Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

বাজেট বাস্তবায়নে অতীতেও ব্যর্থ হইনি এবারও হব না

বৈশ্বিক মহামন্দা মোকাবেলায় প্রস্তুত সরকার সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ জুলাই, ২০২০, ১২:০১ এএম

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দা মোকাবেলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। করোনা মহামারির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন মহামন্দার দ্বারপ্রান্তে। তাই দেশ ও জাতি একটি ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী একই সমস্যা। তবে দেশের সব ধরনের মানুষ যাতে উপকৃত হয়, এজন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। ইতোমধ্যে ১৯টি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সকল বাঁধা মোকাবেলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের যাবতীয় ব্যবস্থাও সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি করোনাভাইরাসে মৃত্যুবরণকারী সবার আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বলেন, এই প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারির হাত থেকে দেশবাসী ও বিশ্ববাসী যেন মুক্তি পান। চিকিৎসাধীনরা যেন সুস্থ হয়ে ওঠেন। করোনা মোকাবিলায় আরো চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য অল্প সময়ের মধ্যে দুই হাজার ডাক্তার ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। আরো দুই হাজার চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। আরো চার হাজার নার্স নিয়োগ দেবো। সেই নির্দেশ আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ইতোমধ্যে দিয়েছি। শিগগিরই এই নিয়োগ দেয়া হবে। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে তিন হাজার টেকনিশিয়ানের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও জীবন জীবিকা রক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে বাজেট দেয়া হয়েছে। অনেকে বলছেন বাজেট একটু বেশি, আমরা খুব বেশি আশাবাদী, হ্যানো ত্যানো। সব সময় আমাদের একটা লক্ষ্য থাকতে হবে। কোভিড-১৯ এর জন্য সবকিছু স্থবির। আমরা আশাকরি, এই অবস্থা থাকবে না, উত্তরণ ঘটবে। যদি হঠাৎ উত্তরণ ঘটে আগামীতে আমরা কি করব সেটা চিন্তা করেই এই পদক্ষেপ নিয়েছি। তিনি বলেন, এরইমধ্যে আমরা প্রায় এক লাখ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। এই প্যাকেজ সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত যখন হবে তখন ১২ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ সুবিধা পাবে। এছাড়া প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ কর্মসুরক্ষা ও নতুন কর্মসৃজন হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২ অর্জন করব বলে নির্ধারণ করেছিলাম। তবে প্রথম ৮ মাসে আমরা ৭ দশমিক ৮ শতাংশ অর্জন করেছিলাম। করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়াতে সেটা কমে যায় এবং সংশোধন করতে বাধ্য হই। যেটা ৫ দশমিক ২ শতাংশ ধার্য্য করেছি। আমরা আশাকরি ২০২১ সালে বিশ্ব এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি কোভিড-১৯ এর প্রভাব থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসবে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের অর্থনীতি পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে ধরে নিয়ে আগামী ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময় নিম্ন মূল্য স্থিতি ধরে রাখার পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রাক্কলনের যে অনুমানসমূহ বিবেচনা করা হয়েছে তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উৎপাদন ব্যাহত হলেও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর কোন ক্ষতি হয় নাই। যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধের সময় সাধারণত হয়ে থাকে। সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে কর্মসৃজন ও ব্যক্তি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়বে এবং প্রণোদনা প্যাকেজসমূহ সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা মহামারীর পূর্ব অবস্থায় চলে আসবে। অক্টোবর বা নভেম্বর মাসের মধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিষেধক টিকা বাজারে চলে আসলে ইউরোপ আমেরিকায় জীবন যাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আমাদের রফতানি আয় কোভিড-১৯ পূর্ববর্তী অবস্থায় আবার ফিরে যাবে। বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য খুব কমে গিয়েছিল কিন্তু ধীরে ধীরে সেটা আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা আশাবাদী এর ফলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাস আয়ের বর্তমান সঙ্কটও কেটে যাবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়গুলো তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, আমরা ৪টি কৌশলগত কর্মপন্থা ঠিক করেছি। তা হচ্ছে- সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করণ, কর্মসৃজনকে প্রাধান্য দেয়া বিলাসী ব্যয় নিরুসাহিত করা এবং কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় পিছিয়ে দেয়া; আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ প্রণয়ন; সামাজিক সুরক্ষার আওতা বৃদ্ধিকরণ এবং বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা।

সকল বাঁধা মোকাবেলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট বাস্তবায়নে অতীতে আমরা ব্যর্থ হয়নি, ভবিষ্যতেও হবো না। সামনে যতই সঙ্কট আসুক, সরকার শক্ত হাতে তা মোকাবেলা করবে। যতই বাধা আসুক তা মোকাবেলা করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। দেশের কোন মানুষকে অভুক্ত থাকতে দেব না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে, এ ব্যাপারে কাউকে কোন ছাড় দেয়া হবে না। দুর্নীতির মুলোৎপাটন করেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে।

সাধারণ ছুটির মধ্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাজেট প্রণয়ন করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে এটি দ্বিতীয় বাজেট। আওয়ামী লীগ সরকার এ পর্যন্ত ২০টি বাজেট দিয়েছে। বাজেটে আমরা স্বাস্থ্য, কৃষি এবং সামাজিক নিরাপত্তা এগুলোতে জোর দিয়েছি। অতীতের মতো এই বাজেটও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্পূর্ণ সরকারি খরচে হোটেলে থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে থাকা-খাওয়ায় একমাত্র মেডিকেল কলেজের হিসেব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে বলে বিরোধী দলীয় উপনেতা যেটা বলেছেন, এটাকে স্বাভাবিকভাবেই অস্বাভাবিক মনে হয়। তদন্ত করে দেখছি, এত অস্বাভাবিক কেন হলো? এখানে কোনও অনিয়ম হলে সরকার ব্যবস্থা নিবে।
তিনি বলেন, যন্ত্রপাতি, টেস্ট কিট, সরঞ্জামাদি কেনাসহ চিকিৎসা সুবিধা আরো বাড়ানোর লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ে দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছি। আরো একটি প্রকল্প চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে করোনা মোকাবিলায় আমাদের সামর্থ আরো বাড়বে।

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি কীভাবে মানুষকে সুরক্ষা দেয়া যায়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বার বার জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি। নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং সেইসঙ্গে অপরকে সুরক্ষা দেয়া-এটা প্রত্যেকের দায়িত্ব। আশা করি, সবাই এটা পালন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২০ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে প্রাক্কলন দিয়েছে। করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ১৯ কোটি ৫০ লাখ কর্মীর চাকরি হ্রাস, বৈশ্বিক এফডিআই প্রবাহ ৫ থেকে ১৫ শতাংশ হ্রাস এবং বৈশ্বিক রেমিট্যান্স ২০ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ঘোষণা দিয়েছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে আমরা একটি বাজেট প্রণয়ন করেছি। এই বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত কঠিন ও দুরুহ কাজ ছিল। এই বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে জড়িতদের ধন্যবাদ জানাই।



 

Show all comments
  • Sohidul Paik Sohidul Paik ৩০ জুন, ২০২০, ১২:৪৪ এএম says : 0
    এমন মানবিক প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য আল্লাহর অশেষ রহমত দেশরত্ন
    Total Reply(0) Reply
  • H M Tamim Khan ৩০ জুন, ২০২০, ১২:৪৪ এএম says : 0
    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক ২০১৮ প্যানেল প্রত্যাসিদের একটাই প্রার্থনা আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৭ হাজার প্যানেল নিয়োগ চাই
    Total Reply(0) Reply
  • Akash Mondal ৩০ জুন, ২০২০, ১২:৪৬ এএম says : 0
    আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মতো এত ভালো নেতৃত্বের মনোবল এবং সৎসাহসী যোদ্বা পৃথিবীর কোথাও পাবেন না।
    Total Reply(0) Reply
  • Rajib Mahmood ৩০ জুন, ২০২০, ১২:৪৬ এএম says : 0
    ইনশাআল্লাহ সবাই মিলে চেষ্টা করলে সম্ভব। তবে দূর্নীতি দমন না করলে এর ফল পাওয়া যাবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • Mashiur Rahman Dalim ৩০ জুন, ২০২০, ১২:৪৭ এএম says : 0
    দুর্নীতিবাজ নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, তা না হলে কোনো উন্নয়ন টেকসই হবে না......।
    Total Reply(0) Reply
  • Asraful Hasan ৩০ জুন, ২০২০, ১:২৫ এএম says : 0
    আমাদের বাংলাদেশে অন্ধকার থেকে আলোর পথে বাংলাদেশ আসবে ইনশাল্লাহ জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
    Total Reply(0) Reply
  • Abdur Rauf ৩০ জুন, ২০২০, ১:২৫ এএম says : 0
    ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার জন্য...
    Total Reply(0) Reply
  • Mafizur Rahman Rontu Joarddar ৩০ জুন, ২০২০, ১:২৬ এএম says : 0
    আমরা বিশ্বাস করি প্রিয় নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপনার দ্বারাই সম্ভব আপনি থাকলে সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আপনাকে হেফাজত করুক আমিন
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Shah Alam Khan ৩০ জুন, ২০২০, ৮:৫৭ পিএম says : 0
    প্রধানমন্ত্রী প্রতিবছর বাজেট বাস্তবায়ন করে থাকেন এটা সত্য। এবারও তিনি সেটা করবেন এটাও সত্য। ............................................আল্লাহ্‌ আমাদের দেশের সরকারি লোকজনদেরকে আল্লাহ্‌ ভীতি দান করুন যাতে করে তারা অন্যায় করতে ভীত হয়। আমিন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রধানমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন