Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭, ১২ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ প্রবেশ বন্ধে উদ্যোগ নিবে কানাডার অন্টারিও

কূটনৈতিক সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৮ জুন, ২০২০, ৪:০৯ পিএম

কানাডার অন্যতম বড় প্রদেশ অন্টারিওর লিবারেল পার্টির নেতা স্টিভেন ডেল ডোকা বলেছেন, আগামী নির্বাচনে প্রিমিয়ার (মুখ্যমন্ত্রী) হিসেবে নির্বাচিত হলে তিনি প্রদেশটিতে মুদ্রা পাচার হয়ে আসা বন্ধে উদ্যোগ নেবেন।
তিনি বলেন, আমি জানি, এই ধরনের মুদ্রা পাচারের ঘটনা বাংলাদেশি কমিউনটিসহ অন্যান্য কমিউনিটিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্টারিও প্রাদেশিক পুলিশ, আরসিএমপি রেভিনিউ কানাডাকে সমন্বিত করে যৌথভাবে এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
কানাডার বাংলা পত্রিকা নতুনদেশ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঙ্গে গতকাল শনিবার টরন্টো সময় সকালে ভার্চুয়াল আলোচনায় প্রাদেশিক লিবারেল পার্টির নেতা স্টিভেন ডেল ডোকা এ কথা বলেন।
আলোচনায় তিনি অন্টারিও প্রাদেশিক সরকারের করোনা মোকাবিলা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য জরুরি সেবাখাত নিয়ে নাগরিকদের জন্য তার কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে চুরি হওয়া অর্থ কানাডায় পাচার হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শওগাত আলী সাগর জানতে চান— প্রদেশের প্রিমিয়ার হিসেবে নির্বাচিত হলে অন্টারিও যাতে মুদ্রা পাচারকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত না হয় সে ব্যাপারে কী উদ্যোগ নেবেন?
লিবারেল নেতা স্টিভেন বলেন, আমি এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই। তবে প্রিমিয়ার হিসেবে নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিত করে পাচার হওয়া অর্থ প্রদেশে আসা বন্ধে উদ্যোগ নেবো।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যাতে সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা নিয়ে কাজ করতে পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশি অধ্যূষিত স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট ও বিচেস ইস্ট ইয়র্ক নির্বাচনী এলাকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের মনোনয়নের জন্য বিবেচনা করা হবে কিনা? স্টিভেন বলেন, শুধু এই দুটি আসনই নয়, আরও বেশি নির্বাচনী এলাকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যোগ্য প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য এগিয়ে এলে আমি খুবই খুশি হব।
তিনি আরও বলেন, দুই বছর আগের নির্বাচনে দল ক্ষমতায় ছিল। অধিকাংশ আসনই দীর্ঘ দিনের পুরনো নেতাদের আয়ত্ত্বে ছিল। এখন অনেক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ প্রত্যেক কমিউনিটি থেকেই আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী আশা করতে পারি।
বাংলাদেশি কমিউনিটির সত্যিকারের যোগ্য ও মেধাবী তরুণরা আগামী নির্বাচনে লিবারেল পার্টির মনোনয়নের জন্য এগিয়ে আসবে এবং কেউ কেউ অন্টারিও লিবারেল পার্টির মনোনয়ন লাভে সক্ষম হবে বলে আমি আশা করি।
প্রার্থীতা বাছাইয়ে একটি দল প্রার্থীর কাছে কী চায়? স্টিভেন বলেন, পরিশ্রমী, দক্ষ ও যোগ্য তরুণদের সম্ভাব্য প্রার্থীতার জন্য লিবারেল পার্টি বিবেচনায় রাখছে। একজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে অবশ্যই দলের মূল্যবোধ মনে-প্রাণে ধারণ করে বৈচিত্র, সহিষ্ণুতা, অন্যকে সমর্থন ও সহযোগিতা করার মানসিকতার প্রমাণ দিতে হবে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ৪৬ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, আমি ১৫ বছর বয়স থেকে লিবারেল পার্টির কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত আছি। একটি দলের প্রার্থী হওয়া একেবারে সহজ ব্যাপার নয়। প্রত্যেক দলই নিবেদিত প্রাণ, পরিশ্রমী ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়। নির্বাচনী এলাকায় হাজার হাজার দরজায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার অভিজ্ঞতা, তহবিল সংগ্রহ, দলের বার্তা কার্যকরভাবে নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো যোগযোগের দক্ষতা থাকতে হবে।

দলের নেতা নির্বাচনের সময় আমার ঘোষণা ছিল নারী-পূরুষ সমান সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া। আগামী নির্বাচনে সেটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। আমি আরও বেশি সংখ্যক তরুণ ও নারীদের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই।
স্টিভেন ডেল ডোকা অন্টারিও লিবারেল পার্টির নেতা হিসেবে নতুন নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ২০২২ সালের জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে তার দল জয়ী হলে তিনি প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।



 

Show all comments
  • Mohammed Shah Alam Khan ২৮ জুন, ২০২০, ৯:৪৩ পিএম says : 0
    বাংলাদেশের অপশক্তিদের জন্যে এটা একটা সুখবর। কানাডায় ১৯৭১ সাল থেকেই রাজনৈতিক ভাবে বাঙালীরা আশ্রয় পেয়ে আসছে। সেসময়ে জামাত, মুসলিম লীগ ইত্যাদি দলের নেতাদের আত্মীয়স্বজন মুক্তিযোদ্ধাদের ধাবার খেয়ে এই কানাডায় তাদের বৈধ্য বা অবৈধ্য টাকা পয়সা নিয়ে এসে বসবাস শুরু করে। এরপর ১৯৭৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগের লোকজন জিয়া মিয়ার ধাবার খেয়ে এখানে এসে বসবাস শুরু করে তবে এদের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের লোকজন ছিলনা বললেই চলে। যেকারনে সেসময়ে যেসব অপশক্তি কানাডায় বসবাস করতেন তারা আওয়ামী লীগের লোকজনদের নিয়ে তেমন একটা দৌড়ঝাপ করেননি এখন যেভাবে করছেন। এরপর ১৯৮২ সালের পর বিএনপি দলের বেশ কিছু উপরের স্তরের নেতা ও জামাতের লোকজন সহ বহু লোক কানাডায় এসে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তারপর ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির প্রচুর সাংসদ সহ কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের তলপি তল্পা সহ কানাডায় এসে রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়। ১৯৯১ সালেই জাপার কেন্দ্রীয় নেতাদের কানাডা আগমনের পর থেকে সবকয়টা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কানাডার উপর নজর পরে এবং তারা কানাডাকে নিরাপদ দেশ হিসাবে তাদের দ্বিতীয় দেশ বানানোর ধান্দায় থাকে। এদের নিয়ে আমি একজন সাংবাদিক হিসাবে বিস্তারীত সবই জানতাম কিন্তু আমি কখনও এসব নিয়ে এই দেশের রাজনৈতিক নেতাদের সাথে আলোচনা করিনি কারন এতে করে দেশের ইজ্জৎ নষ্ট হয় বাড়েনা। তাছাড়া এসব নেতারা দক্ষ তাই তারা যাহা করেন খুবই ভেবে চিনতে আইনের মাধ্যমেই করে থাকেন। তবে আমি বাংলাদেশের হাইকমিশনের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রথমে সোচ্চার ছিলাম পরে সেটাও ছেড়ে দিয়েছি কারন এতে কোন লাভ হয়নি। তাছাড়া আমি দেখেছি এই দেশে যে আইন রয়েছে সেটাই এখানকার সরকার মেনে চলবে তবে রাজনৈতিক কারনে এনারা প্রিতপক্ষকে খুশী করার জন্যে ইচ্ছার বিরুদ্ধেও কথা বলে এটা আমার জানা আছে অনেকের (কানাডায় অবস্থান রত বাংলাদেশী) জানা নেই। তাই তারা এই দেশের বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে বাংলাদেশের পদ্ধতীতে সস্তা কথা বলে নিজেকে ধন্য মনে করে থাকে। আজ যে সংবাদটা এখানে এসেছে এই ধরনের টাকা পাচারের বিষয়ে আগেও (বছর ১০ আগে আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে পত্র পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হয়েছিল) আলোচনায় এসেছিল এবং কানাডার সরকার ব্যাবস্থাও নিয়েছিল কিন্তু ফল কিছুই হয়নি কারন ওনারা আইনের মাধ্যমেই সবই করেছিলেন। এবার এই টাকা পাচার নিয়ে কানাডায় অবস্থান রত বাংলাদেশী অপশক্তিরা আওয়ামী লীগকে একহাত দেখে নেয়ার জন্যে প্রাচারে নেমেছে এবং এখানকার রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশী সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ব্যাবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু আমি এদের আইন অনুযায়ী বলতে পারি “যেখানকার পানি সেখানেই থেকে যাবে” মাঝখানে পানিতে একটু উথাল পাথাল করা হলও মাত্র কাজের কাজ কিছুই হবেনা। আল্লাহ্‌ আমাকে সহ সবাইকে জেনেশুনে, বুঝে ও বিবেচনা করে কাজ করার ক্ষমতা দান করুন। আমিন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ