Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৯, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৪ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

ডিমলার ৮ বিদ্যালয় নদীগর্ভে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের পথে

প্রকাশের সময় : ৩১ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মোশাররফ হোসেন, নীলফামারী থেকে

নীলফামারীর ডিমলায় বন্যা ও বন্যা পরবর্তী ভাঙনে একটি ইউনিয়নের সবকিছুই বিলীন হয়ে গেছে তিস্তায়। বিশেষ করে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে ওই ইউনিয়নটিতে। ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন সর্বনাশী তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় গোটা ইউনিয়নের ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি উচ্চ মাধ্যমিক ও ১টি কিন্ডার গার্টেন বিদ্যালয় বন্যা ও ভাঙনের কবলে পরে ধ্বংস হয়ে গেছে। ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন না হলেও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এছাড়া ওই ইউনিয়নের রাস্তাঘাট পুল কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরখড়িবাড়ী বাবুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জিঞ্জিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেপাখড়িবাড়ী ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্বখড়িবাড়ী প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়, হায়দার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একতার বাজার কিন্ডার গার্টেন বিদ্যালয় ও ইউনিয়নটির একমাত টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়টি বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে এবং ভাঙনের কবলে পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা খাতুন জানান, বন্যায় ও ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন গত একমাস যাবত পাঠদান দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবন হয়ে পড়ছে অনিশ্চিত। জিঞ্জির পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাছেদ জানান, তার বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করে বিদ্যালয়টি কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া কিছু অংশ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় এক মাস যাবত ৩১৮ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে। চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদৎ হোসেন বলেন, তিস্তার বন্যার শুরুতেই বন্যার পানি ও ভাঙনে বিদ্যালয়ের দুটি ভবন দেবে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। গত দেড় মাস যাবত ৪৪৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে। চরখড়িবাড়ী বাবুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমার বিদ্যালয়টি বন্যার কারণে কোমড় পানিতে তলিয়ে রয়েছে এবং ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ অংশ তিস্তা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ৪৪০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় টেপাখড়িবাড়ীর ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় বন্যার কোমর পানিতে তলিয়ে ও ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়গুলির বেশিরভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যার কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না। ফলে তাদের শিক্ষা জীবন হয়ে পড়ছে ব্যাহত। এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, বন্যা ও ভাঙনের কারণে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাঁটু পানি আটকে রয়েছে। কিছু বিদ্যালয় ভাঙনের কারণে তিস্তায় বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এদিকে বন্যা ও ভাঙনের কবলে পড়ে বিভিন্ন বাঁধে আশ্রয় নেয়া ডিমলা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মানুষজনের মাঝে সরকারিভাবে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে শুকনা খাবার, চাল, ডাল, চিনি, মোম বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারিভাবে বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৫শ’ পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রতিদিন প্রয়োজনীয় ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন