Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

করোনা উপসর্গে মৃত্যু ১৩

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৪ জুলাই, ২০২০, ১২:০১ এএম

করোনা উপসর্গ সর্দি, জ্বর, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সারা দেশে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এদের কারো শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ছিল কিনা তা নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে

যশোর ব্যুরো জানায়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেণ্টারে শুক্রবার ঘোষিত করোনার টেস্টের রিপোর্টে আরো ৭২ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ পাওয়া গেছে।
যবিপ্রবির জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুর রশীদ অর্ণব দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, যশোরের ১২৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৮ জনের, মাগুরার ৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২১ জনের ও সাতক্ষীরার ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ যবিপ্রবির ল্যাবে মোট ২৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭২ জনের করোনা পজেটিভ এবং ১৯৪ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে।
এদিকে, যশোরের অভয়নগরে করোনা উপসর্গ নিয়ে কৃষক নিতীশ মজুমদারের (৩৩) মৃত্যু হয়েছে। যশোর জেলায় এই প্রথম করোনায় একজন কৃষকের মৃত্যু হলো।
আমাদের অভয়নগর উপজেলা সংবাদদাতা জানান, অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। হাসপাতাল ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সড়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক নিতীশ মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে এ্যাজমা রোগে ভূগছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকালে বাড়ির পার্শ¦বর্তী বিলে মাছ ধরতে গেলে সেখানে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যরা সন্ধ্যার পর তাকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করালে রাত সাড়ে ৮টার সময় তার মৃত্যু ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.এসএম মাহমুদুর রহমান রিজভীর নেতৃত্বে লাশটির নমুনা সংগ্রহ করে সঠিক ব্যবস্থাপনায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সুন্দলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পরিতোষ বিশ্বাস জানান, বৃহস্পতিবার রাতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কৃষক নিতীশ মজুমদারের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
বরিশাল ব্যুরো জানায়, দক্ষিণাঞ্চলে করোনা সংক্রমনের সংখ্যা ৩ হাজার অতিক্রম করলেও এক দিনের ব্যবধানে আক্রান্ত আবার অর্ধেকে নমে এসেছে। তবে বরিশাল জেলার পরিস্থিতির খুব উন্নতি হয়নি। মহানগরীর অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এসময়ে বরিশাল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আরো ৪ জনের এবং করোনা সংক্রমনে হাসপাতালটিতে বরগুনার বামনার এক জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে গত ৬ দিনে দক্ষিণাঞ্চলে করোনা আক্রান্ত ১৩ জনের মৃত্যু হল। আর এ অঞ্চলে ৩ হাজার ৫৬ জন আক্রান্তের বিপরীতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৬৬ জনের।
করোনার হটস্পট বরিশাল মহানগরীর পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়েই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে ৪৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস সনাক্ত হলেও তার মধ্যে ২৪ জনই বরিশাল জেলায়। এরমধ্যে মহানগরীতে সংখ্যাটা ২০’র কাছাকাছি। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯৫। বরিশালে ৪৭। মহানগরীতে প্রায় ৩৮।
গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণাঞ্চলের অন্যসব জেলাগুলোতেই সনাক্তের হার কমে যাওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যাটা হ্রাস পেয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে গত ৩০জুন দক্ষিণাঞ্চলে মোট আক্রান্ত ১২৮ জনের স্থলে ১ জুলাই সংখ্যাটা ৬৯ জনে হৃাস পেলেও ২ জুলাই তা আবার ৯৫’তে উন্নীত হয়। কিন্তু ৩ জুলাই-শুক্রবার তা আবার ৪৮ জনে হ্রাস পেল। তবে এ অঞ্চলে মৃত্যুর সংখ্যাটা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। গত ২৮ জুন ১জন এবং ২৯ জুন, ৩০ জুন ও ১ জুলাই ৩জন করে আর ২ জুলাই দুজন ও ৩ জুলাই ১জনের মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়।
গতকাল দুপুরের গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনাতে আরো ৮জন আক্রান্তসহ মৃত্যু হয়েছে একজনের। ফলে জেলাটিতে মোট আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে যথাক্রমে ২৬১ ও ৪ জনে। তবে জেলাটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৮ জনসহ মোট ১৫৩ জন সুস্থ হয়ে ওঠার কথা বলেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এসময়ে পটুয়াখালী ও ভোলাতে ৬ জন করে নতুন আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে পাটুয়াখালীতে এপর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যুসহ ৪৩৭ জন আক্রান্ত হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনসহ মোট ৯৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। আর ভোলাতে এপর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুসহ ৩০৮ জন আক্রান্ত হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কারো সুস্থ হবার খবর পাওয়া যায়নি। তবে জেলাটিতে এ পর্যন্ত মোট ১২৭ জন সুস্থ হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।
ঝালকাঠি ও পিরোজপুরেও গত ২৪ ঘণ্টায় অরো দুজন করে করে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে ঝালকাঠিতে ২৩৩ জন আক্রান্ত ও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলাটিতে আরো ৭ জনসহ মোট ১১৪ জন সুস্থ হয়ে ওঠার খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আর পিরোজপুর জেলায় এপর্যন্ত ২১৬জন আক্রান্তের বিপরীতে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলাটিতে সুস্থ রোগীর সংখ্যা ১জনসহ মোট ১৩৬।
এদিকে বরিশাল শের বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় কোন নতুন রোগী ভর্তি না হলেও ৪ জনকে ছাড়পত্র দেয়ার পরে চিকিৎসাধীন ছিল ৪৫ জন। আর হাসপাতালটির আইসোলেশন ওয়ার্ডে নতুন করে ১২ জনকে ভর্তি করা হলেও ৮ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ ওয়ার্ডে মারা গেছেন ৪জন। এনিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট ভর্তিকৃত ৪৪৮ জনের মধ্যে ৬৯ জনের মৃত্যু হল। যারমধ্যে ১২জনের রক্তের নমুনা পরিক্ষার ফলফল জানা যায়নি । সকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন ৫৭ জন। চিকিৎসার পরে এ ওয়ার্ড থেকে ৩০৩ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে হাসপাতালটির করোনা ওয়ার্ডে মোট ভর্তিকৃত ২৭১ জনের মধ্যে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ছাড়পত্র পেয়েছেন ২০৫ জন।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ব্যাংক কর্মকর্তাসহ আরও দুইজন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টা থেকে ২টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতরা হলেন- মহানগরীর শাহমখদুম থানার জিয়াপার্ক এলাকার সেলিম মৃধা (৫০) ও রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রধান মাহাবুবে খোদা।
আর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতরা হলেন- রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার ও মহানগরীর মহিষবাথান এলাকার এখলাসুর রহমান (৪০) এবং মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন রামচন্দ্রপুর এলাকার আশরাফ আলীর স্ত্রী শামীমা বেগম (৪৮)।
রামেক হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শামীমা বেগম জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের ২৯ নং করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার পর পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান শাহমখদুম এলাকার ব্যবসায়ী সেলিম মৃধা। তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।
এরপর রাতে সোয়া ১২টার দিকে মারা যান রাকাবের প্রিন্সিপাল অফিসার এখলাসুর রহমান। তিনি উপসর্গ নিয়ে ২৯ নং করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। এছাড়া রাত ১টা ৪০ মিনিটে ২৯ নং করোনা ওয়ার্ডে মৃত্যু হয় নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রধান মাহাবুবে খোদার। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
মৃতদের মধ্যে শামীমা বেগম ও সেলিম মৃধাকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোয়াণ্টাম ফাউন্ডেশন রাজশাহীতেই দাফন করবে। আর শিক্ষক মাহাবুবে খোদার দাফন করা হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলায়। উপসর্গে মৃত ব্যাংক কর্মকর্তা এখলাসুর রহমানকে তার গ্রামের বাড়ি মাগুরায় দাফন করা হবে।
এদিকে, রাজশাহীর দুটি ল্যাবে একদিনেই ১১৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্তের মধ্যদিয়ে এখন রাজশাহীতে আক্রন্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯০২ জনে। এদের বেশিরভাগই রাজশাহী মহানগরীর বাসিন্দা।
গত বৃহস্পতিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে রাজশাহীর ৭৫ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ দিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে শনাক্ত হয়েছেন রাজশাহীর আরও ৪২ জন।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, তাদের ল্যাবে ১৮২টি নমুনার রিপোর্ট হয়েছে। এতে মোট ৪৪ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে একজনের বাড়ি বগুড়া এবং একজনের বাড়ি পাবনা। বাকি ৪২ জন আছেন রাজশাহী মহানগরীতেই।
এর মধ্যে ২১ জন নগরীর বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ। তিনজন রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক। ১৯ জন রামেক হাসপাতালের অন্যান্য কর্মী এবং রোগী। একজন রাজশাহী সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালের রোগী এবং অন্য ৬ জন বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পুলিশ সদস্য।
এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. বুলবুল হাসান জানান, বৃহস্পতিবার তাদের ল্যাবে ১৮০টি নমুনার রিপোর্ট হয়েছে। এর মধ্যে ৭৭টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ২ জনের বাড়ি পাবনা। বাকি ৭৫ জনই রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
এর মধ্যে ২৯ জনের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। রাজশাহী মহানগর পুলিশের সদস্য ৮ জন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের আছেন ১১ জন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ২ জন। র‌্যাব-৫ এর সদস্য আছেন ২ জন। বাকি ২৩ জন রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
দুই ল্যাবে নতুন ১১৭ জন শনাক্ত হওয়ায় রাজশাহীতে সংখ্যা বেড়ে ৯০২ জনে দাঁড়াল।
বগুড়া ব্যুরো জানায়, বগুড়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন এক গৃহবধূ। মৃত গৃহবধুর নাম নুরুন নাহার (৫৪)। তিনি বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার বাসিন্দা। বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার খায়রুল বাশার মোমিন জানান , ওই গৃহবধু তাঁর স্বামী সহ করোনায় আক্রান্ত হয়ে হোম আইসোলেশনে ছিলেন। তবে তার শ্বাসকষ্ট ও প্রেসার বেড়ে গেলে ১ জুলাই তারস্বজনরা তাকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করেন। ৩ জুলাই (শুক্রবার) সকালে তিনি হাসপাতাল আইসিউতে সারা যান ।
মৃত্যুর পর বিধি অনুযায়ি তাকে দাফন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, কুষ্টিয়ায় নতুন করে আরো ২৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৬৭৮ জন কোভিড রোগী সনাক্ত হলো। আর এ পর্যন্ত জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। গতকাল ২ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিস থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কোভিড ১৯ আপডেটে জানানো হয়-কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে বৃহস্পতিবার ৩৬৭ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার ১৩৯ টি নমুনা ছিল। তাতে জেলায় নতুন করে ২৬ জনকে আক্রান্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তের মধ্যে দৌলতপুর উপজেলায় ৩ জন, মিরপুরে ১ জন, সদরে ১৬ জন, কুমারখালীতে ৪ জন এবং খোকসায় ২ জন । সদর উপজেলায় আক্রান্ত ১৬ জনের ঠিকানা শহরের পেয়ারাতলা ২ জন, হাউজিং ডি ব্লক ১ জন, উত্তর আমলাপাড়া ১ জন, হরিপুর ১ জন, পূর্ব মজমপুর ১ জন, আমলাপাড়া ১ জন , কুমারগাড়া ১ জন, মজমপুর ১ জন, র‌্যাবগলি ১ জন, ঈদগা পাড়া ১ জন, বড়িয়া ১ জন, থানাপাড়া ১ জন, মঙ্গলবাড়িয়া ১ জন, কালিশংকরপুর ২ জন। মিরপুর উপজেলায় আক্রান্ত ১ জনের ঠিকানা অঞ্জনগাছি। দৌলতপুর উপজেলায় আক্রান্ত ৩ জনের ঠিকানা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১ জন, মালিপাড়া ১ জন, আল্লারদরগা ১ জন। কুমারখালী উপজেলায় আক্রান্ত ৪ জনের ঠিকানা সালঘরমাধুয়া ১ জন, আলাউদ্দিন নগর ১ জন, বানিয়াপাড়া ১ জন ও পাণ্টিতে ১ জন। খোকসা উপজেলায় আক্রান্ত ২ জনের ঠিকানা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নতুন আক্রান্তের মধ্যে পুরুষ ১৮ জন, মহিলা ৮ জন। এই নিয়ে কুষ্টিয়ায় এখন পর্যন্ত ৬৭৮ জন কোভিড রোগী সনাক্ত হল। (বহিরাগত বাদে)। উপজেলা ভিত্তিক রোগী সনাক্তের মধ্যে দৌলতপুর ৯২, ভেড়ামারা ৮১, মিরপুর ৪৪, সদর ৩৫২, কুমারখালী ৮৪, খোকসা ২৫ জন। পুরুষ রোগী ৪৯৬ ও নারী ১৮২ জন। সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ২৮৩ জন। উপজেলা ভিত্তিক সুস্থ ২৮১ জন। এর মধ্যে দৌলতপুর ৩৫, ভেড়ামারা ৪৮, মিরপুর ১৮, সদর ১৩১, কুমারখালী ৩৬ ও খোকসায় ১৩ জন। বহিরাগত সুস্থ ২ জন। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ৩৬৪ জন।
স্টাফ রিপোর্টার চাঁদপুর থেকে জানান, চাঁদপুরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে তাদের মৃত্যু হয়। এরা হলেন- ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম মিয়াজি (৭১) ও শ্রী কালিয়া গ্রাামের আবু তাহের (৬০)।
চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুজাদ্দৌলা রুবেল জানান, মৃত দুইজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদেরকে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, গতকাল জেলায় আরও ৩১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার ২১ জন, হাইমচরের দুইজন, মতলব দক্ষিণের দুইজন, মতলব উত্তরের দুইজন, ফরিদগঞ্জের একজন, হাজীগঞ্জের দুইজন ও শাহরাস্তি উপজেলার একজন রয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১০০৩ জন। করোনায় মৃতের সংখ্যা ৬০ জন।
পটুয়াখালী জেলা সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর টাউন কালিকাপুর এলাকায় বসবাসকারী পাংগাশিয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া এলাকার অধিবাসী মোশাররফ হোসেন এর স্ত্রী সালেহা বেগম (৫৫) গতকাল রাতে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের সূত্রে জানা গেছে,গত ২৫ জুন করোনা পজেটিভ শনাক্তকৃত রুগী হিসেবে সালেহা বেগম ভর্তি হয়। গতকাল বিকেলে সালেহা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মৃত সালেহা বেগম এর স্বামী মোশাররফ হোসেন জানান, রাতে সালেহা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে মারা যান। তিনি আরো জানান, করোনা উপসর্গ থাকায় গত ২১ তারিখ তার স্ত্রী সহ পরিবারের সদস্যদের নমুনা প্রদান করেন।২২জুন তার স্ত্রী ও মেয়ের নমুনায় করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয় এবং তার নমুনা নেগেটিভ আসে। পরবর্তীতে তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে গত২৫ জুন সালেহা বেগমকে তার মেয়ে সহ পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় । মেয়ে বর্তমানে সুস্থ অবস্থায় রয়েছে।
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোহনা বেগম (২৫) নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
করোনায় মৃত্যু বরণকারী মোহনা বেগম পৌর এলাকার উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের মকছেদ আলীর মেয়ে। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এনায়েতুল্যা নাজিম ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, মোহনা বেগমকে গত ২৯ জুন ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করলে, তার শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষন দেখা দেয়ায়, তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ২ জুলাই সন্ধা ৬ টায় তার মৃত্যু হয়।
সাতক্ষীরা জেলা সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের নার্সসহ আরো ১৪ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. জয়ন্ত সরকার এ তথ্য জানান।
নতুন করোনা শনাক্তরা হলেন, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রসুলপুরের রওশন আরা (৫২), কমিউনিটি ক্লিনিক সাতক্ষীরার উপ-সহকারী সুলতানপুরের স্বপ্না (৪২), তালা সদরের পরিবার পরিকল্পনা অফিসের কর্মকর্তা রহিমাবাদের সাজেদা খাতুন (৩৬), খেশরা ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য কর্মী মুড়াগাছার আকরাম হোসেন (৫৩), পাটকেলঘাটা থানা সদরের সুশান্ত (৪৪), দেবহাটা উপজেলার সুশীলগাতি গ্রামের বাবুর্চি আমিরুল ইসলাম (৩১), সদরের কাটিয়া মাস্টার পাড়ার রেবেকা (৪৩), একই এলাকার মোহনা ((১৬), ওয়ারসিন কবির (৪৮), আলিপুরের রাশিদুল আলম (৩৫), সুলতানপুরের সঞ্জয় কুমার (৪৮), কাটিয়া সরকার পাড়ার রফিকুল ইসলাম সরদার (৫৮), মুন্সিপাড়ার সালমা পারভীন (৪০) ও একই এলাকার তপু (৪০)। এদিকে, সাতক্ষীরায় নতুন ১৪ জনসহ এপর্যন্ত করোনায় শনাক্ত হলেন ১৯৯ জন। আর স্বামী-স্ত্রীসহ করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন চারজন।
শেরপুর জেলা সংবাদাতা জানান, শেরপুরে এবার নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সদর ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাকে নিয়ে জেলায় ২৬ পুলিশ সদস্যসহ মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৪৮। এদের মধ্যে মোট সুস্থ হয়েছেন ২০১ জন। চারজনের এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় প্রদত্ত স্বাস্থ বুলেটিনে জেলার সিভিল সার্জন এ কে এম আনওয়ারুর রউফ এসব তথ্য জানান।
জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মমেকের পরীক্ষাগারে শেরপুর জেলার ৩৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ওসি আবদুল্লাহ আল মামুনের করোনা পজিটিভ হয়। তিনি থানার সরকারি বাসায় আইসোলেশনে আছেন। শনিবার করোনা পরীক্ষার জন্য তার পরিবারের অন্য সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আরো ১১ জন করোনাজয়ীকে ফুলের শুভেচ্ছা ও ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ৩ জন করোনা চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গতকাল এ তথ্য জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান সরকার। তিনি জানান, রংপুর পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৬৪ জনের নমুনা পাঠানো হয়। পর্যায়ক্রমে ১৮২ জনের রিপোর্ট পাওয়া যায়। এরমধ্যে ১৮ জনের দেহে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। গত বৃহস্পতিবার করোনাজয়ী ১১ জনকে ফুলের শুভেচ্ছা ও ছাড়পত্র দেয়া হয়। করোনাজয়ী এগারো ব্যক্তি হলেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক ডা. রবিউল ইসলাম, তার স্ত্রী ইয়াসমিন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত হারবাল সহকারি হাবিবুর রহমান, ফার্মাসিস্ট আব্দুর রাজ্জাক মিয়া , তারাপুর গ্রামের মৃত যোগেন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে নারায়ণ চন্দ্র সরকার, পৌর সভার নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে আব্দুল মোহ্য়ামিন, সোনারায় ইউনিয়নের আ. রশিদ মিয়া, দহবন্দ ইউনিয়নের ওসমান গণির ছেলে শাহজাহান মিঞা , বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ফারুক আহম্মেদের স্ত্রী জেসমিন বেগম ও মাহামুদ ইসলাম। ১৮ জন করোনা শনাক্তের মধ্যে প্রথম দফায় ৩ জন ও দ্বিতীয় দফায় ১১ জনসহ মোট ১৪ জন করোনাজয়ীকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। বাকী ৪ জনের মধ্যে এক নারী মারা যান। এখন আক্রান্ত ৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরা হলেন সাবেক এমপি আলহাজ্ব ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী লুৎফুল হাসান ও আনছার সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম।
টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলে নতুন করে ২৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় সর্বমোট আক্রান্ত হলো ৬৯৭ জন। জেলায় মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৩১০ জন। মারা গেছে মোট ১৩ জন। নমুনা সংগ্রহের রিপোর্ট পেন্ডিং রয়েছে ১৯৮টি। বাড়িতে ও আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩৫৯ জন। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান শুক্রবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আক্রান্তদের মধ্যে মির্জাপুরে ১৩ জন, মধুপুরে ৭ জন, সদরে ৩ জন, কালিহাতীতে ২, দেলদুয়ারে ১ জন, বাসাইল উপজেলায় ১ জন ও ঘাটাইলে ১জন রয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১৪০ জন, নাগরপুরে ৩৮ জন, দেলদুয়ারে ৪৩ জন, সখীপুরে ২৫ জন, মির্জাপুরে ২৩৩ জন, বাসাইলে ১৪ জন, কালিহাতীতে ৪২ জন, ঘাটাইলে ২৮ জন, মধুপুরে ৪১ জন, ভূঞাপুরে ৩০ জন, গোপালপুরে ৩৫ জন ও ধনবাড়ী উপজেলায় ২৮ জন। এ নিয়ে জেলায় সর্বমোট ৯৯৭ জন আক্রান্ত হয়েছে।
এ পর্যন্ত জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১ জন, দেলদুয়ারে ১ জন, সখীপুরে ১ জন, মির্জাপুরে ৫ জন, ঘাটাইলে ২ জন, মধুপুরে ১ জন, ভূঞাপুরে ১ জন ও ধনবাড়ীতে ১ জন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সদর উদ্দিন জানান, হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে সর্বমোট ২৫ জন ভর্তি হয়। ১৯ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
কুমিল্লা : কুমিল্লায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩ এবং উপসর্গ নিয়ে একদিনেই ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিট এবং আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। গতকাল দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাজেদা খাতুন এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ এলাকার আবদুর রশিদ (৮৫), একই এলাকার হাসিনা বেগম (২৭), কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমানগন্ডা গ্রামের আবদুল হামিদ (৪৫), করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুমেকের আইসিইউতে মারা গেছেন। জেলার লাকসামের শেফালী (৫০), সদর দক্ষিণের আবুল হোসেন (৪৫), মুরাদনগরের লাভলী বেগম (৭০), বরুড়া উপজেলার তাজুল ইসলাম (৪৫) ও চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের মনু মিয়া (৬০) করোনার উপসর্গ নিয়ে কুমেকের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন।
রাঙামাটি : করোনা উপসর্গ নিয়ে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় অংসুইউ মারমা (৫৫) নামে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) এক টেকনিশিয়ানের মৃত্যু হয়েছে। অংসুইউ মারমা ওই উপজেলার ৩ নম্বর চিৎমরম ইউনিয়নের বামনি বটতলীপাড়ার বাসিন্দা ও চুয়েটে টেকনিশিয়ান (ওয়ার্কশপ) হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
খাগড়াছড়ি : করোনার উপর্সগ নিয়ে খাগড়াছড়িতে রতন মজুমদার (৫৬) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি জেলার রামগড় উপজেলার রামগড় আবাসিক এলাকায়। জেলা সিভিল র্সাজন ডা. নুপুর কান্তি দাশ জানান, তিনি বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মারা যান। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়িতে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১১ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৬৭ জন। এর আগে খাগড়াছড়িতে এক আনসার সদস্যসহ ৩ ব্যক্তি করোনায় মারা গেছেন।
ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি শৈলক‚পা উপজেলার কাচেরকোল গ্রামের বাসিন্দা। জেলা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ও শৈলক‚পা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন জানান, আনিছুর রহমান শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি নিয়ে ভুগছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। স¤প্রতি তিনি ঢাকা থেকে নিজ গ্রামে এসেছিলেন। তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ