Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

ইলিশপোনা-জাটকা আহরন পরিবহন ও বিপননে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে মধ্যরাতে

উৎপাদন সাড়ে ৫ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে

নাছিম উল আলম | প্রকাশের সময় : ৩০ জুন, ২০২০, ১২:৪২ পিএম

ইলিশ সম্পদ সমৃদ্ধ করার লক্ষে দেশের অভ্যন্তরীন নদ-নদীতে জাটকা আহরন,পরিবহন ও বিপননে ৮ মাসের নিষেধজ্ঞা উঠে যাচ্ছে আজ মধ্য রাতে। ফলে দেশ ইলিশ সহ মৎস্য সম্পদে আরো সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করছে সরকারের দায়িত্বশীল মহল। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে দেশে ইলিশের সহনীয় আহরন ছিল প্রায় সোয়া ৫ লাখ টন। যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে আরো সাড়ে ৫ লাখ টনে বৃদ্ধির আশা করছে মৎস্য অধিদপ্তর।
আশি^নের বড় পূর্নিমার আগেÑপরের ২২দিন ইলিশের মূল প্রজননকালে উপক’লের ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকার প্রজনন এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরন সহ অভ্যন্তরীন ও উপক’লীয় সব নদ-নদীতে ইলিশ আহরন সহ পরিবহন ও বিপনন নিষিদ্ধ থাকে। এসময়ে নিষিক্ত ডিম থেকে যে পোনা জন্মে তা সংরক্ষনেই মৎস্য বিজ্ঞানীদের সুপারিশ অনুযায়ী প্রতিবছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে ইলিশ-পোনা ‘জাটকা’ আহরন,পরিবহন ও বিপনন নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে সরকার। ইতোপূর্বের জাটকার দৈর্ঘের সংজ্ঞা পরিবর্তন করে এখন ৩০ সেন্টিমিটার করা হয়েছে।
চলতি বছরও সে আলোকে দীর্ঘ ৮ মাস জাটকা অহরন,পরিবহন ও বিপননে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এসময়কালে ইলিশ আহরনে নির্ভরশীল জেলেদের একটি বড় অংশ কর্মহীন থাকে। সরকার এবারো উপক’লের ২০টি জেলার ৯৬টি উপজেলার কর্মহীন জেলেদের ৪০ কেজি করে ৪ মাসের খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৫ লাক্ষাধীক টন চাল বিতরন করেছে। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলার ১ লাখ ৮৫ হাজার জেলেকে প্রায় ১৫ হাজার টন চাল বিতরন করা হয়েছে।
তবে জাটকা আহরন, পরিবহন ও বিপনন নিষিদ্ধকালীন সময়ে দক্ষিণাঞ্চল সহ সারা দেশে এবারো প্রশাসন, পুলিশ, কোষ্ট গার্ড ও নৌ বাহিনীর সহায়তায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার অভিযান ও সহশ্রাধীক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দেড় শতাধীক টন জাটকা ও আরো প্রায় ২০ টন অন্যান্য মাছ অটক ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এসময়ে ৭ শতাধীক জেলে ও ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ডাদেশ সহ প্রায় ৪০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও মামলা দায়ের করা হয়েছে ৫ শতাধীক। জাটকা আহরন কাজে ব্যবহৃত নৌকা, জাল ও আহরন উপকরন সমুহ নিলামে বিক্রী করে আয় হয়েছে আরো প্রায় ২০ লাখ টাকা।
আমাদের অর্থনীতিতে ইলিশের একক অবদান এখন ১%-এর ওপরে। আর মৎস্য সম্পদে ইলিশ-এর অবদান প্রায় ১২-১৩%। মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, সারা বিশ্বে ইলিশের উৎপাদন হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে প্রতি বছর তা গড়ে ৫-১০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দেড় দশকে দেশে ইলিশের উৎপাদন প্রায় তিনগুন বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় সোয়া ৫ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে সারা বিশ্বে আহরিত ইলিশের ৬০%-এরও বেশী বাংলাদেশে উৎপাদিত ও আহরিত হচ্ছে।
অপরদিকে মৎস্য অধিদফ্তরের সুপারিশের আলোকে পটুয়াখালীর আন্ধারমানিক নদীতে গত নভেম্বর থেকে জানুয়ারী মাসে এবং মার্চÑএপ্রিল মাসে শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও দক্ষিনে চাঁদপুর জেলার মতলব ও শরিয়তপুর উপজেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে অবিস্থিত পদ্মা নদীর ২০কিলোমিটার এলাকা সহ বরিশালের হিজলা উপজেলার নাছকাটা পয়েন্ট, হরিনাথপুর পয়েন্ট, ধুলখোলা পয়েন্ট ও মেহেদিগঞ্জ উপজেলার ভাষানচর পয়েন্ট এলাকার মেঘনার শাখা নদী, হিজলা উপজেলার ধর্মগঞ্জ, নয়াভাঙনী নদী এবং মেহেদিগঞ্জ উপজেলার লতা নদীর ৬০কিলোমিটার এলাকায় অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে।
তবে জাটকা আহরনে নিষেধাজ্ঞা মঙ্গলবার মধ্যরাতে উঠে গেলেও বঙ্গাপসাগরে গত ২০ মে থেকে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা ২৩ জুলাই পর্যন্ত বলবত থাকছে। বিষয়টি নিয়ে জেলেরা কিছুটা বিপাকে পরেছেন। জেলেদের অভিযোগ, ১জুলাই থেকে জাটকা আহরনে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও সাগরে জাল ফেলতে পারবে না জেলেরা। তবে মৎস্য অধিদপ্তরের অভিমত, সাগরে যে সময়ে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, তা আবহাওয়ার অশান্তকাল। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে এ সময়ের বেশীরভাগই জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতেই বাধ্য হয়।
দেশের ৪০টি জেলার ১৪৫টি উপজেলার দেড় হাজার ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ জেলে পরিবার ইলিশ আহরনে সম্পৃক্ত। যার ৩২% সার্বক্ষণিক এবং ৬৮% খন্ডকালীন। এমনকি ইলিশ বিপনন, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরন, জাল, নৌকা ও বরফ তৈরী এবং মেরামত কাজেও প্রায় ২০-২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। শুধুমাত্র বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলাতেই প্রায় সোয়া ৩ লাখ জেলে এ পেশার সাথে জড়িত। যার ৬৫% সার্বক্ষণিক ইলিশ আহরনে জড়িত বলে মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন