Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

ইংল্যান্ডের জার্সিতেও ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’

লোক দেখানো হাঁটু গাড়ায় এই ‘ভাইরাস’ যাবে না

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৪ জুলাই, ২০২০, ১২:০১ এএম

বর্ণবাদ বিরোধী অবস্থান জানান দিতে নিজেদের জার্সির কলারে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ স্লােগান খোদাই করে নামার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার তাদের সঙ্গে প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইংল্যান্ডও যোগ দিচ্ছে। বেন স্টোকসদের জার্সিতেও থাকছে বর্ণবাদ বিরোধী বার্তা।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল ওয়াটফোর্ডের অধিনায়ক ট্রয় ডেনির পার্টনার আলিশা হোসনাহ ক্যারিবিয়ানদের জন্য বর্ণবাদ বিরোধী স্লােগানের লোগোর নকশা করে দেন। তার সঙ্গে পরে যোগাযোগ করে ইসিবিও। জার্সির কলারে এমন স্লােগান রাখার ব্যাপারটা অনুমোদন দিয়েছে আইসিসিও। ইসিবির প্রধান নির্বাহী টম হ্যারিসন বর্ণবাদ ও বিদ্বেষম‚লক মানসিকতার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানাতে তাদের এই উদ্যোগের পেছনে কোন রাজনৈতিক সংগঠন নেই, ‘রাজনৈতিক চিন্তা থেকে অনেক আন্দোলন হচ্ছে, আমরা তা নিয়ে সতর্ক আছি। আমাদের খেলোয়াড়রা এসব কোন রাজনৈতিক আন্দোলনের সমর্থনে নেই। এই সময়টা হচ্ছে একতাবদ্ধতার। আমরা গর্বিত যে খেলোয়াড়রা ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিলে লোগটা জার্সিতে যুক্ত করছে। এটা হচ্ছে সবাই মিলে এক হওয়ার একটা বার্তা।’
করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামলে মাঠে গড়ানো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের জার্সির সামনে থাকবে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ লোগো। বোর্ডের সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন নিয়মিত টেস্ট অধিনায়ক জো রুট ও প্রথম টেস্টে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া বেন স্টোকস। বর্ণবাদ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন রুট, ‘কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা এবং সমতা ও ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি...আমরা বিশ্বাস করি, বর্ণবাদ বা বৈষম্যের কোথাও কোনো স্থান নেই।’
৮ জুলাই থেকে সাউদাম্পটনে দর্শকশূন্য মাঠে জৈব সুরক্ষিত পরিবেশে শুরু হবে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট সিরিজ। সন্তানের জন্ম উপলক্ষে প্রথম টেস্টে থাকছেন না রুট। তার বদলে স্বাগতিকদের নেতৃত্ব দেবেন বেন স্টোকস।
এদিকে শুধু আইন প্রণয়ন করেই এই ‘ভাইরাস’কে সমাজ থেকে দূর করা সম্ভব না বলে মনে করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার কার্লোস ব্রাফেট। ব্রাফেট মনে করেন, মানসিকতা পরিবর্তন না করলে লোক দেখানো হাঁটু গেড়ে লাভ নেই, ‘হাঁটু গেড়ে বসা কিংবা ব্যাজ পরা- এসব যথেষ্ট নয়। আমাদের সবার মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। আমার কাছে গোটা ব্যাপারটাই লোক দেখানো বলে মনে হয়। এসব করলে হয়তো কিছুদিনের জন্য একটু মাতামাতি হবে, কিন্তু আসলেই পরিবর্তন আনতে হলে গোটা সমাজব্যবস্থার দৃষ্টিভঙ্গীতে পরিবর্তন আনতে হবে।’
সমাজের প্রতি কোণে বর্ণবাদ চালু আছে বলে মনে করেন ব্রাথওয়াইট, ‘আমরা প্লেনে উঠে যখন কোনো লম্বা দাড়িওয়ালা লোককে দেখি, তখন কেন তাঁকে সন্ত্রাসবাদী ভেবে বসি? সুপারমার্কেটে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ দেখলে আমাদের কেন মনে হয় যে সে চোর? এটা অনেক বিস্তৃত একটা বিষয়। শুধু হাঁটু গেড়ে কিংবা এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।’
বর্ণবাদ ধীরে ধীরে কমছে বলেই ইংল্যান্ডে জফরা আর্চারের মতো খেলোয়াড় খেলছেন। তার সাফল্য দেখে আরও অনেককে নিয়ে আশাবাদী ব্রাফেট, ‘সব সময় শুনে এসেছি, ইংল্যান্ডে কালো ক্রিকেটারদের একঘরে করে রাখা হয়। দলে নেওয়া হয় না। একজন কালো ক্রিকেটারই কিন্তু শেষমেশ দায়িত্ব নিয়ে তাদের বিশ্বকাপ জিতিয়েছে। ওর সাফল্য দেখে এখন আরও অনেক জফরা আর্চার খেলতে আসবে।’
যুগে যুগে নানা দেশে, নানা অঞ্চলে দেখা গেছে বর্ণবৈষম্য। গত কদিনে বিষয়টি সামনে এসেছে মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের পর।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ব্ল্যাক-লাইভস-ম্যাটার
আরও পড়ুন