Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

২৪ ঘণ্টায় সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে প্রায় তিনগুণ ১০ জেলায় পানিবন্দি দুই লক্ষাধিক মানুষ

ইনকিলাব রিপোর্ট | প্রকাশের সময় : ২৯ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম

দেশের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। টানা বৃষ্টি আর ভারতের পানির ঢলে সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি তিনগুণ বেড়েছে। যমুনার পানি জামালপুর এলাকায় গতকাল বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। যমুনার পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন করে জামালপুর জেলার ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৫ সেন্টিমিটার। এছাড়া সুনামগঞ্জ শহরের রাস্তা ঘাট সব তলিয়ে গেছে। শহরে এখন সিএনজি-অটো রিকশার পাশাপাশি চলছে নৌকা। সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গতকাল ফুলছড়িঘাট পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা নদীর পানি রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে এবং করতোয়া নদের পানি গোবিন্দগঞ্জ কাটাখালি পয়েন্টে বাড়ছে।
উত্তরাঞ্চলে বন্যা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। কুড়িগ্রাম, রংপুর ও লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির অনেক অবনতি হয়েছে। এসব অঞ্চলে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে পাট, ভুট্টা, বাদাম ও সবজি ক্ষেতসহ আমন ধানের বীজতলা। বন্যার পানিতে পুকুর ডুবে বেরিয়ে গেছে মাছ। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৎস্য চাষিরা। পানি বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন স্থানে তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এতে চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত পানি বেড়ে বন্যা আরও কয়েক জেলায় বিস্তৃত হবে। সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, সিলেট ও সুনামগঞ্জ এই আট জেলার আরও এলাকা প্লাবিত হবে। এর পাশাপাশি টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর এবং নেত্রকোণাসহ আরও কয়েকটি জেলা বন্যা কবলিত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং আবহাওয়া অধিদফতরের কর্মকর্তারা। তারা জানান, মাঝারি ধরনের এ বন্যা দুই সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে যমুনার পানি বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এক দিনের ব্যবধানে পানি বেড়ে গতকাল বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দ্রুতগতিতে পানি বৃদ্ধির কারণে নদীপাড়ের নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে এবং প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২০ হাজার মানুষ। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে পানি ঢুকে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে মেলান্দহের মাহমুদপুর টু ইসলামপুরের উলিয়া সড়ক যোগাযোগ।
গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের সহস্রাধিক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হচ্ছে। জানা যায়, জেলার সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদী বেষ্টিত এলাকার সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শত শত হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। গত কয়েক ধরে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে এবং বাঁধ ভেঙে অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়া শুরু করেছেন। তারা আত্মীয়-স্বজন, বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা শফিকুল ইসলাম বেবু জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সকালে ধরলার পানি কুড়িগ্রাম ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার ও নুন খাওয়া পয়েন্টে ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলার ছোট-বড় ১৬টি নদ-নদী পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ৯টি উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়নে আংশিক পানি প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ২২টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়াও গেল এক সপ্তাহের নদ-নদীর ভাঙনে জেলায় প্রায় দু’শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, পাট ১০৭৫ হেক্টর, আমন বীজতলা ৩৮ হেক্টর, আউশ ৩৭২ হেক্টর, সবজি ১২০ হেক্টর, তিল ১১০ হেক্টর, কাউন ০৫ হেক্টর, মরিচ ১০ হেক্টরসহ ১৬৯২ হেক্টর ফসলি জমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) উপজেলা সংবাদদাতা মোশাররফ হোসেন বুলু জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১০ হাজার ৭শ’ পরিবারের ৪৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা শামীম শিরাজী জানান, সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আজ রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৬ টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি ১৩ দশমিক ৪১ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে যা বিপদসীমা (১৩ দশমিক ৩৫ ) অতিক্রম করে ৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ