Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ২১ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

বর্ষায় খোঁড়াখুঁড়িতে দুর্ভোগ

চট্টগ্রামে ৬টি সড়ক সংস্কার শেষ করার তোড়জোড়

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ৪ জুলাই, ২০২০, ১২:০১ এএম

চট্টগ্রামে বর্ষাও চলছে সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি। আর তাতে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। আলোচিত পোর্ট কানেকটিং (পিসি) রোডসহ নগরী গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সড়কে চলছে সংস্কার। প্রধান ছয়টি সড়কের এ বেহাল দশার প্রভাব পড়ছে পুরো নগরীতে। কাদা পানিতে যানবাহন আটকে বাড়ছে যানজট। এদিকে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এসব সড়কের সংস্কার ও সম্প্রাসরণ কাজ দ্রুত শেষ করার তোড়জোড় চলছে। বর্ষায় তড়িঘড়ি কাজ শেষ করতে গিয়ে মান বজায় রাখা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও বিমানবন্দর সড়কের কাজে অগ্রগতি হলেও পিসি রোড, বহদ্দারহাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা হয়ে কালুরঘাট সড়ক (আরাকান রোড), টাইগার পাস রোড, বায়েজিদ বোস্তামি রোড সংস্কার কাজ চলছে ধীরগতিতে। সবকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এসব সড়কে বছরের পর বছর খোঁড়াখুঁড়িতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বর্ষার আগে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা হয়নি। এছাড়া নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডেও সড়ক এবং নালা নর্দমার সংস্কার কাজ চলছে। একই সময়ে সিডিএর পানিবদ্ধতা নিরসনে মেগাপ্রকল্পের কাজও চলছে। প্রধান সড়কে চলছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজ।
বর্ষায় খোঁড়াখুঁড়িতে প্রধান সড়কের মতো অলিগলিতেও মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। কাদা পানিতে মাখামাখি সড়ক থেকে অলিগলি। এ অবস্থায় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন তার মেয়াদের শেষ সময়ে এসে কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিচ্ছেন। এ মাসেই মেয়র হিসাবে তার পাঁচ বছর পূর্ণ হচ্ছে। বন্দরনগরীর গুরুত্বপূর্ণ পিসি রোডের সম্প্রসারণ কাজ প্রায় চার বছরেও শেষ হয়নি। ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ কিলোমিটার এ সড়কের কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪০ ভাগ। আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।

সবচেয়ে নাজুক নগরীর ব্যস্ততম বহদ্দারহাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা হয়ে কালুরঘাট পর্যন্ত সড়কের। চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপ লাইন স্থাপনের জন্য সড়কের একাংশ বন্ধ রেখে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয় প্রায় দুই বছর। আরও এক বছর পর সড়কটিতে সংস্কার কাজ শুরু করে সিটি কর্পোরেশন। বর্ষার আগে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও অনেক কাজ বাকি। গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কের বেহাল দশায় লাখো মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। সড়কের দুই পাশের বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে।

পিসি রোডের বেহাল দশার মধ্যে শুরু হয় টাইগারপাস থেকে পাহাড়তলী পর্যন্ত সড়কের সংস্কার কাজ। এই সড়কের কাজও চলছে ধীরগতিতে। পিসি রোড এড়িয়ে চলা চট্টগ্রাম বন্দরমুখী ভারী যানবাহন টাইগারপাস, দেওয়ানহাট ও কদমতলী হয়ে চলাচল করছে। এতে এই সড়কেও যানবাহনের চাপ বাড়ছে। সংস্কার কাজ চলমান থাকায় পুরো সড়কে তীব্র যানজট হচ্ছে। একই দৃশ্য বায়েজিদ বোস্তামি সড়কেও। সিমেন্ট ক্রসিং থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

গত কয়েক দিনে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এসব সড়ক পরিদর্শন করে কাজের ধীরগতিতে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বছরের পর বছর কাজ ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। এতে সরকার এবং সিটি কর্পোরেশনের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। তিনি এ জন্য কিছু ঠিকাদারের গাফেলতি এবং সিন্ডিকেটকেও দায়ী করেন।
বৃহস্পতিবার মেয়র নগরভবনে ঠিকাদার ও চসিকের প্রকৌশলীদের সাথে বৈঠক করে কাজে ধীরগতি এবং নিম্নমানের কাজ যারা করবে তাদের কালো তালিকাভুক্ত এবং লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি দেন। তিনি নভেম্বরের মধ্যে পিসি রোড এবং বাকি ৫টি সড়কসহ চলমান সব উন্নয়ন কাজ ঈদুল আযহার আগেই শেষ করার নির্দেশনা দেন। চসিকের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সময়ে কাজ শেষ করা হবে। তবে কাজের গুণগত মানও নিশ্চিত করা হবে। আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, বিমানবন্দর সড়কসহ কয়েকটি সড়কের কাজ প্রায় শেষ দিকে। অন্য সড়কের কাজও দ্রুত শেষ করা হবে। নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন বলেন, করোনার কারণে কয়েক মাস কাজ বন্ধ ছিলো। এখন কাজ শুরু হলেও বৃষ্টির কারণে ব্যাহত হতে। তবে ঠিকাদারদের দ্রুত কাজ শেষ করতে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চট্টগ্রাম


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ