Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

পেপটিক আলসার এবং ধূমপান

| প্রকাশের সময় : ২৬ জুন, ২০২০, ১২:০১ এএম

পেপটিক আলসার আমাদের দেশে অতি পরিচিত এক রোগ। পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত হয় হাইড্রোক্লোরিক এসিড এবং পেপসিন। এদের ক্রিয়ার বিভিন্ন অস্বাভাবিকতার ফলে পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত বা ঘা সৃষ্টি হয়। একেই পেপটিক আলসার বলে।
পেপটিক আলসার সাধারণত খাদ্যনালীর নিচের অংশ, পাকস্থলি, ডিউডেনাম, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদান্ত্রের বিভিন্ন জায়গায় হতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি হয় পাকস্থলী ও ডিউডেনামে। আলসার পাকস্থলীতে হলে তাকে গ্যাস্ট্রিক আলসার এবং ডিউডেনামে হলে তাকে ডিউডেনাল আলসার বলে। ডিউডেনাল আলসারই আমাদের বেশি হয়ে থাকে।
হেলিকোবেকটার পাইলোরি ব্যাকটেরিয়া দিয়েও পেপটিক আলসার হয়। খাবার বা পানির মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়া আমাদের পেটে প্রবেশ করে। তারপর বিভিন্নভাবে আলসার তৈরি করে। নিয়মিত ব্যথার ওষুধ খেলে আলসারের সম্ভাবনা বাড়ে । অন্যান্য ওষুধের কারণে আলসার দেখা দেয়। মদপান করলেও বাড়ে আলসারের সম্ভাবনা। বিভিন্ন অসুখের কারণেও হতে পারে পেপটিক আলসার।
গ্যাস্ট্রিক আলসার হলে খাবার পর ব্যথা হয় এবং বুক জ্বালাপোড়া ও টক ঢেঁকুর ওঠতে থাকে। বমিভাব, বমি থাকতে পারে। খাবারে অরুচি হয় এবং ভাজা পোড়া খেলে আরও অস্বস্থি লাগা বেড়ে যায়। জটিলতা হিসেবে রক্ত পায়খানা হতে পারে এবং ওজন কমে যায়।
ডিউডেনাল আলসারে পেট খালি থাকলে ব্যথা বেশি হয়। খাবার খেলে এই ব্যথা কমে যায়। তাই এই আলসারে খাওয়া ভাল হয় ওজন কমেনা। তবে আলসার থেকে রক্ত পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ধূমপান করলে আলসার হতে পারে। এই আলসারের ঘা সহজে শুকায় না। রোগী যদি ধূমপান ত্যাগ না করে তবে আলসার ভাল হবার পর আবার হতে পারে। দেখা দিতে পারে নানা রকম সমস্যা। ধূমপানের ফলে গ্যাস্ট্রিক আলসার বেশি হয়। তবে ডিউডেনামেও হতে পারে। ধূমপান থেকে যে আলসার হয় সেখান থেকে হতে পারে ক্যান্সারসহ নানা জটিলতা। তাই ধূমপান বন্ধ করতেই হবে।
ধূমপান মৃত্যু ঘটায়। বিষয়টি জেনেও মানুষ ধূমপান করছে। নিজ হাতে নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে । জাতিসংঘের মাদকবিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধূমপানের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ মারা যায়। ধূমপান করলে জটিল ক্যান্সার এবং হৃদরোগ সহ দেখা দিতে পারে নানা রকম রোগ। হতে পারে পেপটিক আলসার এবং সেখান থেকে হতে পারে নানা জটিলতা । তাই ধূমপান বন্ধ করতে নিজেকেই উদ্যোগি হতে হবে।
ডাঃ মোঃ ফজলুল কবির পাভেল



 

Show all comments
  • Ruhul Amin ২৬ জুন, ২০২০, ৯:৩৫ এএম says : 0
    সচেতনতাই মানুষকে রক্ষা করতে পারে আসন্ন বিপদ হতে। আর সেই সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন যারা তাদের জন্য শুভ কামনা। সচেতনতা বৃদ্ধির সম্মুখ যোদ্ধাদের অন্যতম ভাই ডাঃ ফজলুল কবির পাভেল।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পেপটিক-আলসার
আরও পড়ুন