Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪ আশ্বিন ১৪২৭, ০১ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতি দশ গুণ

চামড়া নিয়ে গত বছরের পরিস্থিতি কেউ প্রত্যাশা করি না : শিল্পমন্ত্রী চামড়া শিল্পের উন্নয়নে টাস্কফোর্স সভায় সালমান এফ রহমান

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ জুন, ২০২০, ১২:০৩ এএম

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান বলেছেন, হাজারীবাগে থাকাকালীন চামড়াশিল্প অনেক ভালো অবস্থানে ছিল। ২০১৭ সালে আমরা গায়ের জোরে তাদেরকে সাভারে পাঠিয়ে দেই। এতে করে দেশিয় এ শিল্পে ধ্বস নেমেছে। তিনি বলেন, এখনই উদ্যোগ না নিলে গত বছর আমরা যে রকম চামড়া রাস্তায় ফেলে দিতে দেখেছি। এ বছর তার চেয়েও আরো দশ গুণ ক্ষতি হবে।

গতকাল চামড়া শিল্পের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন টাস্কফোর্সের ২য় সভায় এসব কথা বলেন সালমান এফ রহমান। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের সভাপতিত্বে অনলাইনে জুমের মাধ্যমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী, শিল্প প্রতিমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং ট্যানারি মালিক ও ব্যবসায়ীরা। সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি অংশ নিতে পারেননি।

সালমান এফ রহমান বলেন, চামড়া শিল্পের ব্যবসায়ীদের সাভারে যাওয়ার জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ চাওয়া ছিল; এর মধ্যে একটি হচ্ছে তাদের সিইটিভি তৈরি করে দিতে হবে, আরেকটি ছিল ছোট ছোট ব্যবসায়ী যারা অন্য পণ্য তৈরি করত তাদেরকে ওখানে ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু তার কোনটাই করা হয়নি। তিনি বলেন, চামড়া শিল্পের তৃতীয় সমস্যা যেটা হচ্ছে- ব্যাংকাররা বলছেন প্রতিবছর ঈদ আসলে তাদেরকে ব্যাংক লোন দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। কিন্তু তারা পূর্বের লোন পরিশোধ করে না। এখানেও সমস্যা হচ্ছে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত ব্যাংকিং লেনদেন ভালো ছিল। কিন্তু সাভারে স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে তাদের ব্যাংক লোন আর নিয়মিত নেই। তারা প্রতিনিয়ত খেলাপি হয়েছেন। এছাড়া হাজারীবাগের জমিগুলো নিয়েও আছে নানা সমস্যা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সরকারি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ চামড়াশিল্পের ব্যবসায়ীদের একত্রে নিয়ে একটা মিটিং করে সঠিক সিদ্ধান্তে আসা প্রয়োজন।

মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল আজহায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে চামড়া তোলা, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিবহন একটা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেছেন, চামড়া নিয়ে গত বছরের মতো পরিস্থিতি আমরা কেউ প্রত্যাশা করি না। তাই সবাই মিলে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে সঠিকভাবে চামড়া সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করার আহবান জানাচ্ছি।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো আসন্ন ঈদুল আজহার সময়ে চামড়ার জন্য সরকারের নির্ধারিত দাম বাস্তবায়ন করা। বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে যে দাম নির্ধারণ করে হয়, সেটা। এছাড়া সব ধরনের চামড়া সঠিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। বিশেষ করে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এই চেইনটা যেন ঠিক থাকে।

তিনি বলেন, যদিও এ বছর করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে চামড়া তোলা, সংগ্রহ, পরিবহন একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং চামড়া শিল্পের সঙ্গে জড়িত সব ব্যবসায়ীর সঙ্গে মিলে কাজ করলে সমস্যাগুলো থাকবে না।
উল্লেখ্য, এ খাতের সমস্যা সমাধানে গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম সভা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। তবে প্রধান ফোকাস করোনা সমস্যা মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ ও ঈদুল আজহার সময় চামড়ার ব্যবস্থাপনাগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সালমান এফ রহমান


আরও
আরও পড়ুন