Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ২১ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

নাজুক অবস্থায় চট্টগ্রাম

এবারও পানিবদ্ধতার শঙ্কা ৪ মেগাপ্রকল্পে ধীরগতি

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ২০ জুন, ২০২০, ১২:০২ এএম

বর্ষা শুরু হতেই দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে দেখা দিয়েছে পানিবদ্ধতার শঙ্কা। গত তিনদিনে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতেও অনেক এলাকায় পানি জমে গেছে। ভারী বর্ষণ শুরু হলে এবারও নগরীর বেশিরভাগ এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পৌনে এককোটি মানুষের এই মহানগরীকে পানিবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষায় হাজার কোটি টাকার চারটি মেগাপ্রকল্প নেওয়া হয়েছে। করোনা মহামারীসহ নানা কারণে এসব প্রকল্পে ধীরগতিতে নাজুক অবস্থায় চট্টগ্রাম। এসব প্রকল্পের সুফল নিয়ে রয়েছে সংশয়। 

ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল আর জোয়ারে প্লাবিত হলে করোনকালে জনদুর্ভোগের সাথে প্রতিবারের মতো বাসা বাড়ি, মার্কেট, গুদাম আড়তে মালামালসহ সম্পদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পানিবদ্ধতা হলেও আগের মতো ভয়াবহ হবে না। নগরীর প্রধান প্রধান খালগুলো দ্রæত পরিষ্কারে কাজ শুরু হয়ে গেছে।
কিন্তু বাস্তব চিত্র উল্টো। চাক্তাই খালসহ মহানগরীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান তিনটি খাল এখন আবর্জনার ভাগাড়। চাক্তাই, রাজাখালী ও মহেশখালের মুখে রেগুলেটর নির্মাণ কাজ চলছে। মুখে বাঁধ দেওয়ায় এসব খালের পানি বাইপাস হয়ে চলাচল করছে। ফলে স্বাভাবিক স্রোত হারিয়ে খালের বিরাট অংশ ভরাট হয়ে গেছে।
বড় খালের এমন বেহাল দশায় শাখাগুলো রীতিমত কাঁচা রাস্তার রূপ নিয়েছে। সদরঘাট থেকে কর্ণফুলী সেতু পর্যন্ত আটটি খালে এখনো কাজ চলছে। অনেক খালে এখনো মাটির স্তুপ জমে আছে। পাহাড় কাটার ফলে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নেমে আসা বালি মাটিতে বেশিরভাগ খাল নালা ভরাট হয়ে গেছে। পলিথিনসহ গৃহস্থালির বর্জ্য জমেছে। সিটি কর্পোরেশন বর্ষার আগে এসব খাল নালা পরিষ্কার করেনি। প্রধান খাল থেকে নালা নর্দমার এ বেহাল দশায় ভারী বর্ষণে পানি ঠিকমতো প্রবাহিত হতে না পারলে নগরীতে ভয়াবহ পানিবদ্ধতা দেখা দেবে। আর ভারী বর্ষণে সময় জোয়ার থাকলে ডুবে যাবে সমৃদ্ধির এ মহানগরী। এ সমস্যা নিরসনে গত কয়েক বছরে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় হাজার কোটি টাকার চারটি মেগা প্রকল্প চলমান।
৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খাল আগের অবস্থায় আনা, খালের মুখে ৫টি সুইস গেইট বসানো, নতুন ১০.৭৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, এক লাখ ৭৬ হাজার মিটার দীর্ঘ রিটেনিং দেয়াল এবং খালের পাশে ৮৫.৬৮ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজও রয়েছে। প্রকল্পটি চলতি জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অনেক কাজ বাকি।
দুই হাজার ৫০ কোটি টাকায় চাক্তাই খাল থেকে কালুঘাট পর্যন্ত কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে মেরিন সড়ক নির্মাণের আরও একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। এ প্রকল্পেও গতি নেই।
সিটি কর্পোরেশন এক হাজার ২৫৬ কোটি টাকায় বহদ্দারহাটের বারই পাড়া থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত ২.৯ কিলোমিটার একটি খাল খনন শুরু করে। জানুয়ারিতে উদ্বোধন হলেও এখন কাজ প্রায় বন্ধ। পানি উন্নয়ন বোর্ড এক হাজার ৬২০ কোটি টাকায় একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়ার দেড় বছরেও কাজ শুরু হয়নি। নকশা প্রণয়নে আটকে আছে এই মেগাপ্রকল্পের কাজ।
সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ ইনকিলাবকে বলেন, এবারও পানিবদ্ধতা হবে, তবে তা আগের মতো ভয়াবহ হবে না। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় পানিবদ্ধতা হয় সেখানে খাল নালা দ্রুত পরিষ্কার করা হচ্ছে। আশা করি এবার মানুষের দুর্ভোগ হবে না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ