Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত: বাড়ছে ভোগান্তি অপ্রতুল ত্রাণ: বানভাসীদের মাঝে হাহাকার

কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২ জুলাই, ২০২০, ১০:৩৪ এএম

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে বানভাসীদের বেড়েছে ভোগান্তি। সত্তরভাগ বানভাসীদের কাছে পৌছায়নি ত্রাণ সামগ্রী। আশ্রয়স্থান গুলোতে নেই বিশুদ্ধ পানি ও লেট্রিন সুবিধাদি। টানা ৬দিন ধরে ব্রহ্মপূত্র ও ধরলা নদী অববাহিকায় পানিবন্দী দুই লাখ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন পার করছে। বৃহস্পতিবার (২জুলাই) সকালে ব্রহ্মপূত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৫৫ ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৪৬ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদী ব্রীজ পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা নদী কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৪ সে.মি নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডাক্তার হাবিবুর রহমান জানান, বন্যায় এ পর্যন্ত ৪ শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শিশু ৪জন। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৮৫টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। গত ২৪ঘন্টায় জেলায় ২১জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।
কুড়িগ্রামবাসীকে একদিকে করোনার প্রাদুর্ভাব অপরদিকে বন্যা দুটি দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই দুর্যোগ সময়ে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে দিনমজুর আর নি¤œ আয়ের মানুষদের। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সংকটের আশংকা রয়েছে।
কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙন তীব্ররুপ ধারণ করেছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে সারডোব, মোগলবাসা ও নুনখাওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এছাড়া জয়কুমর, থেতরাই, কালিরহাটসহ আরো ১২টি স্পটে ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছে অন্তত ৫ শতাধিক পরিবার। বিলীন হবার পথে সারডোব বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশ অংশ। ফলে এখানে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলার ৯ উপজেলার ৫০ ইউনিয়নের বন্যা কবলিত এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ৬শ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলসহ সবজি ক্ষেত।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মো: রেজাউল করিম জানান, জেলার বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ৩০২ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবারের জন্য ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নতুন করে আরো ১শ মেট্রিক টন চাল ও ১ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তা দ্রুত বিতরণ করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা পরিস্থিতি


আরও
আরও পড়ুন