Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশে বাধা : দিল্লিকে ঢাকার চিঠি

কূটনৈতিক সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৩০ জুন, ২০২০, ১১:২৮ এএম

করোনা সংক্রমণের কারণে বন্ধ থাকা আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু করতে সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশের স্থলবন্দরগুলো খুলে দেয়া হয়। এজন্য বহু দেনদরবার করতে হয়েছে।
ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য প্রবেশ স্বাভাবিক থাকলেও বাংলাদেশ থেকে বেশিরভাগ বন্দর দিয়ে ট্রাক ঢুকতে দিচ্ছে না ভারত।
বিষয়টি দুদেশের মধ্যকার চুক্তির লঙ্ঘণ হিসেবে দেখছে ঢাকা। তবে এ সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। বাণিজ্য স্বাভাবিক করতে ইতোমধ্যে দিল্লিকে চিঠিও পাঠিয়েছে ঢাকা। পররাষ্ট্র এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে নৌ সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত আছি। আপাতত এটুকু বলতে পারি যে, বাংলাদেশি পণ্য ভারতে প্রবেশের বাধা দূর করতে কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা চলছে। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।

সূত্র জানায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে বেশ কিছুদিন দুদেশের মধ্যকার বাণিজ্য বন্ধ থাকায় দুই দেশের অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাণিজ্য স্বাভাবিক করতে প্রথমে উদ্যোগ নেয় ভারত। দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও উন্নয়নে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে বাংলাদেশের বাণিজ্য, পররাষ্ট্র এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়সহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক হয়।
এ ছাড়া একাধিক ফোনকল ও ভার্চুয়াল বৈঠকে বাণিজ্য স্বাভাবিক করার বিষয়ে জোর দিতে থাকে ভারত। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য নিয়ে বৈঠক হয়। এসব বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে ৬ জুন থেকে বাংলাদেশে পণ্য রফতানি শুরু করে ভারত। তবে বাংলাদেশি পণ্য দেশটিতে প্রবেশে বাধা পেতে থাকে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশে বাধা পাওয়া নিয়ে ইতোমধ্যে ভারতের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হয়েছে। ভারতীয় পণ্য আমদানির মতো বাংলাদেশি পণ্য রফতানিও যাতে নির্বিঘেœ হয় সে বিষেয়ে দিল্লিকে চিঠিও দেয়া হয়েছে। তবে সমস্যার সমাধান হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনও। তিনি বলেন, আমরা দুপক্ষই বাণিজ্য চালু করতে একমত হয়েছি। দুদেশের চুক্তি অনুযায়ী সমানভাবে পণ্য আমদানি ও রফতানি চলবে। কিন্তু কেন বাংলাদেশ পণ্য রফতানি করতে পারছে না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এর আগে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার রাজি থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের বাধায় কিছুদিন দুদেশের স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ রাখতে হয়। তখন বাংলাদেশি সীমানায় পণ্য দিতে আসা ট্রাক চালকদের বাধ্যতামূলক ১৪দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখার কথা বলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এরপর দুদেশের জিরো পয়েন্টে পণ্য নামানোর সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ওই স্থানে সব পণ্য নামিয়ে আবার বাংলাদেশি ট্রাকে তোলার মতো পরিস্থিতি না থাকায় এই সিদ্ধান্ত কাজে দেয়নি।
বাধ্য হয়ে তখন আমরা রেলপথে পণ্য পরিবহনের কথা ভাবি। এরপর নানা আলোচনার মাধ্যমে আবারও বন্দর খোলার সিদ্ধান্ত আসে। কিন্তু এরপরেও বাংলাদেশি পণ্য ভারতে প্রবেশ করতে না পারা দুঃখজনক। আশা করি, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।

 



 

Show all comments
  • saif ৩০ জুন, ২০২০, ১২:২২ পিএম says : 0
    আমাদের মন্ত্রী মহোদয় কেবল হতাশ হয়েই থাকেন!!! এটাই শান্তনা। বন্ধ করেদিন আমদানি দেখেন এক দিনেই সব ঠিক হয়ে যাবে। বলে দিন এক ট্রাক যে পরিমান আসবে সেই পরিমান যেতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • habib ৩০ জুন, ২০২০, ১২:৩৯ পিএম says : 0
    Awamliguer hate bangladesh ki nirapod....r koto ?
    Total Reply(0) Reply
  • Azgar Miah ৩০ জুন, ২০২০, ১:৩৭ পিএম says : 0
    আমাদের মন্ত্রী মহোদয় কেবল হতাশ হয়েই থাকেন!!! এটাই শান্তনা। বন্ধ করেদিন আমদানি দেখেন এক দিনেই সব ঠিক হয়ে যাবে। বলে দিন এক ট্রাক যে পরিমান আসবে সেই পরিমান যেতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ আইয়ুবআলীসিকদার ৩০ জুন, ২০২০, ১:৪১ পিএম says : 0
    আমাদের মন্ত্রী সাহেবরা খুব ভিতু বাংলাদেশের পণ্যে ভারতে যাবেনা ভারতের পণ্য আমাদের দেশে আসবেনা ঐ ভারতীয়দের তেল মাখিয়ে লাভ নে।
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃআসাদুজ্জামান ৩০ জুন, ২০২০, ৩:০৬ পিএম says : 0
    এখনই সময় ভারতকে সঠিক জবাব দেওয়া। তবে দুদেশের সাথেই ভালো সম্পর্ক রেখে কাজ করতে হব।
    Total Reply(0) Reply
  • Zahangir ৩০ জুন, ২০২০, ৩:৩১ পিএম says : 0
    যতোদিন ভারতকে সরকার নমো নমো করবে।,ততোদিন তারা এরকমই করবে। এটা হচ্ছে চীন কতৃক বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত বানিজ্যিক সুবিধা প্রদানের বিরুদ্ধে হিংসুটে প্রতিবেশীর নিম্নমানের প্রতিশোধ গ্রহণের ইঙ্গিত।
    Total Reply(0) Reply
  • Zahangir ৩০ জুন, ২০২০, ৩:৩১ পিএম says : 0
    যতোদিন ভারতকে সরকার নমো নমো করবে।,ততোদিন তারা এরকমই করবে। এটা হচ্ছে চীন কতৃক বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত বানিজ্যিক সুবিধা প্রদানের বিরুদ্ধে হিংসুটে প্রতিবেশীর নিম্নমানের প্রতিশোধ গ্রহণের ইঙ্গিত।
    Total Reply(0) Reply
  • Azad mullah ৩০ জুন, ২০২০, ৪:০৬ পিএম says : 0
    ভারতের মাটিতে আমাদের পনন জাইতে দেবে না তাহলে আমরা ও ভারতের পনন আমদানি করা বন্ধ করে দেব তাহলে সবটাই টিক হয়ে যাবে চিন্তা কা কৈ করান নেহি হে টিট ফর টিট ভারতের সাথে সম্পর্ক সমান সমান থাকতে হবে যাহাতে ওরা আমাদের দেশের সাথে কোন প্রকার ভণ্ডামি না করতে পারে
    Total Reply(0) Reply
  • Md.A.Islam ৩০ জুন, ২০২০, ৬:৪৩ পিএম says : 0
    Here is Indian policy very low class.
    Total Reply(0) Reply
  • MD.MIZANUR RAHMAN ৩০ জুন, ২০২০, ৫:২৩ পিএম says : 0
    ALL WAYES INDIA DELIVERT MATERIALS TO BANGLADESH,BUT THE ARE DID NOT LIKE TO TAKE FROME BANGLADESH , PLEASE VERY STONG ACOTION TAIL TO INDIA ONE TRUCK DELIVERT AND SAME ONE TRUCK COME BACK TO BANGLADESH,
    Total Reply(0) Reply
  • Asif ১ জুলাই, ২০২০, ৪:৫০ পিএম says : 0
    ভারতের মতো স্বার্থপর-বর্বর- নোংরামির দেশ পৃথিবীতে আর একটা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত-বাংলাদেশ


আরও
আরও পড়ুন