Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ২১ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

একের পর এক বিস্ফোরণ ইরানের পরমাণু স্থাপনায়

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৬ জুলাই, ২০২০, ৯:৫৯ এএম

ধারাবাহিকভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে ইরানের পরমাণু ও সামরিক স্থাপনাসহ একাধিক স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে ইরানের কর্মকর্তারা এ দুর্ঘটনার জন্য সাইবার নাশকতাকে দায়ী করছেন। তারা দৃশ্যত ইসরায়েলের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

জানা গেছে, ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রের সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন ওয়ার্কশপে বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পারমাণবিক কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র।

তিনি বলেন, নাতানজে পারমাণবিক কেন্দ্রের আগুনের কারণ তারা জানতে পেরেছেন, যদিও এর বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি।

প্রসঙ্গত, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি রিয়েক্টর এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়।

ইরানের অ্যাটমিক এনার্জি অর্গানাইজেশনের মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি বলেছেন নিরাপত্তাজনিত কারণে কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন না।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

কামালভান্দি বলেন, ‘এ ঘটনা অ্যাডভান্সড সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদন ও উন্নয়নের গতিকে ধীর করতে পারে...। ইরান ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের জায়গায় আরও বড় ভবন করবে যাতে আরও আধুনিক উপকরণ সংযোজিত হবে।’

বৃহস্পতিবারের ঘটনায় পরে প্রকাশ করা একটি ছবিতে দেখা যায় ভবনটি আগুনে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত।

পরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্লেষকরা এটিকে নতুন সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন কারখানা হিসেবে শনাক্ত করেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলেছেন, তারা বিশ্বাস করেন এটি সাইবার অ্যাটাকের ঘটনা, তবে তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

ইরানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আরও কয়েকটি জায়গায় আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

পারচিন মিলিটারি কমপ্লেক্সের কাছে বিস্ফোরণের ছয় দিন পর নাতানজের আগুনের ঘটনা ঘটলো।

ইরান কর্তৃপক্ষ সেখানে গ্যাস ট্যাংক বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন স্যাটেলাইটে তোলা ছবি থেকে দেখা যাচ্ছে যে এর কাছে মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্র আছে।

পারচিন তেহরানের কাছেই একটি জায়গা। পশ্চিমা শক্তিগুলো এটিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা মনে করে।

এদিকে রবিবার কর্মকর্তারা জানায়, দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা



 

Show all comments
  • মোঃ আব্দুল জব্বার ৬ জুলাই, ২০২০, ১২:৫৫ পিএম says : 0
    ইরানের উচিৎ আরও সাবধানতা। ইরান বলছে– এটা সাইবার এ্যাটাক। আমার প্রশ্ন তাহলে জানা থাকা সত্ত্বেও ইরান কেন সাইবার এ্যাটকে প্রতিরোধের ব্যবস্হা নিচ্ছেনা । সম্পদের ক্ষতি করে ইউরিয়াম সমৃদ্ধ করার কোন যৌক্তিক কারণ থাকতে পারেনা। একের পর এক স্হাপনায় আগুল জ্বলবে আর সেটা ইসরাইলের উপর দোষ চাপিয়ে ইরানের সাধারণ জনগরকে এ সব সস্তা বুুলি শুনিয়ে লাভ কী ? আগে প্রতিরোধ। তারপর আঘাত। এক আঘাত হানতে গিয়ে যদি দশ আঘাত নিজের উপর পড়ে– তাহলে ওই আঘাতের প্রয়োজন নেই। আসলে মুসলিম বিশ্বে ইরানের কদর তখনই বাড়বে– যদি সে ইসরাইলকে একটা উচিৎ শিক্ষা দিতে পারে। ইসরাইল মানে তো বাবা আমেরিকা। আমেরিকার বিপরীতে যাওয়া কষ্টকর। তবে একেবারে অসম্ভব নয়। তবে সবচেকে বড় প্রশ্ন– ইরানের উচিৎ দুচারটি আত্মঘাতি হামলা চালিয়ে আমেরিকার মত মহা শক্তিধর রাষ্ট্রকে কাবু বা বিপদে ফেলতে পারবেনা। কারণ আমেরিকা যে সম্পদের পাহাড় গড়েছে– তার বিনাশ ঘটাতে না পারলে এদের কাউরে কিছু করা সম্ভব নয়। তবে ইরানের কাছে আমেরিকা হারবে। যদি এই কাজটা করতে পারে।(১( সৌদিকে যে ভাবেই হোক বশে আনা। (২) মুসলিম বিশ্বের শক্তিধর যে সব দেশ আছে– তাদের ম্যানেজ করা (৩) ইরানকে আর একটু গণতন্তের পথে আসতে হবে। এতে করে ইরানের দুটো লাভের মুখ দেখতে পাবে। মুসলিম বিশ্বে তার হারানো গৌরব তাদের নেত্বত্ব ফিরে পাবে । ইরান মুসলিম বিশ্মর নেতা হতে পারলে – আমেরিকা আর চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বলার সাহস দেখাতে পারবেনা। আর ইসরাইল সে তো –––––––––?
    Total Reply(1) Reply
    • elu mia ৭ জুলাই, ২০২০, ৩:৫৭ এএম says : 1
      ইরান জিবনে মুসলিম বিসশের নেতা হইতে পারবেনা।ওরা সংখ্যালঘু শিয়া।অদের নেতৃত্ব সংখ্যা গুরু সুন্নিরা কখনও মেনে নিবেনা।আর ইরান কোন কালেই মুসলিম বিসশের নেতা ছিলনা।মুসলিম বিসশের নেতা ছিল আরব রা(উমায়াদ আর আব্বাসিদ খলিফা) আর তুরকি রা (ওসমানী সম্রাজ্জ)।বরতমানে হয়ত পাকিস্থান,তুরস্ক এরা মুসলিমদের নেতৃত্ব দিতে পারে।
  • Sadikul alam ৭ জুলাই, ২০২০, ১১:৫৩ পিএম says : 0
    Finally Iran will achieve the world power....
    Total Reply(0) Reply
  • রেজওয়ান হোসাইন ৭ জুলাই, ২০২০, ৩:৫৭ পিএম says : 0
    ইরানকে এখনি পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।
    Total Reply(0) Reply
  • Abdul Rab ১২ জুলাই, ২০২০, ৮:৩৬ পিএম says : 0
    শিয়ারা হল কাফের ইহুদীরা মুসলমানদের যেমন চিরশত্রু শিয়ারাও মুসলমানদের চিরশত্রু।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইরান


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ