Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

সখীপুরের বহেড়াতৈল মুক্তিযুদ্ধের শপথস্তম্ভ সংরক্ষন করে সৌন্দর্যবর্ধন ও জাদুঘর নির্মানের দাবি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের

টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২১ জুন, ২০২০, ২:৫২ পিএম

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম টাঙ্গাইলে মুক্তিযুদ্ধের সুতিকাগার সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের সুন্দর্যবধন ও জাদুঘর নির্মানের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার সকালে টাঙ্গাইল শহরের নিজ বাস ভবনে দৈনিক ইনকিলাবকে দেওয়া একান্ত স্বাক্ষাতকারে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিশাল অধ্যায় জুড়ে রয়েছে রাজধানী ঢাকার বাইরে সখীপুরের বহেড়াতৈল। মুক্তিযুদ্ধে এই বহেড়াতৈল ছিলো কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান ঘাটি।
১৯৭১সালের ১০জুন কাদেরিয়া বাহিনীর বিভিন্ন ধর্মের লোকজন একত্রিত হয়ে ধর্মগ্রন্থ হাতে নিয়ে শপথ গ্রহন করেন দেশমাতৃকা স্বাধীন না করে ঘরে ফিরে যাবেন না। এ স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বাধীনতার ইতিহাসের সাথে পরিচয় করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৎকালীন টাঙ্গাইল-৮(সখিপুর-বাসাইল) আসনের এমপি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম উক্ত স্থানে একটি শপথ স্তম্ভ নির্মানের উদ্যোগ গ্রহন করেন। ১৯৯৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর তৎকালীন স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী শপথ স্তম্ভটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং শপথ স্তম্ভটির উদ্বোধন করার কথা ছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ এর। তা অজ্ঞাত কারনে হয়ে উঠেনি। পরবর্তীতে আ.লীগ সরকারের সাথে বঙ্গবীর আ.কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম এর বনিবনা না হওয়ায় শপথ স্তম্ভটির কার্যক্রম স্তমিত হয়ে যায়। অবহেলার কারনে বর্তমানে শপথ স্তম্ভটির চারপাশে ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ন হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এর পরেই টাঙ্গাইলের সখীপুরে বহেড়াতৈলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের সুন্দর্যবর্ধণ ও জাদুঘর নির্মানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, আমি ব্যক্তি উদ্যোগে স্মৃতিস্তম্ভের সুন্দর্যবর্ধণ ও জাদুঘর নির্মানের একটি নকঁশাও তৈরি করেছিলাম। কিন্তু সময়উপযোগী না হওয়ায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, বহেড়াতৈল শপথস্তম্ভের সামনে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মানের ঘটনায় আমি বিষ্মত ও মর্মাহত। এটি জাতির জন্য অত্যন্ত দূভার্গ্যজনক। তিনি এ ধরনের কাজ বন্ধ করার আহবান জানান।
অপরদিকে টাঙ্গাইলের সখিপুর বহেড়াতৈল বাজারের পাশে নির্মিত শপথস্তম্ভের সামনে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মানকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ.মানববন্ধন ও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। গত শনিবার(২০জুন) স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাগন ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন।
জানা যায় , গত ১১জুন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লাকী এন্টার প্রাইজ ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মান কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা,মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড ও এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে সখিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার আসমাউল হুসনা লিজা গত বৃহস্পাতিবার(১৮জুন) ওই ভবনের নির্মান কাজ সাময়িক বন্ধের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। এ নির্দেশকে অমান্য করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাকী এন্টার প্রাইজ ভবনের বেইস ঢালাই করলে ইউএনও শনিবার(২০জুন)উপজেলা প্রকৌশলী এসএম হাসান ইবনে মিজানকে শোকজ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) আসমাউল হুসনা লিজা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দাবীর মুখে ভূমি অফিসের নব নির্মিত ভবনের কাজ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ