Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৮ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

ছয় জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদন্ড বহাল দু’জনের সাজা হ্রাস : খালাস ২

গাজীপুর আদালতে বোমা হামলা মামলা

প্রকাশের সময় : ২৯ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুর আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে ১১ বছর আগে বোমা হামলা চালিয়ে আট জনকে হত্যার ঘটনায় দশ আসামির মধ্যে জেএমবির ছয় জঙ্গির মৃত্যুদ- বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া দুই আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়েছে। দুইজনকে দেয়া হয়েছে খালাস। আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদ- অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের শুনানি করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই রায় দেন। এর আগে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালে ওই দশ আসামির সবাইকে মৃত্যুদ- দিয়েছিল।
মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ছয়জন হলেন : এনায়েত উল্লাহ ওরফে ওয়ালিদ ওরফে জুয়েল, আরিফুর রহমান ওরফে আকাশ ওরফে হাসিব, সাইদুর মুন্সী ওরফে শহীদুল মুন্সী ওরফে ইমন ওরফে পলাশ, আবদুল্লাহ আল সোহাইন ওরফে যায়িদ ওরফে আকাশ, নিজাম উদ্দিন রেজা ওরফে রনি ওরফে কচি ও তৈয়বুর রহমান ওরফে হাসান।
দুই জনের যাবজ্জীবন : মসিদুল ইসলাম মাসুদ ওরফে ভুট্টো, আদনান সামী ওরফে আম্মার ওরফে জাহাঙ্গীর। খালাস দুই জন: মো. আশরাফুল ইসলাম ওরফে আরসাদ ওরফে আব্বাস খান, মো. সফিউল্লাহ ওরফে তারেক ওরফে আবুল কালাম।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবীর রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “দুই জনের সাজা কমানো ও দুই জনকে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিলে যাব।”
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর গাজীপুর অ্যাডভোকেট বার সমিতির দুই নম্বর হলে শক্তিশালী দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আইনজীবীদেও দৈনন্দিন কার্যক্রম ও আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যে ওই হামলায় আত্মঘাতী জেএমবি সদস্য আজাদ ওরফে জিয়া ওরফে নাজির ওরফে নাহিদ ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুর বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন; আইনজীবী নুরুল হুদা, আনোয়ারুল আজম ও গোলাম ফারুক এবং চার বিচারপ্রার্থী।
এ ঘটনায় জেমমবি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও আতাউর রহমান সানী, আত্মঘাতী হামলাকারী ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন।
তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৪ জুলাই পুলিশ ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে জেএমবি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান, আতাউর রহমান সানি ও খালেদা সাইফুল্লাহর অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এবং হামলাকারী আজাদ ও তার সহযোগী জেএমবি সদস্য মোল্লা ওমর ওরফে শাকিলের মৃত্যু হওয়ায় তাদের নাম মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়। গাজীপুর প্রথম আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল দশ জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। একই বছরের ৩ অক্টোবর সরকার মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ পাঠায়। এরপর আট আসামির বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আলাদাভাবে সংশোধিত চার্জ গঠন হয়। আলোচিত এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৭০ জন এবং আসামিপক্ষে তিনজনের সাক্ষ্য শোনে আদালত।  
শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ২০ জুন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মো. মোতাহার হোসেন যে রায় ঘোষণা করেন, তাতে দশ আসামিকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। নিম্ন আদালতের রায়ের পর ওই বছরই আসামিদের ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি দ-াদেশের রায়ের বিরুদ্ধে চার আসামি আপিল ও দশ আসামি জেল আপিল করেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৩ জুলাই শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় ২০ জুলাই।
গত ১৩ জুলাই হাইকোর্টে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবীর ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শহীদুল ইসলাম খান। আসামিপক্ষে ছিলেন দেলোয়ার হোসেন, আফজাল এইচ খান ও মো. হেলাল উদ্দিন মোল্লা। ২০০৫ ও ২০০৬ সালের বিভিন্ন সময়ে ওই দশ জেএমবি সদস্য গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন বলে শহীদুল ইসলাম জানান।

দেশের শান্তির উপর আঘাত এসেছে : অর্থমন্ত্রী
অর্থনৈতিক রিপোর্টার : জঙ্গিবাদ নিধনে সরকারের দৃঢ়তা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সমৃদ্ধ, সুখী ও শান্তিময় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার। কিন্তু সম্প্রতি দেশে শান্তির উপর আঘাত এসেছে। দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ চলছে।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। পিকেএসএফর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান ও পিকেএসএফর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম। অর্থমন্ত্রী বলেন, গুলশান হামলার পর সরকার দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে বেশ দৃঢ়তা দেখিয়েছে। গত মঙ্গলবারে কল্যাণপুরে পুলিশের গুলিতে ৯ জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আজকের (বুধবার) পত্রিকায় আপনারা তার নজির কিছুটা দেখেছেন। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। ক্ষুদ্রঋণ সংক্রান্ত ড. ইউনূসের ৩ বছর মেয়াদী প্রকল্প শেষ হওয়ার পর গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয় জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক পুরোপুরি সরকারি প্রতিষ্ঠান। সরকার আলাদা আইন করে এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিল। প্রথম দিকে এই ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রায়ত্ত কিংবা বেসরকারি  কোন ব্যাংক সাপোর্ট দেয়নি। বরং তারা সবাই এক সঙ্গে বিরোধিতা করেছিল। তারপরও সরকার আলাদা কনস্টিটিউশন করে এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য দাতা সংস্থা অর্থায়নে এগিয়ে আসে। ড. কাজী খলিকুজ্জমান বলেন, পিকেএসএফ শুধু ক্ষুদ্র ঋণ নয়, উপযুক্ত অর্থায়নের দিকে নজর দিচ্ছে। যার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই দিচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদনকারীকে বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কাজ করছে। পণ্য বাজারজাতকরণে সুযোগ সৃষ্টি করছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দারিদ্র্য বিমোচন ও বিভিন্ন খাতে অবদান রাখার জন্য দু’জন ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। দেশে কাকড়া উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও রফতানিতে অবদান রাখায় পিকেএসএফর পক্ষ থেকে ভিয়েতনামের নাগরিক ’ফাম দি হং’ কে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়। অন্যদিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ অবদানের জন্য ইউমেনস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা জামিল চৌধুরীকে আজীবন সম্মানে ভূষিত করা হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন