Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

কুষ্টিয়ায় ঘুড়ি কেড়ে নিল চা বিক্রেতা বাবার স্বপ্ন

কুষ্টিয়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৮ জুন, ২০২০, ৭:৪৭ পিএম

শারীরিক প্রতিবন্ধী পলান শেখ। হাঁটেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকেন কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া জিকে ঘাটের চরে। থানাপাড়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের (মাতৃসদন হাসপাতাল) সামনে চা-পান বিক্রি করে কোনো রকম জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।

বড় ছেলে বিয়ে করে অনেক আগেই নিজের মত করে সংসার পেতেছেন। প্রতিবন্ধী বাবা-মা ও ছোট দুই ভায়ের কোনো খোঁজ-খবর রাখেন না তিনি। পলান শেখের মেজো ছেলে শিমুলের বয়স ১২ বছর। জিকে স্কুলের ৮ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র সে। বাবাকে সার্বক্ষণিক কাজে সহযোগিতা করত শিমুল। দোকান থেকেই স্কুলে যেত, চলতো পড়ালেখা। বাবার সাথে চা-পান বিক্রি তো আছেই।

গত ১০ বছর ধরে শিমুল এভাবেই পড়ালেখার পাশাপাশি পিতাকে সহযোগিতা করে আসছিল। শিমুলকে ঘিরে পলান শেখের অনেক স্বপ্ন। ছেলে পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হবে। ছেলের হাত ধরেই হয়তো অভাব-অনটনের সংসারে স্বাচ্ছন্দ্য আসবে। কিন্তু বিধি বাম।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে শিমুল দোকানের সামনে মাতৃসদনের ছাদে উঠে ঘুড়ি উড়াতে যায়। ঘুড়ি উড়ানোর এক পর্যায়ে অসাবধানতাবশত মাতৃসদনের দোতলার ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত পায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করে। সেখানে চিকিৎসার এক পর্যায়ে রাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিমুল।

শিমুলের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় জিকে ঘাট এলাকায় শোকের ছায়া নামে। শনিবার সকাল ১০টায় জিকে ঈদগাহে নামাজে জানাজা শেষে পৌর গোরস্থানে শিমুলের দাফন সম্পন্ন হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ