Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

করোনা উপসর্গে মৃত্যু ১৬

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৫ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

করোনা উপসর্গ সর্দি, জ্বর, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সারা দেশে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬, রাজশাহী ও খুলনায় ২ জন করে, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, গোপালগঞ্জ ঝালকাঠি, মাগুরা ও ফরিদপুরে একজন করে।তবে এদের কারো শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ছিল কিনা তা নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন চট্টগ্রাম আদালতের সিনিয়র আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ (৭৩)। শুক্রবার রাত ১২টায় তিনি জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর ১০দিন আগে টেস্টের জন্য নমুনা দিলেও তার ফলাফল পাওয়া যায়নি। আবুল কালাম আজাদের বাড়ি জেলার চন্দনাইশ উপজেলার জোয়ারা গ্রামে। অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৩ জুন তাকে আগ্রাবাদে মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ২৫ জুন জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। তাদের দু’জনেরই জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছিল। শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস গণমাধ্যম কর্মীদের এ জানান। করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারীরা হলেন- রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার সিপাইপাড়ার মেহের উদ্দিনের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৪৫) ও বোয়ালিয়া এলাকার আবদুল ওয়াহেদ (৫৭)। তারা দু’ জনই রামেক হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে (২৯ নম্বর ওয়ার্ড) ভর্তি ছিলেন।
এদিকে, রাজশাহী বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় আট জেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যু আরও বেড়েছে। নতুন করে ২১৬ জনের নমুনায় করোনা পাওয়া গেছে করোনাভাইরাস। এছাড়া সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন আরও ১৭ জন এবং মারা গেছেন ৭ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী।
গতকাল সকাল পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫৮৯ জনে। এ বিভাগে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৯৪ জন এবং সুস্থ্যহয়েছেন ১৭৯৬ জন। গতকাল দুপুরে এক প্রতিবেদনে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তারের পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্তের মধ্যে রাজশাহীর ৭৯ জন, নওগাঁর ২ জন, জয়পুরহাট ২২ জন, বগুড়ায় ৪৭ জন, সিরাজগঞ্জে ৬৬ জন। তবে বিভাগের অপর জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও পাবনায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন রোগি শনাক্ত হয়নি বলে তিনি জানান।
ডা. গোপেন্দ্র জানান, রাজশাহী বিভাগে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৮৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বগুড়ায় ৩ হাজার ২৪৬ জন আক্রান্ত। এছাড়াও মহানগরীতে ৭২৬ জনসহ রাজশাহী জেলায় ৯৮৯ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০১ জন, নওগাঁয় ৫৪২ জন, নাটোরে ২১৫ জন, জয়পুরহাটে ৪৫১ জন, সিরাজগঞ্জে ৫৯৭ জন ও পাবনায় ৪৪৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত বিভাগের আট জেলার মধ্যে ছয় জেলায় মৃতের সংখ্যা ৯৪ জন। এর মধ্যে রাজশাহীতে ১০ জন, নওগাঁয় সাত জন, নাটোরে এক জন, বগুড়ায় ৬০ জন, সিরাজগঞ্জে আট জন ও পাবনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে। সরকারি হিসেবে এখনো জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোনো করোনা আক্রান্ত রোগী মারা যায়নি।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন আরও ১৭ জন। এ নিয়ে বিভাগে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৭৯৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগি। এর মধ্যে রাজশাহীর ১৪৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬১ জন, নওগাঁয় ৩০৫ জন, নাটোরে ৬৬ জন, জয়পুরহাট ১৫১ জন, বগুড়ায় ৮৬০ জন, সিরাজগঞ্জ ৬৬ জন ও পাবনায় ১৪২ জন।
বরিশাল ব্যুরো জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের করোনা সংক্রমন মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির জানান দিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলায় নতুন করে আরো ১৪২ জন আক্রান্ত ও দুজনের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে এ অঞ্চলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ১৯৮ জনে উন্নীত হল। মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮’তে। গত ঘণ্টায় এ অঞ্চলে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪৮ ও দুই। মৃত নতুন দুজনের মধ্যে এক জন বরিশালের বাবুগঞ্জের নারী, অপর জন পটুয়াখালীর সদর উপজেলার। দুজনেরই বয়স ৫৫ থেকে ৫৭’র মধ্যে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণাঞ্চলে আরো ৩৩ জনসহ মোট ১ হাজার ৭৯ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল মহানগরী ও জেলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় করোনা সংক্রমন বেড়েছে দ্বিগুণ থেকে প্রায় ৬গুণ পর্যন্ত। বরিশালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত হয়েছে ৬২ জন, মৃত্যু হয়েছে একজনের। যা আগের দিন ছিল মাত্র ২৪। কোন মৃত্যু ছিল না। নতুন এ আক্রান্তদের মধ্যে মহানগরীতেই সংখ্যাটা ৫০-এর বেশি। ফলে জেলায় মোট আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৬৬৩ ও ২৫। যার সিংহভাগই বরিশাল মহানগরীতে। জেলায় নতুন ৪৪ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৪২৩ জন।
পটুয়াখালীতে গতকাল নতুন আক্রান্ত হয়েছে ৩৪ জন, মৃত্যু হয়েছে একজনের। আগের দিন আক্রান্ত ছিল ৬ জন, কোনো মৃত্যু ছিলনা। ফলে জেলায় মোট আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৪৭১ ও ২২ জনে। এ জেলায় আক্রান্তের তুলনায় মৃতের সংখ্যা বেশি। নতুন করে ১৫ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছে ১০৮ জন। বরগুনাতে আগের দিন ১ জনের মৃত্যুসহ ৮ জন আক্রান্ত হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১৭ জন। এ জেলায় গতকাল পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু ও ২৭৮ জন আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন করে ৩ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫৬ জন।
ভোলাতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১১ জন আক্রান্ত হবার খবর পাওয়া গেছে। আগের দিন সংখ্যাটা ছিল ৬ । ফলে এ দ্বীপ জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩১৯ ও চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলাটিতে নতুন করে কেউ সুস্থ না হলেও গতকাল পর্যন্ত সংখ্যাটা ছিল ১২৭।
পিরোজপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১০ জন নতুন করে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। আগেরদিন যে সংখ্যাটা ছিল দুই। ফলে জেলাটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২২৬-এ উন্নীত হয়েছে। মোট মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩ জন সহ মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ১৩৯ বলে জানা গেছে। অপরদিকে ঝালকাঠীতেও নতুনকরে আরো ৮ জনসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৪১-এ উন্নীত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৮। জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিন ছিল মাত্র দুই। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কারো সুস্থতার খবর দেয়নি স্বাস্থ্য বিভাগ।
এদিকে বরিশাল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করেনা ওয়ার্ডে শুক্রবার সকালের প‚র্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোন রোগী ভর্তি না হলেও সুস্থ হয়ে ওঠায় ৬ জনকে ছাড়পত্র দেয়ার কথা বলা হয়েছে। চিকিৎসাধীন ছিল ৪১ জন। হাসপাতালটির আইসোলেশন ওয়ার্ডে এ সময়ে নতুন করে ৭ জন ভর্তি হলেও ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬ জন। চিকিৎসাধীন ছিল আরো ৬১ জন।
গতকাল সকাল পর্যন্ত হাসপাতালটির আইসোলেশন ও করোনা ওয়ার্ডে মোট ভর্তিকৃত ৭৩৫ জনের মধ্যে ৫২৩ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। এরমধ্যে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত ২৭৪ জনের মধ্যে ২১১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ ওয়ার্ডে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। আর আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত ৪৬১ জনের মধ্যে ৩০৯ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ ওয়ার্ডে মারা গেছেন ৭১ জন। যারমধ্যে ১১ জনের রক্তের নমুনা পরিক্ষার ফল এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
বগুড়া ব্যুরো জানায়, নতুন করে আরও ৪৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বগুড়ায় করোনা রোগীর সংখ্যা ৩ হাজারের কোটা পেরিয়ে ৩ হাজার ২শ’ ৪৬জনে দাঁড়ালো। একই সাথে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪৬ জনের মৃত্যুর কারনে মৃতের সংখ্য বেড়ে দাঁড়ালো ৬০। া মোট ২শ’ ১৫টি নমুনার ফলাফল বিশ্লেষণ করে শনিবার সকালে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করেন বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন। তিনি জানান, নতুন করে ৪৭ জনের দেহে করোনা সনাক্ত হওয়ায় জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ২শ’ ৪৬ জন ।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ৩ জুলাই পর্যন্ত প‚র্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৬ জন মারা যাওয়ায় জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১৫ জন সুস্থ হয়েছেন। ফলে করোনায় সুস্থতার সংখ্যা বেড়ে ৮শ’৬৯জনে উন্নীত হয়েছে।
বগুড়া জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের মুখপাত্র ডা. তুহিন জানান, বগুড়ায় ৩জুলাই সরকারি ও বেসরকারি পিসিআর ল্যাব থেকে ২শ’১৫টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এসেছে। এর মধ্যে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করা ১শ’ ৮৮টি নমুনায় ২৭জনের পজিটিভ এসেছে। আর বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে বগুড়ার ২৭টি নমুনার মধ্যে পজিটিভ এসেছে ২০জনের।
নতুন করে আক্রান্ত ৪৭ জনের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ, ১৫ নারী এবং বাদবাকি ২ জন শিশু বলে জানান হয। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৫জনের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী রয়েছেন ১২ জন, ৫১ থেকে ৭০ বছর বয়সী রয়েছেন ৮ জন রয়েছে।
শজিমেক ও টিএমএসএসের পিসিআর ল্যাবের ফলাফলে করোনা পজিটিভ ৪৭জনের মধ্যে সদরে ৩২ জন। এছাড়া গাবতলী ৭ জন, শাজাহানপুর ৫ জন, শিবগঞ্জ, আদমদীঘি ও নন্দীগ্রামে এক জন করে নতুন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন ।
স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর থেকে জানান, চাঁদপুরে নতুন করে আরো ৩২জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে চাঁদপুর সদরে ১০ জন, ফরিদগঞ্জে ৯ জন, হাজীগঞ্জে ৪ জন, মতলব দক্ষিণে ৪ জন, শাহরাস্তিতে ২ জন এবং কচুয়ায় ৩ জন রয়েছে। চাঁদপুর জেলায় এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১০৩৫ জন। এরমধ্যে মৃতের সংখ্যা ৬২ জন। চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে দুপুরে ১২০টি রিপোর্ট আসে । এর মধ্যে ৩২টি পজেটিভ। বাকি ৮৮টি নেগেটিভ।
জেলায় ১০৩৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান হচ্ছে; চাঁদপুর সদরে ৪১৪ জন, মতলব দক্ষিণে ১১৩ জন, শাহরাস্তিতে ১০৫ জন, হাজীগঞ্জে ১০১ জন, ফরিদগঞ্জে ১১০ জন, হাইমচরে ৭৭ জন, কচুয়ায় ৪৬ জন এবং মতলব উত্তরে ৭০ জন। চাঁদপুর জেলায় করোনায় মৃত ৬২জনের মধ্যে চাঁদপুর সদরে ১৮ জন, হাজীগঞ্জে ১৬ জন, ফরিদগঞ্জে ৭ জন, কচুয়ায় ৫ জন, মতলব উত্তরে ৮ জন, শাহরাস্তিতে ৪ জন , মতলব দক্ষিণে ৩ জন এবং হাইমচরে ১ জন। এদিকে, জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আইসোলেশন ইউনিটে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার বাসিন্দা। শনিবার সকাল ৮টার পর তার মৃত্যু হয়। চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিটে করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন মতলব উত্তর উপজেলার ছোট হলুদিয়া (নাউরি)গ্রামের বাসিন্দা কেরামত আলী (৫০)। চাঁদপুর সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, করোনা উপসর্গে মৃত কেরামত আলী শুক্রবার রাত ২টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়। সকাল ৮টার পর তার মৃত্যু হয়। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে।
কুমিল্লা : কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের কভিড-১৯ ইউনিটে করোনার সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় দুই নারীসহ আরো সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ সাত জন মারা যান। তাদের মধ্যে এক জন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।
কুমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাজেদা খাতুন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে তিন জন এবং আইসিইউতে চার জন মারা যান। মৃত সাতজনের মধ্যে এক জন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। আর উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া বাকি ছয়জনের মধ্যে দু জন নারী এবং চার জন পুরুষ।
মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত ছিলেন বরুড়া উপজেলার শাহ আলম (৬২)। উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ছয় জন হলেন কুমিল্লা সদর উপজেলার আবদুল কাদের (৬০), ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আবদুল করিম (৭৫), মনোহরগঞ্জ উপজেলার জামাল উদ্দিন (৫৩), চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার বাসু দেব (৭২), একই জেলার শাহারাস্তি উপজেলার নাজমা রহমান (৫০) এবং গোপালগঞ্জ জেলার মোখশেদপুর উপজেলার লুৎফর নেছা (৬২)। আর রামেকে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দু জন হলেন রাজশাহীর রাজপাড়া এলাকার মেহের উদ্দিনের ছেলে গিয়াস উদ্দীন (৪৫) এবং বোয়ালিয়া থানার মামুন-উর-রশীদের ছেলে আব্দুল অহেদ (৫৭)। তারা দু জনই হাসপাতালের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে (করোনা ওয়ার্ড) চিকিৎসাধীন ছিলেন।
গোপালগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, গোপালগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নতুন করে আরও ২২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত হয়েছে। গোপালগঞ্জে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৭৬৫ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১৫ জন। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৩৮ জন। গোপালগঞ্জ সদর, কোটালীপাড়া মুকসুদপুর, কাশিয়ানী ও টুঙ্গিপাড়ায় মারা গেছেন ১২ জন। গতকাল সকালে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ এ তথ্য জানান।
তিনি আরো জানান, নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় গোপালগঞ্জ সদরে ৯ জন, মুকসুদপুরে ১ জন, কোটালীপাড়ায় ১ জন, কাশিয়ানীতে ৫, জন ও টুঙ্গিপাড়ায় ৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন । সিভিল সার্জন জানান, আক্রান্তদের বসতবাড়িসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর লকডাউন করা হয়েছে। সেই সাথে আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেণ্টিনে থাকার পারমর্শ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৫০৬ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে মুকসুদপুরে ১৭১ জন, কাশিয়ানীতে ১৫১ জন, গোপালগঞ্জ সদরে ২০৯ জন, টুঙ্গিপাড়ায় ১১৬ জন ও কোটালীপাড়া উপজেলায় ১১৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় করোনা উপসর্গে কাজী আলমগীর (৬৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ এনে কর্তব্যরত চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করে। টুঙ্গিপাড়া সদরের কেড়ালকোপা গ্রামের কাজী আলমগীর ৭/৮ দিন যাবত জ্বর ও শ্বাসকষ্টসহ করোনা উপসর্গে ভুগছিলেন। গতকাল সকাল পৌনে ৮ টার দিকে স্বজনা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করার কার্যক্রম শুরু করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। তার কিছুক্ষণ পরেই তিনি সেখানে মারা যান। তখন রোগীর আত্মীয় গাজী তরিকুল সহ কয়েক জন দ্বায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অপ‚র্ব বিশ্বাসকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এছাড়া তারা নার্সদের উপর তেড়ে যায়।
ঝালকাঠি জেলা সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠিতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রবের (৭২) মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের বাড়ি থেকে বরিশাল নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি এক সপ্তাহ ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তার নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ঝালকাঠি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার দুলাল সাহা জানান, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসার পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করা হয়। পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।
জয়পুরহাট জেলা সংবাদদাতা জানান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ জয়পুরহাট শাখার ব্যবস্থাপকসহ ৩৪ জন কর্মকর্তা- কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল সকাল থেকে করোনা সংক্রমণ রোধ ও গ্রাহকদের সুরক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ জয়পুরহাট শাখা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। জয়পুরহাট সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিয়া গতকাল দুপুরে এ তথ্য জানান। ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মঈন উদ্দীন জানান, নমুনা পরীক্ষার ফলাফল বিলম্বের কারণে বগুড়ার বেসরকারি টিএমএসএস মেডিক্যাল হাসপাতাল ল্যাবে তাদের ব্যাংকের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষা করে ৩৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ব্যাংকটি লকডাউন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত শাখায় লেনদেনসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রাম জেলায় করোনা কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। গতকাল একদিনে ৪৯ জন পজেটিভ রোগীর খবর দেয়ায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও এ সংখ্যা আরো বেশি। করোনা উপসর্গ নিয়ে জেলায় কম পক্ষে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মূলত সময় মত নমুনা পরীক্ষার ফলাফল হাতে না আসায় জটিলতা আরো বাড়ছে। গত ১৫ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত সংগৃহীত ৩৯৬টি নমুনার ফলাফল গতকাল কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রকাশ করে। এতে দেখা যায় ৩৪৩ জন নেগেটিভ। এরমধ্যে ৪ জন ফলোআপ রোগীরও পজেটিভ ফলাফল আসে। ফলাফল পাওয়ার তিন দিন প‚র্বে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে বিলম্বিত এ ফলাফলের কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৫ ভাগ এবং আক্রান্তের হার ৭ দশমিক ৩৪ ভাগ। আর সুস্থ্যহওয়ার হার ৪৬দশমিক ৬০ ভাগ।
সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এস এম আমিনুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ভিত্তিতে সদর হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব স্থাপন জরুরি।
কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত জেলায় তিন হাজার ১৮৪জনের স্যাম্পল সংগ্রহ হরে রংপুর পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ২হাজার ৭৭৯জনের ফলাফল পাওয়াগেছে। এর মধ্যে কোভিট-১৯ পজেটিভ হয়েছে ২০৬ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৯৬ জন। বর্তমানে হোম কোয়ারেণ্টাইনে রয়েছেন ১০৬ জন। আইসোলেশনে ২ জন। এখন পর্যন্ত ৪০৫টি নমুনার ফলাফল পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, কুষ্টিয়ায় একই পরিবারের ৮ জনসহ নতুন করে আরে ৩০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এই নিয়ে কুষ্টিয়ায় এখন পর্যন্ত ৭০৮ জন কোভিড রোগী সনাক্ত হল। কুমারখালীর পাণ্টির বাসিন্দা ৫০ বছর বয়স্ক এক জন পুরুষ রোগী গত শুক্রবার মৃত্যুবরণ করেন। আর এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১২ জনে। গত শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিস থেকে এ তথ্য জানান। কোভিড-১৯ আপডেটে জানানো হয়, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ২৬৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার ১৩৫টি নমুনা ছিল। এর মধ্যে জেলায় শুক্রবার নতুন করে ৩০ জনকে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও কুষ্টিয়া সদরের ৪টি, দৌলতপুরের ১টি, কুমারখালীর ১টি, ভেড়ামারার ১ টিসহ মোট ৭ টি নমুনার রিপোর্ট ফলোয়াপ পজেটিভ। নতুন আক্রান্তের মধ্যে দৌলতপুরে ১ জন , সদরে ২৪ জন, কুমারখালীতে ৪ জন ও ভেড়ামারায় ১ জন। আক্রান্তের মধ্যে পুরুষ ২১ জন ও মহিলা ৯ জন।
নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা জানান, নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ক্ষুদ্রচাম্পা গ্রামের ইসাহাক আলী (৬০) বছরের এক কৃষক করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার ৮ দিন পর করোনাভাইরাস রিপোর্ট পজেটিভ এসছে। এ নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও জেলায় নতুন করে আরও ১৮ জনের করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৬০ জনে আর মারা গেলেন ৭ জন।
নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মুনজুর-এ-মুর্শেদ জানান, ইসাহাক আলী করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে প্রথমে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে আইসোলেশন ওযার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন চট্টগ্রাম আদালতের সিনিয়র আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ (৭৩)। শুক্রবার রাত ১২টায় তিনি জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর ১০দিন আগে টেস্টের জন্য নমুনা দিলেও তার ফলাফল পাওয়া যায়নি। আবুল কালাম আজাদের বাড়ি জেলার চন্দনাইশ উপজেলার জোয়ারা গ্রামে। অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৩ জুন তাকে আগ্রাবাদে মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ২৫ জুন জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়।
টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলে নতুন করে মির্জাপুর থানার এক এ.এস.আই ও তার স্ত্রী এবং ধনবাড়ীতে এক আওয়ামী লীগ নেতা ৩৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় সর্বমোট আক্রান্ত হলো ৭৩০ জন। জেলায় মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৩১৮ জন। মারা গেছে মোট ১৩ জন। নমুনা সংগ্রহের রিপোর্ট পেন্ডিং রয়েছে ২২১টি। বাড়িতে ও আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩৮৩ জন। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান গতকাল সকালে এ তথ্য জানান।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আক্রান্তদের মধ্যে মির্জাপুর থানার এক এ.এস.আই ও তার স্ত্রীসহ ১০ জন, সদরে ১০ জন, সখীপুরে ২ জন, ভ‚ঞাপুরে ৭ জন, গোপালপুরে ১ জন ও ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেনসহ ৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে।
এ পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১৫০ জন, নাগরপুরে ৩৮ জন, দেলদুয়ারে ৪৩ জন, সখীপুরে ২৭ জন, মির্জাপুরে ২৪৩ জন, বাসাইলে ১৪ জন, কালিহাতীতে ৪২ জন, ঘাটাইলে ২৮ জন, মধুপুরে ৪১ জন, ভ‚ঞাপুরে ৩৭ জন, গোপালপুরে ৩৬ জন ও ধনবাড়ী উপজেলায় ৩১ জন। এ নিয়ে জেলায় সর্বমোট ৭৩০ জন আক্রান্ত হয়েছে।
এ পর্যন্ত জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১ জন, দেলদুয়ারে ১ জন, সখীপুরে ১ জন, মির্জাপুরে ৫ জন, ঘাটাইলে ২ জন, মধুপুরে ১ জন, ভ‚ঞাপুরে ১ জন ও ধনবাড়ীতে ১ জন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সদর উদ্দিন জানান, হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে সর্বমোট ২৬ জন ভর্তি হয়। ১৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মাগুরা : করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ড. এটিএম ওমর ফারুক (৫৫)। শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান বলে তার পরিবার সূত্র নিশ্চিত করেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, করোনা লক্ষণ নিয়ে গত ১ জুলাই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন। তার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হলেও এখনও ফল পাওয়া যায়নি।
খুলনা : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেকটেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনার উপসর্গ জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মর্জিনা (২২) ও খাদিজা বেগম (৫৫) নামে দুই গৃহবধ‚র মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সেকেন্দার জানান, মর্জিনা শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা গেছেন। তিনি সাতক্ষীরা জেলার আশুশুনি উপজেলার একসরাই গ্রামের মো. আলামিনের স্ত্রী। তিনি জানান, শুক্রবার রাত সোয়া ৯টায় খাদিজা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৫ মিনিট পর তার মৃত্যু হয়। তিনি নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বয়রা এলাকার জলিল হোসেনের স্ত্রী।
ফরিদপুর : ফরিদপুরে কোভিড১৯ (করোনাভাইরাস) উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন এক নারী। গতকাল শনিবার সকাল আটটার দিকে ফরিদপুর করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ওই নারী গত শুক্রবার সকালে জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৫ বছর। তিনি ফরিদপুর শহরের বাসিন্দা।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মৃত্যুর পর ওই নারীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা করার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে ওই নারী কোভিডে আক্রান্ত ছিলেন কি না।
লালপুর (নাটোর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, নাটোরের লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন অফিস সহায়কসহ মোট ৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এনিয়ে উপজেলায় ৩ জন মেডিকেল স্টাফ, এক জন শিশু, এক জন পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ মোট ৩৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ