Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

লবণ উৎপাদনে রেকর্ড

ন্যায্যমূল্য ও বোর্ডের ঘোষণা বাস্তবায়ন চায় চাষিরা

শামসুল হক শারেক, কক্সবাজার থেকে | প্রকাশের সময় : ১৭ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম

কক্সবাজার অঞ্চলের লবণ মাঠে গত ৫৮ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। এ বছরে ২০ লাখ ৩ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় দেড় লাখ মেট্রিক টন বেশি। এতে চাষি ও লবণ সংশ্লিষ্টরা অনেক খুশি। তবে তারা লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ ও সম্প্রতি ঘোষিত লবণ বোর্ডের বাস্তবায়ন চায়।

লবণ দেশের একটি স্বনির্ভর খাত হওয়া সত্তে¡ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং নানা অযুহাতে লবণ আমদানি হওয়ায় এ খাত সংরক্ষণে একটি বোর্ড গঠনের দাবি ছিল বহুদিনের। গত ৬ মার্চ কক্সবাজারে এক লবণ চাষি সমাবেশে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন কক্সবাজারে লবণ বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে চাষিদের খুশি করেছেন। লবণ চাষি ও লবণ সংশ্লিষ্টরা শিল্পমন্ত্রীর এই ঘোষণা বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদী। তবে করোনা মহামারিতে লবণ বোর্ড ঘোষণার বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, সদর ও টেকনাফ ছাড়াও বাঁশখালীতে লবণ উৎপাদন হয়। চলতি মৌসুমে দেশে লবণের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ লাখ ৪৯ হাজার মেট্রিক টন। বিসিকের সেই চাহিদা ছাড়িয়ে এবারে লবণ উৎপাদন হয়েছে ২০ লাখ ৩ হাজার মেট্রিক টন। জেলায় ৬৪ হাজার একর জমিতে ৩৫ হাজার চাষি রাত-দিন পরিশ্রম করে এই লবণ উৎপাদন করেন।

বিসিক সূত্রমতে, চলতি মৌসুমে কক্সবাজার জেলায় রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদিত হয়েছে যা গত ৫৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তীব্র দাবদাহের কারণেই লবণ উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ফলে লবণ আমদানির প্রয়োজন নেই। বর্তমানে চাহিদার চেয়ে উদ্ধৃত্ত আছে দেড় লাখ টন। গত বছরের অবিক্রিত লবণ জমা আছে আরো দুই থেকে আড়াই লাখ মেট্রিক টন। তবে মাঠের প্রান্তিক চাষিরা বাম্পার উৎপাদনে খুশি হলেও দাম নিয়ে এখন তারা হতাশ।

চলতি মৌসুমের লবণ চাষ শেষ হয়েছে। কক্সবাজার জেলা সদরসহ মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, পেকুয়া, চকরিয়া উপজেলায় এবার প্রতিদিন গড়ে উৎপাদিত হয়েছে ৩০ হাজার মেট্রিক টন। যা অন্য সময় ছিল ২০ হাজার মেট্রিক টন। বিসিক কক্সবাজার লবণশিল্প উন্নয়ন প্রকল্প সূত্র জানায়, চাষিরা গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সময়েই লবণ উৎপাদনে এই রেকর্ড করেছেন।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, কক্সবাজারে বাণিজ্যিকভাবে লবণ উৎপাদন শুরু হয় ১৯৬০ সালে। সেই থেকে গত ৫৮ বছরে ১৮ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের রেকর্ড নেই। কেবল ২০১৩ মৌসুমে লবণ উৎপাদন হয়েছিল ১৭ লাখ ৫২ হাজার মেট্রিক টন। উপক‚লের মাঠজুড়ে এখন সাদা লবণের স্ত‚প আর স্ত‚প। সেখান থেকে বড় বড় কার্গো ট্রলার বোঝাই করে লবণ নেয়া হচ্ছে চট্টগ্রামের পটিয়া, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: লবণ

২১ জানুয়ারি, ২০২০
১৯ নভেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ