Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ২১ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

লাদাখে ২০ হাজার সেনা ও আজাদ কাশ্মীরে চীনের জেট বিমান

সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে উদ্বিগ্ন ভারত

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩ জুলাই, ২০২০, ১২:০৪ এএম

ভারত-চীনের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা থামাতে দু’দেশের মধ্যে তিন তিনবার শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক বৈঠক হয়েছে। ভারত প্যাংগং ও গালওয়ান উপত্যকায় দখল করা জমি ছাড়তে বললে চীন উল্টা লাদাখ সীমান্তে ভারতীয় সেনা কমানোর চাপ দেয়। এমন এক পরিস্থিতিতে জানা গেল, পাকিস্তানি ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীনা বিমান বাহিনী। নিচ্ছে প্রস্তুতিও। এছাড়াও পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা এলএসি বরাবর ২০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে চীন। শুধু তাই নয়, এলএসি থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে জিনজিয়াং প্রদেশেও একটি ডিভিশন (১০ থেকে ১২ হাজার জওয়ান) তৈরি রেখেছে পিএলএ। নির্দেশ পেলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সীমান্তে উপস্থিত হবে চীনা ডিভিশনটি।

ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিবাদের মধ্যে চীন পাকিস্তানকে ব্যবহার করছে। পাকিস্তানের অধীনে থাকা কাশ্মীরের স্কার্দু বিমান ঘাঁটিকে কাজে লাগাচ্ছে। সেখানে চীনের বিমান বাহিনীর মুভমেন্ট দেখতে পেয়েছে ভারতের এজেন্সি। তারা সতর্ক করে দিয়েছে ভারতকে। তাদের দেয়া খবর অনুযায়ী ৪০টিরও বেশি চীনা ফাইটার জেট ‘জে-১০’ স্কার্দুতে দেখা গেছে। ভারতশাসিত লাদাখের লেহ নামক একটি শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দ‚রে অবস্থিত পাকিস্তানের এই বিমান ঘাঁটিটি। যেকোনো চীনা বিমান ঘাঁটি থেকে এটা ভারতের অনেক কাছে। এই জন্যে চীন স্কার্দু বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করে নিজের শক্তি পরীক্ষা চালাতে চায়। যাতে ভারতের একদম কাছ থেকে ভারতের ওপর হামলা চালানো যায়। তাই ভারতকে এবার ২টি আলাদা সীমান্তে লড়াইয়ের জন্য তৈরি থাকতে হচ্ছে।

দেশটির গণমাধ্যমে আরো বলা হয়, লাদাখের বিরুদ্ধে চীনের ব্যবহার করার জন্য তিনটি বিমান ঘাঁটি রয়েছে। সেখান থেকে ফাইটার এয়ারক্রাফট ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো হলো কাশগড়, হোতান আর নাগ্রী গুরগুংসা। এই এয়ারবেসগুলো থেকে তাদের হামলা চালানোর ক্ষমতা সীমিত। কাশগড় থেকে লেহর দূরত্ব ৬২৫ কিলোমিটার, খোতান থেকে ৩৯০ কিমি, ও গুরগুংসা থেকে ৩৩০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। এগুলো সবই ১১ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় রয়েছে। আর সেখানেই ১০০ কিলোমিটার দূরে স্কার্দু চীনের জন্য সবচেয়ে ভালো অপশন।

ভারতশাসিত লাদাখের কারগিল নামক শহর থেকে স্কার্দু ৭৫ কিলোমিটার দূরে। এই বিমান ঘাঁটির ২টি রানওয়ে আছে। একটি আড়াই কিলোমিটার লম্বা, আর দ্বিতীয়টি সাড়ে তিন কিলোমিটার লম্বা। চীনা ফাইটার জেট এই বিমান ঘাঁটি থেকে কাজ করে আবার সেখান থেকে ফিরে যেতে পারবে। আর ভারত যদি স্কার্দুতে পাল্টা হানা দেয় তাহলে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, এমনিতে তিব্বতে দু’টি চীনা ডিভিশন মোতায়েন ছিল। এবার মূল চীনা ভূখন্ডের সুদূর প্রান্ত থেকে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটারের সফর শেষে এসে পৌঁছেছে আরও দু’টি চীনা ডিভিশন। দ্রুত গতিতে ময়দানে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এদের সঙ্গে রয়েছে সাঁজোয়া গাড়ির সম্ভার ও হামলা চালানোর জন্য ভারি হাতিয়ার।

এদিকে, চীনা গতিবিধির উপর নজর রেখে তৈরি ভারতও। পূর্ব লাদাখে অতিরিক্ত দু’টি ডিভিশন মোতায়েন করেছে ভারতীয় ফৌজ। পাশাপাশি, দৌলত বেগ ওলডিতে মোতায়েন থাকা ‘আরমরড ব্রিগেড’কে মদদ দিতে তড়িঘড়ি বায়ুসেনার পণ্যবাহী বিমানে উড়িয়ে আনা হয়েছে বিএমপি-২ ও টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাংকও। শুধু তাই নয়, কারাকোরাম গিরিপথ থেকে গালওয়ান উপত্যকায় চীনের যুদ্ধ প্রস্তুতি নজরে রেখে আর একটি ডিভিশন মোতায়েন করার কথাও ভাবছে ভারত। বর্তমানে পূর্ব লাদখের সুরক্ষার দায়িত্ব রয়েছে কারু স্থিত ‘ত্রিশূল ইনফ্যান্টরি ডিভিশন’-এর হাতে।
দেশটির গণমাধ্যম জানায়, বারবার বৈঠকের পরেও গালওয়ান উপত্যকা ও প্যাংগং লেক থেকে সেনা সরিয়ে নিতে নারাজ চীন। ফলে বেজিংয়ের যে কোন পদক্ষেপের জবাব দিতে স্থল ও আকাশ পথে জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। স্থল ও আকাশ পথের প্রস্তুতির পাশাপাশি এবার পানি পথেরও প্রস্তুতি নিয়েছে ভারত।

ভারতীয় সেনা সূত্রে জানা যায়, প্যাংগং লেকে নতুন করে টহলে নামছে ভারতীয় নৌবাহিনীর ভেসেল। প্যাংগং লেকে কড়া নজরদারির জন্য এক ডজন স্টিলের ভেসেল পাঠানো হচ্ছে। জানা যায়, প্যাংগং লেকে টহলদারির জন্য চীনের রয়েছে ৯২৮বি ভেসেল। সূত্র : এএনআই, নিউজ এইটিন, টাইমস অব ইন্ডিয়া।



 

Show all comments
  • Golam Kibria ২ জুলাই, ২০২০, ১:০২ এএম says : 0
    ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কি আছে? নিরিহ বাংগালীদের নিয়মিত মারতেছে। এবার চিন তা শোধ করে অতিরিক্ত পুশিয়ে দিবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Mujibur Rahman Roman ২ জুলাই, ২০২০, ১:০২ এএম says : 0
    এবার মনে হয় কাশ্মীর স্বাধীন হয়ে যাব ইনশাআল্লাহ ।দেখা যাক আল্লাহ মুসলিমদের ভাগ্যে রাখে।।
    Total Reply(0) Reply
  • নাসিম ২ জুলাই, ২০২০, ১:০৩ এএম says : 0
    দাদাদের এবার ধুতি খুলে যাবে। কাশ্মীর ভারতের বর্বরতা থেকে মুক্তি পাক।
    Total Reply(0) Reply
  • Habib Ahsan ২ জুলাই, ২০২০, ১:০৩ এএম says : 0
    লাগলে লাগ না হলে যার যার বারি যা
    Total Reply(0) Reply
  • নাঈম বি এস এল ২ জুলাই, ২০২০, ১:০৪ এএম says : 0
    পাকিস্তানকে এই সুযোগে ভারতীয় বাহিণীর দমন পীড়ন নৃশংসতা থেকে কাশমীরের মুসলিমদের রক্ষায় কঠোর একটা উদ্যোগ নেয়া জরুরি। সুযোগ সবসময় আসে না।
    Total Reply(0) Reply
  • নাঈম বি এস এল ২ জুলাই, ২০২০, ১:০৪ এএম says : 0
    পাকিস্তানকে এই সুযোগে ভারতীয় বাহিণীর দমন পীড়ন নৃশংসতা থেকে কাশমীরের মুসলিমদের রক্ষায় কঠোর একটা উদ্যোগ নেয়া জরুরি। সুযোগ সবসময় আসে না।
    Total Reply(0) Reply
  • Hossain Ahmad ২ জুলাই, ২০২০, ৮:০২ এএম says : 0
    আমি বরাবরই যুদ্ধের বিরোধী। তবে ভারতকে শায়েস্তা করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
    Total Reply(0) Reply
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩ জুলাই, ২০২০, ১:২৪ এএম says : 0
    চিন ভারতকে ভয় পাচ্ছে বিধায় পাকিস্তানের সাহায্য নিচ্ছে। চিনের মনে রাখা উচিৎ হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই, মিলে গেলে কিন্তু খবর আছে। আশা রাখি সাবেক ভারতবষ'চিনের মত নাস্তিকদের বিরুদ্ধে এক হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩ জুলাই, ২০২০, ১:২৬ এএম says : 0
    চিন ভারতকে ভয় পাচ্ছে বিধায় পাকিস্তানের সাহায্য নিচ্ছে। চিনের মনে রাখা উচিৎ হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই, মিলে গেলে কিন্তু খবর আছে। আশা রাখি সাবেক ভারতবষ'চিনের মত নাস্তিকদের বিরুদ্ধে এক হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • নাম প্রকাশ নিষেধ ৩ জুলাই, ২০২০, ৯:৩৫ এএম says : 0
    দাদাগিরীএবার ছুটে যাবে
    Total Reply(0) Reply
  • নাম প্রকাশ নিষেধ ৩ জুলাই, ২০২০, ৯:৩৬ এএম says : 0
    দাদাগিরীএবার ছুটে যাবে
    Total Reply(0) Reply
  • মুসলমানদের চিনের সাহায্য দরকার নেই, আমাদের আল্লাহ সাহায্য করবেন, ইনশাআল্লাহ।
    Total Reply(0) Reply
  • অনিচ্ছুক ৩ জুলাই, ২০২০, ৬:৫৬ পিএম says : 0
    বাংলাদেশীদের মন্তব্য দেখে হাসি পাচ্ছে, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হলে সবসময় উলুখাগরা ই ধ্বংস হয়, ভারত আর চিন দুজন ই বিশ্ব শক্তি আর বাংলাদেশ আঞ্চলিক শক্তি ও নয় তাই কিছু গার্মেন্ট ব্যাবসা আর সৌদি থেকে পাঠানো শ্রমিকদের টাকায় এইসব মন্তব্য মানায় না
    Total Reply(0) Reply
  • সাগর ৩ জুলাই, ২০২০, ১১:০৫ পিএম says : 0
    দাদারা নিজেদেরকে বিশ্ব শক্তি মনে করছেন, চীনের সঙ্গে একবার লেগে দেখুন ৬২সালের চেয়েও আপুদের জন্য অপেক্ষা করছে। এটা বাংলাদেশ না যে পাখির মত মেরে চলে যাবেন
    Total Reply(0) Reply
  • ভরত ৪ জুলাই, ২০২০, ১২:৫৪ এএম says : 0
    তিন পাকিস্তানিদের সাহায্য নিচ্ছে আর ভারতকে সাহায্য করার জন্য তাবর তাবর শক্তিধর দেশ এগিয়ে আসছে, কিছু বোঝো বাছাধনেরা?
    Total Reply(0) Reply
  • ভরত ৪ জুলাই, ২০২০, ১২:৫৪ এএম says : 0
    তিন পাকিস্তানিদের সাহায্য নিচ্ছে আর ভারতকে সাহায্য করার জন্য তাবর তাবর শক্তিধর দেশ এগিয়ে আসছে, কিছু বোঝো বাছাধনেরা?
    Total Reply(0) Reply
  • সাগর ৪ জুলাই, ২০২০, ২:২১ এএম says : 0
    ৬২ সালে দখলকরা অঞ্চল ছেড়ে দিলেও এবার আর চীন তা ছাড়বে বলে মনে হয় না
    Total Reply(0) Reply
  • APU ৪ জুলাই, ২০২০, ১১:৫৮ এএম says : 0
    Dear my Bangladeshi brethren, its really sad to see irresponsible comments from some of you.We wonder as to what makes you so much antagonistic to Bharat.Frankly speaking we are not bothered about your internal matters and never ever have we felt to interfere.We always have been for a progressive abd prosperous Bangladesh so that poor Bangladeshis need not criss over to our country for doing some odd jobs in order to eke out a living. May the Almighty provide you with some good sense
    Total Reply(0) Reply
  • Koromjal ৪ জুলাই, ২০২০, ৯:৩৩ পিএম says : 0
    ভারত কখনো চীনের সাথে যুদ্ধ করবে না। অযথা আপনারা সকলে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করছেন। চীন ইতিমধে্য ভারতের বিশাল অংশ দখলে নিয়ে রেখেছে তা আজ রাহূল গানধির বকতব্যে উঠে এসেছে।হয়তোবা লোকাল লোকজন এর কথা ঠিক যে চীন ভারতে জায়গা দখলে রেখেছে নয়তো তাদের পিএম সঠিক মে চ
    Total Reply(0) Reply
  • Koromjal ৪ জুলাই, ২০২০, ৯:৪২ পিএম says : 0
    ভারত কখনো চীনের সাথে যুদ্ধ করবে না। অযথা আপনারা সকলে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করছেন। চীন ইতিমধে্য ভারতের বিশাল অংশ দখলে নিয়ে রেখেছে তা আজ রাহূল গানধির বকতব্যে উঠে এসেছে।হয়তোবা লোকাল লোকজন এর কথা ঠিক যে চীন ভারতে জায়গা দখলে রেখেছে নয়তো তাদের পিএম সঠিক মে চীন ভারতের কোন জায়গা দখলে নেয়নি। যদি শেষোকতো কথি সঠিক হতো তবে পিএম ২৫০কিমি দূরে মেয়ে মিটি্ঁং করতো না। তারা চীনকে খুব ভয় পায়। কথায় আছে ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পায়।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত

১২ আগস্ট, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ