Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

অবিলম্বে প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে

| প্রকাশের সময় : ৭ জুলাই, ২০২০, ১২:০১ এএম

দেড় লাখের ওপর বাংলাদেশি বিদেশে তাদের কর্মস্থলে যোগ দিতে পারছেন না ঢাকা থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক ফ্লাইট না থাকায়। ফ্লাইটের সংখ্যাই কেবল কম নয়, টিকেটের দামও আকাশ ছোঁয়া। তারা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে দেশে এসেছিলেন। এর মধ্যে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় যেতে পারেননি। নির্ধারিত সময়ে যোগদান করতে না পারলে তাদের অনেকের চাকরি হারানোর আশঙ্কা আছে। ভিসার মেয়াদ শেষ বা বাতিল হওয়ার ভয়ও আছে অনেকের। উদ্বিগ্ন ও বিচলিত এসব প্রবাসী কর্মী আশ্বস্থ হয়েছিলেন ঢাকা থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হওয়ায়। তবে ফ্লাইট সংখ্যা এত কম যে চাহিদার সামান্যও পূরণ হচ্ছে না। টিকিটের দাম অস্বভাবিক। কয়েক গুণ বেশি দাম দিয়েও টিকিট মিলছে না। পত্রিকান্তরে জনৈক প্রবাসী কর্মী জানিয়েছেন, ইকোনমি ক্লাসে টিকিট না পাওয়ায় তিনি কাতার এয়ারওয়েজের বিজনেস ক্লাসে টিকিট কাটতে বাধ্য হয়েছেন। এ জন্য তাকে ব্যয় করতে হয়েছে ৫ লাখ ২ হাজার টাকা। এ টিকিটের দাম দেড় লাখ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। লন্ডনে কর্মরত এই কর্মী উল্লেখ করেছেন, এছাড়া তার উপায় ছিল না। ঠিক সময়ে পৌঁছতে না পারলে হয়তো তার চাকরি হারাতে হতো। অপর একজন কর্মী ইটালিতে কর্মরত। তিনি এমিরেটসে টিকিট কেটেছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা দিয়ে। স্বাভাবিক দামের চেয়ে যা তিনগুণ বেশি। এয়ারলাইনসের কর্মকর্তা ও ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনা মহামারীর আগে ইউরোপের যে কোনো গন্তব্যে যেতে ইকোনমি ক্লাসের টিকিটের দাম ছিল ৪৪ হাজার টাকা। এখন তা ২ লাখে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় যেতে এখন টিকিটের দাম পড়ছে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা যা আগের চেয়ে চারগুণ বেশি। এরপরও প্রবাসীজনেরা টিকিটের জন্য হাহাকার করে মরছে; কিন্তু পাচ্ছে না। ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জানিয়েছে, মানুষ টিকিট চাইছে; আমরা সম্পূর্ণ নিরূপায়।
যতদূর জানা গেছে, দেড় লাখের ওপর প্রবাসী কর্মীর মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজারের কর্মস্থল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। ২৫ হাজারের কর্মস্থল ইউরোপের দেশগুলোতে। ৫ হাজার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়। আর অস্ট্রেলিয়ায় ১ হাজার। এসব প্রবাসী কর্মী নিজেদের সম্পূর্ণ বিপন্ন দেখছেন। তাদের কর্মস্থলে ফেরার ব্যাপারে সহায়তা করার যেন কেউ নেই। সরকার বিষয়টি আমালে নিচ্ছে না। সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ তেমন গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন বোধ করছে না। বলার অপেক্ষা রাখে না, বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা নগণ্য। এখন ১ কোটির ওপর বাংলাদেশি বিদেশে কর্মরত। তাদের পাঠানো অর্থ আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সুতরাং কোনোভাবেই তারা উপেক্ষিত ও অবহেলিত থাকতে পারেন না। তাদের ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব অবশ্যই রাষ্ট্রের। এমনিতেই করোনাকারণে হাজার হাজার প্রবাসী চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে আসছেন। নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও অতি ক্ষীণ। এই সময়ে যাদের চাকরি আছে, তাদের সে চাকরি যাতে টিকে থাকে, সেটা দেখা খুব জরুরি কাজ। এটা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বাঁচামরার প্রশ্ন বটে। এবং রাষ্ট্র তাদের সহযোগিতা দেয়ার দায় এড়াতে পারে না। দুঃখজনক হলেও আমরা দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই লক্ষ করছি। প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট যখন চালু করা হয়েছে তখন তার সংখ্যা এত কম কেন? আমরা জেনেছি, বিমান, কাতার, এমিরেটস, তার্কিশ ও এয়ার অ্যারাবিয়া এয়ার লাইন্স ঢাকা থেকে ফ্লাইট অপরেট করার সুযোগ পেলেও। এদের ফ্লাইট সংখ্যা আগের চেয়ে কমিয়ে দেয়া হয়েছে বিমানবন্দরে ভীড় এড়ানোর জন্য। অন্যান্য এয়ার লাইন্সও ফ্লাইট চালু করার অনুমোদন চেয়েছে। একই কারণে সেটা এখনো বিবেচনায় নেয়া হয়নি। বিমান এখন কেবল সপ্তাহে ঢাকা-লন্ডন রুটে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। কাতার ও এমিরেটস করছে ৩টি করে ফ্লাইট। এয়ার অ্যারাবিয়া দুটি ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনা করছে ঢাকা-শারজাহ রুটে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল যেখানে উন্মুক্তই করা হয়েছে সেখানে কম সংখ্যক ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্তটি কেন? এ ব্যাপারে যে অজুহাত দেখানো হয়েছে তা ধোপে টেকে না। আমরা মনে করি, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অবশ্যই ফ্লাইট সংখ্যা আরো বাড়ানো সম্ভব, এমন কি অন্যান্য এয়ার লাইন্সেরও সুযোগ দেয়া সম্ভব। তাহলে বিদেশে কর্মরত কর্মীদের যাতায়াত মসৃণ হতে পারে। সাধারণ যাত্রীদেরও সুবিধা হতে পারে। উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রবাসী কর্মীরা, বিমান চার্টার করে যেমন দেশে আসছেন তেমনি দেশ থেকেও কেউ কেউ বিমান চার্টার করে বিদেশে যাচ্ছেন প্রয়োজনে। বিমান চলাচল যতটা সম্ভব স্বাভাবিক করা গেলে এর প্রয়োজন হতো না। অন্যদিকে টিকেটের দামও এত বাড়তো না।
করোনাকালে যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মেনে এয়ার লাইন্সগুলোর ফ্লাইট পরিচালনার বাধ্যবাধকতা আছে সুতরাং টিকিটের দাম কিছু বাড়তেই পারে এবং সেই বাড়তি দাম দিতে যাত্রীদের আপত্তি নেই। কিন্তু তা আগের চেয়ে কয়েকগুণ হতে পারে না। কথা উঠতে পারে, এই বাড়তি অর্থ আদায়ের জন্যই কি ফ্লাইট সংখ্যা কমানো হয়েছে, যাতে টিকিটের সংকট দেখা দেয় এবং যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ গুণে সেই টিকিট কেনেন? বাস্তবতা একথার সত্যতাই উচ্চকিত করছে। এর পেছনে কোনো দুষ্টচক্রের সক্রিয় থাকা অস্বাভাবিক নয়। সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কার্গো গোডাউন থেকে আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ মাস্ক চুরির ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়েছে। সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের করা তদন্ত কমিটি চুরির বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে এবং চোরদের তালিকা পেশ করেছে। তদন্ত কমিটি তার প্রতিবেদনে বলেছে, বিমান ও ঢাকা কাস্টমস হাউসের একটি সিন্ডিকেট এ চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ, আলোচ্য বিষয়েও তদন্ত করা এবং এক্ষেত্রে কোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় কিনা তা খুঁজে দেখা। পরিশেষে আমরা স্পষ্টত বলতে চাই, প্রবাসী কর্মীরা যাতে অবিলম্বে তাদের কর্মস্থলে ফিরতে পারে, তার জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর টিকেটের দাম যাতে যথেচ্ছ না হয়, ন্যায়সঙ্গত হয়, তার ব্যবস্থাও করতে হবে। প্রবাসী কর্মীরা তাদের অবদানের বিবেচনায় এটুকু অন্তত আশা করতেই পারে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কর্মস্থল

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন