Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ২১ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

বাড়ছে কচু আবাদ

করোনায় চাষিদের মুখে হাসি

পঞ্চায়েত হাবিব : | প্রকাশের সময় : ৪ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

করোনার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষরা যখন দামি সবজি ক্রয় করতে পারছে না ঠিক সেই সময় দেশে বাজারগুলোতে কচু শাকের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানীর অলিগলিতেও কচু বিক্রি হচ্ছে। এবছর প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে পানি কচুর চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১০০-১২০ মণ কচু পাচ্ছেন চাষিরা। জমিতে কচুর আবাদ করে চাষিরা স্থানীয় বাজারেই দর পাচ্ছেন কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকা করে। দিন দিন কচুর লতির চাহিদা বেড়েই চলছে। এ থেকে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টন লতি উৎপাদন হবে বলে কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে। চলতি বছরে খরিপ-১ মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় এক হাজার ১৪ হেক্টর জমিতে কচুর আবাদ করা হয়েছে। দেশে কচুর বহুবিদ ব্যবহার রয়েছে। কচু শাক, কচুর ডগা, কচুর মুখি, ও লতি সবজি হিসাবে খাওয়া হয়ে থাকে। কচুতে প্রচুর পরিমাণ লৌহ ও ভিটামিন থাকে।
আগাম জাতের কচু চাষ করে ভালো দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে কুষ্টিয়ার চাষিদের মুখে। চলিত মৌসুমে বর্ষার প্রকোপ বেশি থাকায় কচুর সেচ খরচও কম হয়েছে। যেখানে দুই দিনে একবার সেচ আর প্রতি সেচেই সার দিতে হয় সেখান এ বছর খরচও কম হয়েছে। রোগ ও পোকাও তুলনামূলক কম।
বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে লতিরাজ কচু চাষ পদ্ধতি জেনে উৎপাদন বাড়িয়ে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এর আগে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হতো। এখন তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামীতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এ জন্য কৃষকদের বাড়তি সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে সরকার। যেসব জেলায় কচু আবাদ হচ্ছে সেগুলো হচ্ছে- রংপুর, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ঢাকা, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, ফরিদপুর, নড়াইল এবং যশোর। আগামী বছর দেশের অনেক জেলায় কচু শাক চাষ বৃদ্ধি পাবে বলে জানা গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি খরিপ-১ মৌসুমে জেলায় এক হাজার ১৪ হেক্টর জমিতে কচুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদরে ১৮০, খোকসায় ৪০, কুমারখালীতে ৭২, মিরপুরে ১৭০, ভেড়ামারায় ১৪৫ ও দৌলতপুরে ৪০৭ হেক্টর। গত বছরে আবাদ হয়েছিল ৭৫৯ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল ১৯ হাজার ৩২৭ মেট্রিক টন। যার হেক্টর প্রতি গড় ফলন ২৫ দশমিক ৪৬ মেট্রিক টন। এ বছর কচুর ফলন বেশ ভালো।
মিরপুর উপজেলার সদরপর ইউনিয়নের কাতলামারী এলাকার কৃষক রাজা মিয়া বলেন, এ বছর ১০ কাঠা জমিতে আগাম জাতের কচু চাষ করেছেন। খরচও তুলনামূলক কম হয়েছে। তিনি বলেন, ১০ কাঠা জমিতে কচু চাষ করেছি। এক কাঠা জমি থেকে ৫-৬ মণ করে কচু পেয়েছি। জমি থেকেই ৫৫ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি করে দিচ্ছি। প্রতিবার তো এমন দাম হয় না, এবার কচুর দাম খুবই ভালো। যদি এমন বাজার থাকে তাহলে কচুতে প্রচুর পয়সা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রঞ্জন কুমার প্রামাণিক ইনকিলাবকে বলেন, কচু চাষ খুবই লাভজনক। চাষিরা কচু চাষ করে বেশ ভালো লাভ করছেন। সেই সঙ্গে দিন দিন কচু চাষ এই অঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও পুষ্টি থাকে। মুখি কচুর পাশাপাশি লতিরাজ কচু চাষ করেও কৃষকরা কম সময়ে লাভবান হচ্ছেন। করোনায় কচু শাক খাওয়া ভাল। সে কারণে মানুষ এ শাক বেশি খাচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনা

১২ আগস্ট, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ