Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

বাড়বে উৎপাদন, মিটবে চাহিদা

আদমদীঘির পাঙ্গাস রেণু যাচ্ছে সারাদেশে

আদমদীঘি (বগুড়া) উপজেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ২৭ জুন, ২০২০, ১২:০১ এএম

গ্রীন হাউজের মাধ্যমে থাই পাঙ্গাসের আগাম ব্রুড তৈরি এবং কৃত্রিম প্রজননে রেণু উৎপাদনে সফলতা পেয়েছে বগুড়ার সান্তাহার মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট প্লাবনভূমি উপকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। গত চার বছর ধরে করা গবেষণায় তারা এই সফলতা পান। প্রতি বছরই এর ব্যাপক সফলতা আসছে বলে জানিয়েছেন প্লাবনভূমি উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ডেভিট রিন্টু দাস। বাংলাদেশে থাই পাঙ্গাস একটি জনপ্রিয় ও ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া মাছের প্রজাতি। চাষের জন্য বিদেশ থেকে আনার পর বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ‘৯০ সালে প্রথম এই মাছের কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন করা হয়। বাণিজ্যিকভাবে অধিক উৎপাদনশীল এ মাছের জাতটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহজ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপকভাবে চাষ করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশব্যাপী প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জায়গায় একক প্রজাতি হিসেবে পাঙ্গাসের মোট উৎপাদন ৩.১৭ লাখ মে. টন যা অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনের ১২.৫৭%। এলাকার মৎস্য খামারীরা পুকুরে মজুদের জন্য মে মাসের শেষের দিকে এই মাছের পোনা পেয়ে থাকে। দেরিতে পোনা পাওয়ায় চাষিদের উৎপাদনের জন্য বেশি সময় না থাকায় তারা লাভবান হতে পারে না। শীত মৌসুমে জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারি পরিপক্ক ও ডিমওয়ালা পাঙ্গাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় তাহলে মার্চ মাসে পোনা উৎপাদন এবং বিক্রয় উপযোগী মাছ তৈরির জন্য যথেষ্ট সময় পাবে তারা। এতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবানের পাশাপাশি দেশে মাছের পুরোপুরি চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
এ প্রেক্ষিতেই গত চার বছর ধরে সান্তাহার মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট প্লাবনভ‚মি উপকেন্দ্রে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা গবেষণা পরিচালনা করে গ্রীন হাউজ পদ্ধতিতে পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবার দ্বিতীয় দফায় জানুয়ারী-ফেব্রয়ারী মাসেই থাই পাঙ্গাসের আগাম ব্রুড তৈরি, রেণু পোনা মার্চ মাসেই উৎপাদন করে ব্যাপক সফলতা পান।
ইতোমধ্যে এই প্লাবন ভূমির আগাম উৎপাদনের রেনু পোনা পেয়ে এলাকার হ্যাচারীও মৎস্য ব্যবসায়ীরা পাঙ্গাস মাছ চাষে উৎসাহিত হচ্ছে। সান্তাহার প্লাবন ভূমি উপকেন্দ্রের প্রধান ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ডেভিড রিন্টু দাস বলেন, সান্তাহার ও আদমদীঘির মাটি ও পানি থাই পাঙ্গাসের রেণু এবং পোনা উৎপানের জন্য উপযুক্ত। এই পোনা সারাদেশে সরবরাহ হয় এছাড়া ভারতেও এর বিরাট বাজার রয়েছে।
ইতোমধ্যে তিন মাস আগাম সময় বেশি পেয়ে হ্যাচারী মালিকদের মধ্যে এ বিষয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি এ প্রযুক্তিতে ব্রুড ও রেনু পোনা উৎপাদনে এ প্রজাতির মাছের চাষ বাড়বে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: উৎপাদন


আরও
আরও পড়ুন