Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৬ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ এর ৮১.৯৮% মালিকানা কিনে নিলো ইউনিলিভার; দেশের পুষ্টি ইতিহাসে নতুন মাইলফলক

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩০ জুন, ২০২০, ৭:৩৩ পিএম

ইউনিলিভার আজ ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ এর পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাদ্য ও পানীয় পণ্যসামগ্রী অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছে। বিশ্বের অন্যতম বড় ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, তারা সেটফার্স্ট (জিএসকে গ্রুপ) এর কাছ থেকে গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ এর ৮১.৯৮% মালিকানা অধিগ্রহণ করেছে। ২০১৮ সালের ৩রা ডিসেম্বর ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই অধিগ্রহণ কার্যক্রমটি প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলো। বর্তমানে সেগুলো নিশ্চিত করা হয়েছে। এই অধিগ্রহণের আওতায় জিএসকে এর পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ জনপ্রিয় খাদ্য ও পানীয় ব্র্যান্ড হরলিক্স, বুষ্ট ও গ্লাক্সোস-ডি এর মালিকানা অর্জন করেছে ইউনিলিভার।

ইউনিলিভারের অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিলিভার ওভারসিজ হোল্ডিংস বি.ভি’ গত রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে জিএসকে বাংলাদেশ এর ৯৮,৭৫,১৪৪ টি শেয়ার বা ৮১.৯৮% মালিকানা কিনে নিয়েছে। জিএসকে বাংলাদেশ এর বাকি ১৮% মালিকানা সাধারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এই অধিগ্রহণ কার্যক্রমটি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সব চেয়ে বড় লেনদেনের ঘটনা। পুষ্টিকর খাদ্যপণ্য এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধির উদীয়মান বাজারে নিজের উপস্থিতি বাড়ানোর ব্যাপারে ইউনিলিভার ঘোষিত কৌশলেরই অংশ হিসেবেই বিশাল এই লেনদেনটি সম্পন্ন হয়েছে।

অধিগ্রহণের এই ঘটনাটি বাংলাদেশে ইউনিলিভারের একটি লাভজনক ও টেকসই পুষ্টি ব্যবসা গড়ে তোলার লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। এছাড়া অপুষ্টি দূরীকরণে বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত জাতীয় এজেন্ডাকেও সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করবে। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাদ্যপণ্যের বাজারে গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন কনজ্যুমান হেলথকেয়ার লিমিটেডকে পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হরলিক্স ও বুস্টের মতো পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ অসংখ্য আইকনিক ব্র্যান্ড তাদেরই সৃষ্টি।

পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য ও পানীয় পণ্যের বাজার বাংলাদেশে এখনো সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারেনি। এক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা ও ব্যাপ্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাজারটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে ইউনিলিভার বেশ সুবিধাজনক অবস্থানের রয়েছে। ইউনিলিভারের শক্তিশালী বাজার ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে জিএসকে এর ব্র্যান্ড গুলোকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এখানে বিশাল সম্ভাবনা বিরাজ করছে।

অধিগ্রহণের ঐতিহাসিক মুহূর্তে ইউনিলিভার বাংলাদেশ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কেদার লেলে বলেন, “আজকের দিনটি আমাদের জন্য স্মরণীয় এবং অনেক অপেক্ষার একটি দিন। মহামারীর চলমান এই বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশে আমরা অত্যন্ত সফলভাবে জিএসকে কনজ্যুমার হেলথকেয়ার বিজনেসের অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় এই লেনদেন প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সহায়তা করার জন্য জিএসকে বাংলাদেশ বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সকল নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।“

তিনি আরও বলেন, “২০২০ সালের মধ্যে ১০০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার উন্নয়ন নিশ্চিত করা ইউনিলিভার এর ‘টেকসই জীবন পরিকল্পনা’র (ইউনিলিভার সাসটেইনেবল লিভিং প্ল্যান) অন্যতম মূল স্তম্ভ। হরলিক্স এবং বুস্ট ব্র্যান্ড দু’টি ইউনিলিভারের এই লক্ষ্যপূরণে সহায়তা করার পাশাপাশি জীবনের কাছ থেকে আরও বেশিকিছু পেতে ভোক্তাদেরকেও সাহায্য করবে। দায়িত্বশীল ব্যবসার পরিচালনার মাধ্যমে দেশের পুষ্টি ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর জন্য ইউনিলিভার বিশ্বব্যাপীই সুপরিচিত। জিএসকে-তে তৈরি করা উচ্চ পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক পুষ্টিমান ধরে রাখার পাশাপাশি সেটার আরও বেশি উন্নয়নে আমরা ইউনিলিভারের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করবো।”

“ইনিলিভার বাংলাদশের বড় এই পরিবারে জিএসকে এর ১৪৭ কর্মীকে স্বাগত জানাতে পারছি এবং এটি আমার কাছে অনেক অর্থবহ। দ’ুটি প্রতিষ্ঠানেরই একটি সাধারণ মূল্যবোধ রয়েছে, যেটি উত্তরাধিকারসূত্রে তাদের যার যার মূল কোম্পানির মুল্যবোধ থেকে এসেছে। বিশ্বস্ত আইকনিক ব্র্যান্ড গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও কোম্পানি দু’টির অতীত ঐতিহ্য রয়েছে।”-বলেন কেদার লেলে।

প্রতিষ্ঠান হিসেবে জিএসকে বাংলাদেশ নতুন নামে নিজস্ব কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। এক্ষেত্রে বাজারে এর সকল পণ্য (হরলিক্স, বুস্ট, গ্লুাক্সোস-ডি) ঐ প্রতিষ্ঠানের পণ্য হিসেবে বাজারে থাকবে। কোম্পানির ৮১.৯৮% শেয়ারের মালিক হিসেবে পণ্যগুলোর মালিকানা এবং যাবতীয় দায় গ্রহণ করবে ইউনিলিভার।

ইউনিলিভার বাংলাদেশ সম্পর্কে:
ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, যারা ৫৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের প্রতি ১০টি পরিবারের ৯টিই তাদের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা মেটাতে উক্ত প্রতিষ্ঠানের পণ্য ব্যবহার করে থাকে। সবার জন্য টেকসহ জীবনমান সম্পন্ন একটি বিশ^ গড়ে তোলার মাধ্যমে ব্যবসায়িক সম্প্রসারণই ইউনিলিভার বাংলাদেশের লক্ষ্য। পরিবেশ দূষণে নিজেদের ভূমিকা হ্রাসের পাশাপাশি নানামুখী কর্মকা-ের মাধ্যমে সমাজের বুকে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে চলেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ (ইউবিএল)।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ