Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

কামরুল হাসান দর্পণ | প্রকাশের সময় : ১৯ জুন, ২০২০, ১২:০৩ এএম

যদি প্রশ্ন করা হয়, এই সময়ে কর্মজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল অবস্থায় আছে কারা? কারা অর্থনৈতিকভাবে সুরক্ষিত এবং নিশ্চিন্ত? কাদের চাকরি হারানোর ভয় এবং কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কা নেই? এসব প্রশ্নের উত্তরে সকলেই একমত হবেন এবং বলবেন, সরকারি চাকরিজীবীরা। দেশ যতই দুর্যোগে পড়–ক না কেন, তাদের কর্মের নিশ্চয়তা যেমন রয়েছে, তেমনি বেকার হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর বাইরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে যে কোটি কোটি মানুষ নিয়োজিত, তাদের কর্মের কোনো গ্যারান্টি নেই এবং তাদের অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছে, পড়ছে ও আশঙ্কার মধ্যে আছে। ইতোমধ্যে মানুষের কর্মহীন হয়ে পড়া এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার খবর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গত সপ্তাহে বেসরকারি সংস্থা পিপিআরসি এবং ব্র্যাকের জরিপে বলা হয়েছে, করোনার কারণে সাধারণ ছুটি চলাকালীন, নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ৩ কোটি ৬৯ লাখ ৪৪ হাজার মানুষ। করোনার আগে দরিদ্র ছিল ৩ কোটি ৩০ লাখ। সব মিলিয়ে ৭ কোটি মানুষ কর্মহীন এবং দারিদ্র্যসীমায় রয়েছে। তার অর্থ হচ্ছে, দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ দরিদ্র। দরিদ্র মানুষের এই বিশাল বোঝা নিয়ে দেশের অর্থনীতির এগিয়ে যাওয়া শুধু কঠিনই নয়, সুকঠিন। কবে এসব মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং অভাব-অনটন ও দারিদ্র্যমুক্ত হয়ে জীবনযাপন করবে, তা অনিশ্চিত। যে দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই দরিদ্র, সে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি যে দুর্বল, তা করোনা বুঝিয়ে দিয়েছে।

দুই.
এতদিন সরকার আমাদের অর্থনীতি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল বা কীভাবে উন্নতি করতে হয়, উন্নত বিশ্বও আমাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে বলে বলেছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী সংস্থাগুলোও বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। করোনার সংক্রমণ শুরুর আগে সরকারের কেউ কেউ বলেছেন, অর্থনীতিতে আমরা সিঙ্গাপুরকেও ছাড়িয়ে গেছি। এসব কথাবার্তা শুনে দেশের মানুষ পুলকিত হয়েছে। তবে প্রকৃত অর্থে আমরা কতটা উন্নতি করেছি, তা টেস্ট কিটে বা টেস্টিং পেপারে মাপার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ফলে সরকার বা বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার কথাবার্তার ওপরই আমাদের উন্নতির বিষয়টি পরিমাপ করতে হয়েছে। উন্নতির প্রধানতম সূচক হিসেবে জিডিপির গ্রোথ এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিকে উপস্থাপন করা হয়েছিল। এ নিয়ে সরকারের আনন্দের সীমা ছিল না। প্রতি বছরই জিডিপি ও মাথাপিছু আয় লাফিয়ে বাড়ার ঘোষণাও দেয়া হতো। অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন সংস্থা এর সাথে দ্বিমত পোষণ করলেও সরকারের তাতে কিছু যেতো আসত না। বরং উন্নতির সূচক ঊর্ধ্বমুখী এ কথায় অটল ও অবিচল ছিল। দুঃখের বিষয়, এক করোনায় সরকার ঘোষিত উন্নয়নের ঊর্ধ্বমুখী সূচকের গ্রাফটিকে মুহূর্তে মাটিতে শুইয়ে দিয়েছে। উন্নয়নের যে রঙ্গিন ফানুস উড়ানো হয়েছিল, তা যেন চোখের পলকে হাওয়া ছেড়ে চুপসে গেছে। ইমার্জিং টাইগার ঝিমিয়ে পড়েছে। সারাবিশ্বে আমরা এখনও উন্নয়নের রোল মডেল বা সিঙ্গাপুরের চেয়ে এগিয়ে আছি কিনা, তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে বোঝা যাচ্ছে, সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি এখনও অটুট এবং ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অন্যদিকে, সাত কোটি দরিদ্র বাংলাদেশীর বোঝার ভারে যে আমরা নুব্জ্য হয়ে আছি, তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। এই সাত কোটি মানুষের দারিদ্র্য দূর করা এবং এদের মধ্যে কর্মপোযোগী ও কর্মহারাদের কর্মসংস্থান করা কি সহজ ব্যাপার? যেখানে করোনার আগে সরকারি হিসেবে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ছিল ২০.৫ শতাংশ বা ৩ কোটি ২০ লাখের মতো, করোনার ছোবলে এটা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশ বা ৭ কোটির মতো। এটা পরিসংখ্যানগত তথ্য। এ হিসাবের বাইরে যে আরও অসংখ্য মানুষ রয়েছে, তা বলা বাহুল্য। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, সরকারের ভাষ্যমতে, আমরা যেভাবে উন্নতির জোয়ারে ভেসে যাচ্ছিলাম, তা যে করোনার এক ধাক্কায় ভাটায় পরিণত হবে, তা কল্পনাও করা যায়নি। এর কারণ কি? কারণ হচ্ছে, সরকার তার কাছ থেকে সুবিধা পাওয়া একটি শ্রেণীর শনৈশনৈ উন্নতিকেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে ধরেছিল। তার হিসাবটি ধনী শ্রেণীর আয়-রোজগার এবং জিডিপি বৃদ্ধিকে ধরে করা হয়েছিল। অর্থাৎ দেশের ৯৫ শতাংশ সম্পদের মালিক যে ৫ শতাংশ মানুষের হাতে, তাদের উন্নতি ও অগ্রগতিই ছিল সরকারের পরিসংখ্যানের হিসাব। বলা যায়, উন্নয়নের তথ্য ও তত্ত¡ এই শ্রেণীর মানুষের উন্নতির পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। অর্থনীতিবিদরা বরাবরই বলেন, পরিসংখ্যান সবসময় সঠিক তথ্য দেয় না। তারা এ কথাও বলেছেন, সরকারের কাছে উন্নয়নের পরিসংখ্যান অবশ্যই থাকতে হবে এবং তা পুরোপুরি সঠিক না হলেও বাস্তবতার কাছাকাছি হতে হবে। সুতাছাড়া বেলুন হওয়ার মতো হলে চলবে না। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সরকারের অর্থনৈতিক উন্নতির পরিসংখ্যানটি হয়ে পড়েছে সুতাছাড়া বেলুনের মতো, যা হাওয়ায় ভেসে উড়ে গেছে। যে জিডিপি নিয়ে সরকারের এত গর্ব এবং গত অর্থবছরে ৮.২ শতাংশ হবে বলে ধরা হয়েছিল, আগামী অর্থবছরেও একই হার ধরা হয়েছে, তা যে অর্জিত হবে না বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য সংস্থা ইতোমধ্যে বলে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, চলতি অর্থবছর (২০১৯-২০) জিডিপি হবে ১.৬ শতাংশ এবং আগামী অর্থবছরে (২০২০-২১) তা আরো কমে হবে ১ শতাংশ। এটা কি ভাবা যায়, মাত্র তিন-চার মাসের করোনার ধাক্কায় বিগত প্রায় এক দশক ধরে ক্রমবর্ধমান জিডিপি ৮ থেকে ১ শতাংশে নেমে আসবে! এটা কেমন করে হয়? আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতির ভিত্তি যদি মজবুতই হয় এবং অর্থনৈতিক মহামন্দায় এ হার কমা স্বাভাবিক ধরে নেয়া হয়, তারপরও তা একেবারে বেস লেভেলে নেমে যাবে, এট কি কল্পনা করা যায়? এক-দুই শতাংশ কমা বা সরকারের টার্গেটের অর্ধেক কমে গেলেও, মানা যেত। এ থেকে বোঝা যায়, আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতির ভিত্তিটি অত্যন্ত দুর্বল এবং তা কেবল সরকারের কথামালার পলেস্তেরা হয়ে ছিল, করোনার ধাক্কায় তা ঝুরঝুর করে খসে পড়েছে। করোনাকালে মানুষের মাথাপিছু আয় কত হয়েছে এখন তার হিসাব করা জরুরি। সরকারের হিসাবে বর্তমানে মাথাপিছু আয় ২১০০ মার্কিন ডলার। এ হিসাব নিয়ে বরাবরই বিতর্ক থাকে। শুভংকরের ফাঁকি হিসেবে ধরা হয়। তবে করোনার কারণে মানুষের যে আয় কমেছে, তা হিসাব না করলেও খালি চোখে দেখা যায়। পিপিআরসি ও ব্র্যাক-এর জরিপে বলা হয়েছে, করোনার কারণে অতিদরিদ্রের আয় কমেছে ৭৩ শতাংশ, মধ্যম দরিদ্রের ৭৫ শতাংশ, দারিদ্র্যসীমার বাইরের মানুষের রোজগার ৬৫ শতাংশ কমে গেছে। এসব মানুষের আয় আবার কবে তাদের সক্ষমতার মধ্যে আসবে কিংবা আদৌ আসবে কিনা, তা অনিশ্চিত। যদি তা না হয়, তবে দেশ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

তিন.
সরকারের সামনে দেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তাকে অত্যন্ত কঠিন ও দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হবে। প্রথমত, সাত কোটি দরিদ্র মানুষের মৌলিক চাহিদা খাদ্যের সংস্থান করে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা ঠেকাতে হবে। শুধু এদেরই নয়, অন্যদের খাবার সরবরাহও বজায় রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, এসব মানুষের মধ্যে কর্মপোযোগী এবং কর্মহারাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করতে হবে। এ দুটি কাজ সবার আগে করা জরুরি। এ কথা স্বীকার করতে হবে, দেশ ধান-চালে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। শাক-সবজির উৎপাদনও বেড়েছে। মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বের তিন নম্বর দেশে রয়েছে। এসব দিক বিবেচনায় সরকারের পক্ষে দরিদ্র মানুষের খাদ্য সংস্থান করা অসম্ভব কিছু নয়। প্রয়োজন শুধু খাদ্য বিতরণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি, করোনাকালীন খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে চাল, ডাল, তেল চুরির হিড়িক পড়েছে। চুরির সাথে সরকারি দলের লোকজনই জড়িত এবং অনেকে ধরা পড়েছে, শাস্তিও পেয়েছে। এসব চোর যে ইঁদুরের মতো সরকারের সহযোগিতা খেয়ে ফেলছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তারা সরকারের লোকজন হলেও, প্রকারন্তরে সরকার ও জনগণের শত্রæ। কোথায় তারা সরকারের উদ্যোগকে সফল করে ভাবমর্যাদা উজ্জ্বল করবে তা না, উল্টো চুরিদারি করে সরকারের বদনাম করে বিপদে ফেলছে! এদের যদি সরকার সাময়িক শাস্তির বদলে কঠোর-কঠিন শাস্তি না দেয় এবং দল থেকে চিরতরে বহিষ্কার না করে, তবে তারাই যে দেশে দুর্ভিক্ষের কারণ হয়ে উঠবে, তাতে সন্দেহ নেই। এই সরকারেরই অতীত ইতিহাসে এমন ঘটনার নজির রয়েছে। আমরা যদি ’৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের দিকে তাকাই তাহলে দেখব, সে সময় খাদ্যের কোনো অভাব ছিল না। অথচ মানুষকে খাদ্যাভাবে মরতে হয়েছে। এর কারণ, সরকারের লোকজনই তখন রিলিফের সামগ্রী লোপাট করেছে। স্বয়ং বঙ্গবন্ধুকে পর্যন্ত বলতে হয়েছে, সবাই পায় সোনার খনি, আমি পেয়েছি চোরের খনি। সরাবিশ্ব থেকে আমি ভিক্ষা করে আনি, চোরের দল সব খেয়ে ফেলে। ক্ষমতাসীন দলের সামনে যেহেতু এই দৃষ্টান্ত রয়েছে, তাই তা বিবেচনায় নিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বাঁচানোর ত্রাণ কর্মসূচিকে শতভাগ সফল করা ছাড়া বিকল্প নেই। যতদিন না এসব মানুষের অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত তাদের এই খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি দিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি এসব মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মসংস্থানের বিষয়টি নির্ভর করে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের ওপর। বিগত বছরগুলোতে দেশের বিনিয়োগের চিত্রটি আশাপ্রদ নয়। গত পাঁচ বছরে বেসরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে জিডিপির মাত্র ১ শতাংশ। আর করোনার ধাক্কায় তা ২৪.২ শতাংশ থেকে ১২.৭ শতাংশে নেমে গেছে। অর্থাৎ বিগত বছরগুলোতে বিনিয়োগের যে হার ছিল, মাত্র তিন মাসে তা অর্ধেকে নেমে গেছে। এ চিত্র থেকে বোঝা যায়, আমাদের অর্থনীতির ভিত্তি কতটা ফ্রাজাইল বা ভঙ্গুর। আসমানীর ভেন্নাপাতার ছানি দিয়ে তৈরি ঘরের মতোই। বেসরকারি বিনিয়োগের হারকে আগের ২৪.২ শতাংশে ফিরিয়ে নিয়ে বৃদ্ধি করতে হলে কত কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে, তা সহজেই অনুমেয়। এ হিসেবে আমরা উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে গেছি। আমরা কতটা উন্নতি করেছি, তা প্রকাশিত হয়েছে। এবারের বাজেটে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৪ শতাংশের উপরে। অর্থাৎ আগে যা ছিল সেই অবস্থানে ফেরা। এর অর্থ হচ্ছে, পিছিয়ে যাওয়া বিনিয়োগকে আবার লাইনে দাঁড় করানো। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, করোনাকালে বিনিয়োগের এ লাইন স্পর্শ করতে হলে দ্রæত করোনার অবসান হতে হবে। তা নাহলে, বিনিয়োগ বলতে কিছু থাকবে না। অবশ্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। ১০০ টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে ১৭টি চালু হয়েছে। এতে বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ স্থানান্তরিত হবে। তিনি বলেছেন, বিদেশী বিনিয়োগের জন্য সব ধরনের প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া বিদেশী কোম্পানিকে দেশী কোম্পানি হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। এতে বিনিয়োগ বাড়বে। তবে এসবই আশাবাদের কথা। আবার আশার মধ্যে রয়েছে, করোনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোর অনেক কোম্পানি চীন থেকে সরে আসছে। তারা অন্যদেশে স্থানান্তরিত হবে। এ খবরে ভারত ও ভিয়েতনাম কোম্পানিগুলোকে নিয়ে আসার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের সরকার কতটা তৎপর তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

চার.
বিশ্ব অর্থনৈতিক উন্নতি ও অগ্রগতির পথে যে করোনা বাধা হয়ে রয়েছে, তা সাবার জানা। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে তা পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পাহাড় টপকাতে কত পরিশ্রম করতে হবে, তা বুঝিয়ে বলার অবকাশ নেই। তবে বসে থাকলে হবে না, তা টপকানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। একদিকে এর মোকাবিলা করতে হবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক কর্মকাÐ চালাতে হবে। এখন আর আগের মতো কথামালার ফুলঝুরি ছড়িয়ে লাভ নেই। আক্ষরিক অর্থেই প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তরিক হতে হবে। আমাদের ভাবতে হবে আমরা ‘জিরো লাইনে’ দাঁড়িয়ে আছি। এখান থেকেই করে শুরু করতে হবে। সবার আগে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং তা সচল করতে হবে। মানুষের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। ইতোমধ্যে গার্মেন্টসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ইতোমধ্যে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া যাতে করা না হয় এ ব্যাপারে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারই পারে এ ছাঁটাই বন্ধ করতে। তা নাহলে, বেকার হওয়ারা সরকারেরই বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রকে আরও সংকুচিত করবে। সরকারের উচিত হবে, যেসব খাত ও প্রতিষ্ঠানে চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে যাতে তা না হয়, তা নিশ্চিত করা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক পক্ষকেও এ ব্যাপারে সহযোগিতা করতে হবে। তাদের আরাম-আয়েশে যদি একটু ঘাটতিও হয়, তবু মানবিক বিবেচনায় শ্রমিক ও কর্মচারী ছাঁটাই বন্ধ এবং কৃচ্ছ¡সাধন প্রক্রিয়া অবলম্বনের মাধ্যমে দুঃসময় মোকাবিলা করা উচিৎ। সরকারের উচিত হবে বিদেশী বিনিয়োগ আনার জন্য উন্নত বিশ্বের দ্বারে দ্বারে যাওয়া। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে যত দ্রæত সম্ভব বিনিয়োগের উপযোগী করে তোলা। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের যত ধরনের সুবিধা দেয়া সম্ভব তা দিতে হবে। দ্রæততার সাথে এ কাজ করতে পারলে কোটি মানুষের যেমন কর্মসংস্থান হবে, তেমনি এ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত-উপখাত সৃষ্টি হবে। এতে অর্থনীতি চাঙা হয়ে উঠবে।
[email protected]



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কর্মসংস্থান


আরও
আরও পড়ুন