Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

গালওয়ান সীমান্তে চীনের মার্শাল আর্ট বাহিনী

বিতর্কিত এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ করছে দু’দেশই

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৯ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম

ভারতের সঙ্গে প্রাণঘাতী সংঘাতের পর সীমান্ত বাহিনীতে মিক্সড মার্শাল আর্ট (এমএমএ) স্কোয়াড নিয়োগ দিয়েছে চীন। ভারতের সঙ্গে ওই সঙ্ঘাতে চীনের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটি এখনো জানা যায়নি। তবে ভারতের ২০ জন মারা গেছে বলে স্বীকার করেছে দেশটি। বিবিসি ও ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, এই সঙ্ঘাতে কোনো গোলাগুলি হয়নি। দুই দেশেরা সেনারা তর্কের এক পর্যায়ে শারীরিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, মার্শাল আর্টের এ যোদ্ধাদের আনা হয়েছে সিচুয়ান প্রদেশের বিখ্যাত এনবো ফাইট ক্লাব থেকে। এ ক্লাবের খেলোয়াড়েরা সাধারণত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট বলছে, নতুন যোদ্ধাদের সরাসরি ভারত সীমান্তে রাখা হবে কি না সেটি এখনো জানা যায়নি। তাদের প্রধান কাজ হবে সীমান্তে পাহারা দেয়া সেনাদের শারীরিক যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেয়া। একই সঙ্গে যে কোনো প্রয়োজনে তারা সাহায্যও করবেন।

এনবো ক্লাবের প্রধান সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘দেশের প্রয়োজন হলে আরও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে আমরা সাহায্য করবো। কয়েক দিন আগে সীমান্তে কী হয়েছে সে বিষয়ে আমি জানি না। জানার চেষ্টাও করিনি।’ ঐতিহ্যগতভাবে মার্শাল আর্টে চীনের পরিচিতি জগদ্বিখ্যাত। দেশটির বিভিন্ন স্কুলে পর্যন্ত এর কলাকৌশল শেখানো হয়।

চীন-ভারত সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণ চলছেই
গালওয়ান উপত্যকায় দু’দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী হাতাহাতি যুদ্ধে ২০ জন ভারতীয় সৈন্যের প্রাণহানির প্রায় দু’সপ্তাহ পরও কারাকোরাম পর্বতমালায় উভয় দেশের সীমান্তে চীনা ও ভারতীয় উভয় পক্ষেই নির্মাণ কাজ চলছে বলে উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে।

কলোরাডোভিত্তিক উপগ্রহের চিত্র সংস্থা ম্যাক্সারের এ সপ্তাহে প্রকাশিত চিত্রগুলি গালওয়ান নদী উপত্যকার পাশে নতুন নির্মাণ কার্যক্রম দেখায়। চীনা ও ভারতীয় কূটনীতিকরাও বলেছিলেন যে, সামরিক কমান্ডাররা সেখান থেকে অবস্থান সরিয়ে নিতে একমত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ চিত্রগুলি দেখায় যে, ভারতীয়রা তাদের পাশে একটি প্রাচীর তৈরি করেছে এবং চীনারা দুর্বল সংজ্ঞায়িত সীমান্ত থেকে আরও দূরে চীনা সামরিক ঘাঁটিগুলোর সাথে সংযুক্ত একটি দীর্ঘ রাস্তা শেষে একটি ফাঁড়ি শিবির প্রসারিত করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৬২ সালে এশিয়ান জায়ান্টরা শুষ্ক সীমান্ত অঞ্চলে তাদের পরস্পরবিরোধী দাবি নিয়ে যুদ্ধে নেমে আসার পরে সবচেয়ে খারাপ সহিংসতার পরে একটি চুক্তির ভগুরতা দেখা দেয়। চীন বলছে, ভারত গত অগস্টে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যটিকে দুটি ফেডারেল ভূখন্ড জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চল এবং লাদাখে বিভক্ত করার পরে স্থিতাবস্থায় পরিবর্তন করেছিল, যার কিছু অংশের চীন বিরোধিতা করেছে। এ পদক্ষেপের পরে ভারত প্রকাশিত নতুন মানচিত্র বেইজিংয়ের সমালোচনায় আসে, কারণ তারা আকসাই চীনকে চীন পরিচালিত একটি অঞ্চল দেখায় কিন্তু লাদাখের অংশ হিসাবে ভারতের দাবি রয়েছে বলে প্রচার করে।

ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পরে প্রতিষ্ঠিত ৩৩৮০ কিলোমিটার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলএসির প্রত্যন্ত গালওয়ান উপত্যকায় এ মাসে যে মারাত্মক সংঘর্ষ ঘটে, তার শুরু মে মাসের গোড়ার দিকে যখন চীনের বিশাল সেনাবাহিনী লাদাখের তিনটি স্থানে ভারত-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের গভীরে প্রবেশ করে তাঁবু গাড়ে।
মে মাসে কয়েকটি সঙ্ঘাতের পর ভারতীয় ও চীনা কমান্ডাররা উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে চুক্তি করার জন্য ৬ জুন বৈঠক করেন। ভারতে চীনের রাষ্ট্রদ‚ত এইচ.ই. সান ওয়েডং মঙ্গলবার প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ গালওয়ান নদীর মুখের দু’পাশে পর্যবেক্ষণ পোস্ট তৈরি করতে সম্মত হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, ৬ জুন বৈঠকে দু’পক্ষই এলএসি’র সম্মান ও মেনে চলা এবং স্থিতাবস্থা রদবদলের জন্য কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না বলে সম্মত হয়েছিল। তবে তারা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার তৈরিতে সম্মত হয়েছিল কিনা তা বিবেচনায় আনেনি।

১৫ জুন মধ্যরাতের দিকে গালওয়ান উপত্যকায় সৈন্যরা একে অপরকে পাথর, তাঁবুর স্ট্যান্ড এবং হাতাহাতি সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। এটা ছিল ৪৫ বছরের মধ্যে দু’দেশের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সহিংসতা।

ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুরুতর আহত এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় তুষারপাতের কারণে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে কোনও হতাহতের শিকার হয়েছে কিনা তা চীন জানায়নি। ভারত ও চীন বিবাদের জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছে এবং যে অঞ্চলে তা ঘটেছে তা নিয়ে নতুন দাবি করেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন যে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার চীনের অংশেই এই সঙ্ঘাত হয়েছিল এবং ভারতীয় বাহিনী অবৈধভাবে চীনা ভূখন্ডে প্রবেশ করেছিল। ঝাও বলেন, দায় (এই ঘটনার জন্য) পুরোপুরি চীনা পক্ষের নয়। তবে শ্রীবাস্তব বলছিলেন, এলএসির ভারতীয় অংশ ঘেঁষে খাড়া করা কাঠামো সরাতে গেলে চীন লড়াইয়ের উস্কানি দিয়েছিল। তিনি বলেন, ভারতীয় সৈন্যরা এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।

তবে ম্যাক্সারের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টিভ উড বলেছেন, নদীর তীরের ম্যাক্সার চিত্রের একটি ধারা যেখানে সংঘর্ষের কয়েক সপ্তাহ আগে এবং তার পরের, তাতে দেখা গেছে যে, গালওয়ান উপত্যকাটি চীনা ঘাঁটি থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণের রেখার দিকে প্রসারিত হয়েছে।

গালওয়ানে দুই ভারতীয় সেনার মৃত্যু
ভারতীয় দ্য ওয়্যার অনলাইন জানাচ্ছে, গালওয়ানে সেতু বানানোর সময় দু’জন সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজন মালেগাঁওর ৩৭ বছরের নায়েক সচিন বিক্রম মোরে ও পাটিয়ালার ল্যান্স নায়েক সেলিম খান (২৪)। সচিন বৃহস্পতিবার ও সেলিম শুক্রবার মারা যান। সেলিম সেতু বানানোর সময় নৌকা উল্টে পানিতে ডুবে এবং সচিন ডুবে যাওয়া সেনাদের উদ্ধার করতে গিয়ে মাথায় পাথরের বাড়ি খেয়ে আহত ও পরে মারা যান। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী সেলিম খানকে শহীদ আখ্যায়িত করে তার পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা এবং পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, ডন ও দ্য ওয়্যার।



 

Show all comments
  • ইচ্ছে করে ২৯ জুন, ২০২০, ১:২৯ এএম says : 0
    ভারত এত সহজে হার মানার জাতি না। ভারত অনেক শক্তিশালী দেশ। প্রয়োজনে চীনের পা ধরে মাফ চেয়ে নিবে তার পরও হার মানবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • Esrat Jahan ২৯ জুন, ২০২০, ১:২৯ এএম says : 0
    বাংলাদেশের সব করোনা রোগীকে এই ধরনের নিউজ প্রতিদিন দেয়া হোক,,,,,দেখবেন তাদের মনোবল এমনিতেই বেড়ে যাবে এবং তাড়াতাড়ি সেরে ওঠবেন
    Total Reply(0) Reply
  • Sumon Podder Surjo ২৯ জুন, ২০২০, ১:৩১ এএম says : 9
    তাহলে অন্তত এটা প্রমানিত হলো ১৫ জুন রাতের হাতাহাতিতে ভারতের চেয়ে চীন মার খেয়েছে বেশি আর মারা গেছেও বেশি। নইলে এত সিরিয়াস কেন তারা? ওই দিনের পর চীন বুঝতে পেরেছে ১৯৬২ সালের ভারত আর নেই, হালকা ভাবে আর নেয়ার সময় নেই তাই এত আগ্রাসী হয়েছে চীন। ভারত মুখে কথা বলে কম কিন্তু কূটনীতিক ভাবে খুব strong.
    Total Reply(0) Reply
  • Abdullah Al Imam ২৯ জুন, ২০২০, ১:৩২ এএম says : 0
    চায়নারা যেভাবে ভারতের উপর অত্যাচার শুরু করল। বাংলাদেশের উপর ভারত আক্রমণ করলে তখন আমাদের কি অবস্তা হবে?
    Total Reply(0) Reply
  • Milon Abdullah ২৯ জুন, ২০২০, ১:৩২ এএম says : 0
    মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হাজার হাজার চীনা সৈনিকদের ঘায়েল করতে বলিউডের সানি দেওল এবং সুনীল শেঠি ই যথেষ্ট !
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ আরিফুল ইসলাম ২৯ জুন, ২০২০, ১:৩৩ এএম says : 0
    ভারত হল এই উপমহাদেশের বিরক্তিকর প্রতিবেশী বন্ধু, যার ভিতর বন্ধু হওয়ার সামান্যতম নুন্যতম গুনটুকুও নেই, কোন প্রতিবেশীর সাথেই ভাল সম্পর্ক নেই, বন্ধু সেজে বাংলাদেশ কে স্বাধীনতায় সাহায্য করেছিল হাজার হাজার কোটি টাকার অস্র থেকে শুরু করে অনেক কিছু চোরির জন্য, মুলত বাংলাদেশের মুক্তিযাদ্ধারাই এ দেশকে স্বাধীন করেছে।
    Total Reply(0) Reply
  • Jaynal ২৯ জুন, ২০২০, ৬:৫৬ এএম says : 0
    চীন ভারতীয় ঘাতকদেরকে বিচার করেই বিদায় নেবে।
    Total Reply(0) Reply
  • আবদুর রাফি ২৯ জুন, ২০২০, ১১:৫৭ এএম says : 0
    চিন-ভারত যুদ্ধ হওয়া দরকার। দেখা যাক কার কত শক্তি .....
    Total Reply(0) Reply
  • Sk jinarul ৩০ জুন, ২০২০, ৯:২৭ এএম says : 0
    চীন-ভারত যুদ্ধ হওয়া দরকার,কিন্তু এটা ফাকা আওয়াজ যুদ্ধ হবেনা।ভারত ও চীন দুই দেশি ইসলাম বিরোধী,ভারতে কত মুসলিম কে বিনা কারনে পিটিয়ে হত‍্যা করেছে তার কোন হিসাব নাই।
    Total Reply(0) Reply
  • Sajid ৬ জুলাই, ২০২০, ৭:২০ এএম says : 0
    ভারত একটা উচিৎ শিক্ষা দেওয়া দরকার
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত


আরও
আরও পড়ুন