থাকবে না।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, বিকেলে তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখবেন। এছাড়া বাঁধ প্রকল্পের কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান।
এ ব্যাপারে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, সিএইচডাব্লিউ নামের চায়নার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি বর্ষা মৌসুমে কাজ করে না। তাই অধিকাংশ কর্মী ছুটিতে চলে গেছেন। যারা আছেন তারা আবার করোনার কারনে বের হচ্ছেন না। তারপরও আলাপ আলোচনা করে এ বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ