Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৬

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩ জুলাই, ২০২০, ১২:০৩ এএম

তিন জেলায় বজ্রপাতে গতকাল ৬ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামে মাছ ধরতে গিয়ে ৪ জন, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় এক কৃষক ও নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় এক গৃহবধূ। এ সময় আহত হয়েছেন ৩ জন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লালমনিরহাট : লালমনিরহাটে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। গতকাল সকালে হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের কালীবাড়ী বিল ও পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের সাকোয়া নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতের কবলে পড়েন তারা। নিহতরা হলেন- হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের বেজগ্রামের এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে মন্টু হোসেন (৩০), একই এলাকার মৃত আব্দুল হমিদের ছেলে আতি (৩৫), পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের খন্দকার আলীর ছেলে জাহেদুল ইসলাম (৩০) ও একই গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে রাকিব হাসান (২৫)। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের কালীবাড়ির বিলে পানি বেড়ে যাওয়ায় সকালে তারা সেখানে মাছ ধরতে যান। এ সময় বজ্রপাতে মন্টু মিয়া ও আতি আহত হলে সহযোগিরা তাদের হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তারা মারা যান।
এদিকে পাটগ্রাম উপজেলায় প্রচুর বৃষ্টিপাতে সাকোয়া নদীতে পানি বেড়ে গেছে। সকালে ৭-৮ মিলে সাকোয়া নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত শুরু হলে রাকিব ও জাহেদুল ঘটনাস্থলেই মারা যান। হাতীবান্ধা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক ও পাটগ্রাম থানার ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল হক বলেন, বজ্রপাতে আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন।
পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বজ্রপাতে মহেশ চন্দ্র দেব (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার একটি গরুও মারা যায়। গতকাল সকালে উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের কাহারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মহেশ চন্দ্র দেবের বাবার নাম মহেন্দ্র নাথ দেব। স্বজনের বরাত দিয়ে বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘সকালে বৃষ্টির মধ্যেই মহেশ বাড়ির পাশে গরু নিয়ে হালচাষ করছিলেন। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হালের একটি গরুও মারা যায়।’
নীলফামারী : নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় বজ্রপাতে ফাতেমা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তার স্বামী আব্দুর মান্নানকে (৫০) গুরুতর আহতাবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকাল ৬টার দিকে উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়নের নওদাবস এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে ওসি মো. মোস্তাফিজার রহমান জানান, সকাল ৬টার দিকে নওদাবস এলাকায় বৃষ্টির মধ্যেই বাড়ির পাশে জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন আব্দুল মান্নান। এসময় তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার স্ত্রী ফাতেমা। এসময় হঠাৎ বজ্রপাতে স্বামী-স্ত্রী দুই জনেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর ঘটনাস্থলেই ফাতেমার মৃত্যু হয়। এলাকাবাসী আশঙ্কাজনক অবস্থায় আব্দুল মান্নানকে উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বজ্রপাত

২৩ জুলাই, ২০২০
১০ জুলাই, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ