Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ২১ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

রূপগঞ্জে শ্রমিক ছাঁটাই আতঙ্ক : চাপা কান্না

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ৫ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে অঘোষিতভাবে শ্রমিক ছাঁটাই চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ২ লাখ শ্রমিকের মাঝে চাকরি হারানোর শঙ্কা রয়েছে। ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের চাপা কান্না দেখার কেউ নেই। গত কয়েকদিনে রবিন টেক্সটাইল, অনুপম হোসিয়ারি ও পদ্মা টেক্সটাইল থেকে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। নিয়ম কানুন না মেনে অবৈধভাবে শ্রমিকদের অব্যাহতি পত্রে স্বাক্ষর বাধ্য করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন শ্রমিকরা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রূপগঞ্জের টেক্সটাইল, গার্মেন্টসহ ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৩শ’ শিল্পকারখানা রয়েছে। করোনার অজুহাতে রবিনটেক্স টেক্সটাইল কারখানা, অনুপম হোসিয়ারি, অন্তিম নিটিং অ্যান্ড ফিনিশিং ও পদ্মা টেক্সাটাইল কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েকদিনে এসব শিল্পকারখানা থেকে ৫ হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কারখানাগুলো শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে দুটি কৌশল ব্যবহার করছেন। রবিনটেক্স টেক্সাটাইল, অন্তিম নিটিং অ্যান্ড ফিনিশিং ও পদ্মা টেক্সটাইলে শ্রমিকদের নিকট থেকে বাধ্যতামূলক তিন মাসের ছুটির আবেদনে স্বাক্ষর নিয়ে বেতন ছাড়াই বিদায় করে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে অনুপম হোসিয়ারি ভিন্ন পন্থা নিয়েছে। এরা শিক্ষানবীশ শ্রমিক নিয়োগের কথা বলে শ্রমিক ছাঁটাই করছেন। এ কারখানা থেকে গত এপ্রিল মাসে ১৯৭ জন, মে মাসে ২৮ জন ও জুন মাসে ১২৪ জন শ্রমিককে অনুপস্থিত দেখানো হয়।
অনুপম হোসিয়ারীর সহকারী ম্যানেজার মো. সেন্টু তালুকদার বলেন, অনুপম হোসিয়ারিতে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কোনো ঘটনা নেই। যেসব শ্রমিক বের করে দেয়া হয়েছে তারা সবাই শিক্ষানবীশ ছিল।
ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক শ্রমিক অর্ধহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছেন। অনেকের বাসা ভাড়া বকেয়া রয়েছে। কথা হয় শ্রমিক মিনহাজ, আরিফ, আশরাফুল, নুর আলম, মোশারফ, মাসুম, মায়েজ ও মাসুদের সঙ্গে। তারা বলেন, রবিনটেক্স টেক্সটাইলের টেক্সটাইল বিভাগের ৪৫০ শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। ৩ মাসের বাধ্যতামূলক ছুটি বলে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর নিচ্ছে। তবে কোনো বেতন, ঈদ বোনাস ও শ্রম আইনে কোনো সুবিধা না দিয়েই শ্রমিকদের ছাঁটাই করছে। কাওসার মিয়া বলেন, আমাগো গরীবের পেটে লাথি দিয়া কি লাভ হেগো (মালিকপক্ষ)। ৭/৮ বছর ধইরা কাম করতাছি, অহন কয় তিন মাসের লেইগ্যা ছুটি। ফরম দিছে সই করার লেইগ্যা। না করলে ভয় দেহায়। হগলতেরে এইভাবেই সই নিছে। অহন কি করমু। রবিনটেক্স টেক্সটাইল কারখানার প্রশাসন বিভাগের সঙ্গে এসব ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হননি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শ্রমিক-ছাঁটাই
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ